সর্বশেষ আপডেট : ১৪ মিনিট ৪৩ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ভারতীয় নোট বাতিলে চাতলাপুর শুল্ক স্টেশনে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

moulvibazar-chatlapur-checকমলগঞ্জ সংবাদদাতা::
সম্প্রতি ভারত সরকার ভারতীয় ৫০০ ও ১০০০ হাজার টাকার কাগুজে নোট বাতিল করায় প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের সাথে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমেও। নোট বাতিলে ভারতে বাংলাদেশি টাকার এবং মার্কিন ডলারের মানও কমে যাওয়া ভারতের উত্তর ত্রিপুরা অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা চাহিদাকৃত বাংলাদেশি পণ্য নিতে এলসি করতে পারছেন না। এলসি করতে না পারায় মৌলভীবাজারের চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনের বাংলাদেশ ও ভারতের ব্যবসায়ীরা ব্যাংকের মাধ্যমে টিটি ও এলসি করতে পারছেন না বলে এ শুল্ক স্টেশনে গত ১২ দিন ধরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। গতকাল শনিবার দুপুরে সরেজমিন চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, এখানে নেই পণ্যবাহী কোনো পরিবহণের লাইন। শুল্ক স্টেশনের শ্রমিকরা অলস বসে সময় পার করছেন। দুই সপ্তাহ আগেও এখানে প্রাণ  আরএফএল সামগ্রী, বাংলাদেশি বিভিন্ন কোম্পানির সিমেন্টবাহী ট্রাক, মাছবাহী কার্গোসহ বাংলাদেশি পণ্যবাহী গাড়ির দীর্ঘ লাইন থাকত। এখন চার দিনে একবার সামান্য পণ্য যাচ্ছে ভারতের ত্রিপুরার কৈলাশহরে।

চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনের ভারতীয় অংশে অবস্থানরত ভারতীয় আমদানি-রপ্তানিকারক আব্দুল মুহিত মিটন, গৌরা অধিকারী, ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ভারতীয় নোট বাতিলে ব্যাংক থেকে কোনো টাকা উত্তোলন করতে পারছেনা না বলে এলসি ও টিটিও করতে পারছেন না। ব্যাংকে এক লাখ টাকার চাহিদা দিলে ব্যাংক মাত্র দুই হাজার টাকা দিতে চায়। ফলে এলসির মাধ্যমে বাংলাদেশে কোনো পণ্যের চাহিদাও দিতে পারছেন না।

বাংলাদেশ অংশে চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশন এলাকায় অবস্থানরত বাংলাদেশি ব্যবসায়ী সাইফুর রহমান রিমন, ইমরান আহমেদ ও সোহেল আহমদ বলেন, আগে ভারতে বাংলাদেশি ১ শত টাকার নোটের বিনিময়ে ভারতীয় ৮২ টাকা পাওয়া যেত। গত দুই সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশি ১ শত টাকার বিনিময়ে ৭০ টাকা পাওয়া যায়। মার্কিন ডলারেরও মান কমে গেছে। এর ফলে বাংলাদেশ থেকে কোনো সামগ্রী রপ্তানি করতে পারছেন না। এমনকি ভারত থেকে সাতকরা, ভাঙা কাচ, কলাসহ পণ্য আমদানিও করতে পারছেন না।

বাংলাদেশি ব্যবসায়ী সাইফুর রহমান রিমন বলেন, আগে প্রতিদিন কোনো না কোনো কোম্পানির ৪ থেকে ৫ ট্রাক পণ্য এই পথে ভারত রপ্তানি হতো। এখন চারদিনে একবার হচ্ছে মাত্র। তিনি আরও বলেন, ভারতে মাছ রপ্তানির একটি চালানপত্র নিয়ে তিনি চাতলাপুর শুল্ক স্টেশন এলাকা এসেছিলেন। তবে টাকার অভাবে ভারতীয় ব্যবসায়ী চালানপত্র গ্রহণ করেনি বলে তিনি তা ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছেন।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরস্থ চাতলাপুর স্থল শুল্ক স্টেশনের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান ভারতীয় দুটি নোট বাতিলে এই পথে আমদানি রপ্তার উপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ১০/১২ আগেও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে তারার সীমান্তে শুল্ক স্টেশন এলাকায় ব্যস্ত থাকতেন। নোট বাতিলে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের টিটি ও এলসি দিতে পারছে না বলে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: