সর্বশেষ আপডেট : ৯ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ফাঁদ পেতে ধরা হয় মদ্যপদের…!!!

1-daily-sylhet-0-7হাসান মো. শামীম:: বাংলাদেশ মুসলিম অধ্যুষিত দেশ হওয়ায় মদ পানের ব্যাপারে যেমন আছে ব্যাপক আইনি বিধিনিষেধ তেমনি আছে সামাজিক প্রতিবন্ধকতা । ভদ্রতার চৌকাঠ মাড়িয়ে তাই সুরা পানের জন্য নিতে হয় ভিন্ন ব্যবস্থা । লোক সমাজের অগোচরেই করতে হয় এই নিষিদ্ধ কান্ড। দেশের অন্যান্য অঞ্ছলের তুলনায় সিলেটের অধিবাসীরা মদ পানের ব্যাপারে আরো বেশি রক্ষনশীল । হাতেগোনা কয়েকজনেরই আছে মদ পানের লাইসেন্স । দেশীয় আইনে যেখানে লাইসেন্সধারীদের মদ পানের ব্যাপারে আছে ব্যাপক কড়াকড়ি সেখানে সিলেট পর্যটন মোটেল বারে অবাধেই সরবরাহ করা হচ্ছে তা। অপ্রাপ্ত বয়স্কদের মদ পান আসক্তির বদৌলতে বার ওয়ালাদের সাথে জমজমাট বানিজ্যে নেমেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।

পর্যটন এলাকাবাসীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে এমন তথ্য। তারা অভিযোগ করে বলেন, বারে ঢুকার সময় পুলিশ ধারে কাছে না থাকলেও বের হওয়ার সময় ঠিকই হাজির হয়ে যায়। পরে গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে আদায় করা হয় টাকা। এদের মধ্যে বেশির ভাগ ভিকটিমই হয় অপ্রাপ্ত বয়স্ক, সুনির্দিষ্ট ইনফরমারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অনেক টা ফাঁদ পেতেই ধরা হয় তাদের।

এ ব্যাপারে এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ মো.মোশারফ হোসেন ডেইলী সিলেটকে বলেন, ‘আমার জানামতে এই বারের সরকারি লাইসেন্স আছে। তবে এই লাইসেন্স অনুযায়ী তারা সব নিয়ম কানুন পালন করছে কিনা তা দেখার দায়িত্ব মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের ।তবে অপ্রাপ্ত বয়স্করা এখানে এসে মাতলামি করলে আমরা তাদের ধরি। তাদের কাছ থেকে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন এরকম কোণ ঘটনা আমার জানা নেই। তবে টহল পুলিশ এরকম কিছু করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে ।’

জানা গেছে, সারা দেশে লাইসেন্সধারী মদের বারের সংখ্যা ১৩৯ । তার মধ্যে ঢাকায় রয়েছে ৫২টি। মদপানকারীরা সেখানে গিয়ে নির্বিঘ্নে মদ পান করে থাকেন। সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বাধা দেয় না। তবে যাদের মদ পানের পারমিট রয়েছে তারা শুধু বার নয়, দেশের যে কোনো স্থান থেকে মদ ক্রয় করে পান করতে পারেন।

মদ খাওয়ার লাইসেন্সের ব্যাপারটা একটু অবাক শুনালেও সত্যি। তিন বছর পর ওই পারমিট নবায়ন করতে হয়। ৩০ বছরের উপরে যাদের বয়স সাধারণত তাদেরই পারমিট দেয়া হয়। তবে ৩০ এর নিচে কোনো তরুণ মদের পারমিটের আবেদন করলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর তার বাবা ও মায়ের ক্লিয়ারেন্স চান। বাবা ও মা যদি ওই ক্লিয়ারেন্স দেন তবে ওই আবেদন মঞ্জুর করা হয়। ৩০ এর নিচে যারা আবেদন করে থাকেন তারা সকলেই উচ্চবিত্তের সন্তান।

কিন্তু সিলেটে উচ্চবিত্তরা মদ পানের জন্য বেছে নিয়েছেন কিছু ভিন্ন স্থান । দাম একটু বেশি হওয়ায় যেখানে সবাই যেতে পারেন না যেমন স্টেশন ক্লাব,সিলেট ক্লাব, রোজ ভিউয়ের মত জায়গা। মদের সহজপ্রাপ্য তা ও কম দামের কারনে পর্যটন মোটেল বারে তাই মধ্যবিত্ত দেরই আনাগোনা বেশি। কলেজ পড়ুয়া অনেক তরুন এখানে সদলবলে আসেন মদ পান করতে । এদের মধ্যে যাদের বয়সে একটু কম মনে হয় তাদের ব্যাপারে এয়ারপোর্ট থানার পুলিশকে তথ্য দেয় পর্যটন মোড়ে বসে থাকা পুলিশের ইনফরমার। এরপর পুলিশ এসে তাদের গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে হেনস্তা করে। এটা যে শুধু মদ পান করতে আসাদের সাথে করা হয় তাও নয় । পর্যটনে আগত কপোত কপোতিদের ও ফাঁসানো হয় পুলিশের জালে । পর্যটন পার্কে আসার ব্যাপারে অভিভাবক এর অনুমতি আছে কিনা জানতে চাওয়া হয় আগত দের কাছে। সন্তোষজনক জবাব না পেলে থানায় নিয়ে যাও্য়ার ভয় দেখালেই , প্রায় সবাই টাকা দেয়ার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চালান। এরপর ঘুষের মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয় অকারনে অভিযুক্ত ছেলে মেয়েদের । মদ পান করতে আসা তরুনরা তো পড়েন আরো বেকায়দায়। মাতাল অবস্থায় পুলিশ ধরলে টাকা না দিয়ে পুলিশের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার কোন উপায়ই থাকেনা তাদের। এভাবেই চলছে পুলিশ ও স্থানীয় দালাল চক্রের ঘুষ বানিজ্য ।
·
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বিভিন্ন ব্যক্তির আবেদন বিবেচনায় নিয়ে মদ পানের পারমিট দিয়ে থাকে। কোনো ব্যক্তি এ ধরনের পারমিট চেয়ে আবেদন করলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নিজস্ব লোকবল দিয়ে ওই ব্যক্তির আর্থিক ও সামাজিক অবস্থানের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে। তথ্য সন্তোষজনক মনে হলে পারমিট দেয়া হয়। তবে পারমিট দেয়ার পরও পর্যবেক্ষণে রাখা হয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে। যদি কারও বিরুদ্ধে অবৈধ মাদকসহ মদের ব্যবসা বা আমদানির অভিযোগ আসে তাহলে তার পারমিট বাতিল করা হয়। দেশে বর্তমানে মদের পারমিট রয়েছে ১৪২২৩ জনের। তারমধ্যে রাজধানী ঢাকায় রয়েছে ৮১০০ জনের। পারমিট পাওয়া নারীর সংখ্যা ৭২৩ জন। জেলা শহরের চাইতে বিভাগীয় শহরগুলোতে কোমল পানীয় মদ পানকারী বেশি। কোনো কোনো জেলায় দেখা গেছে, ৫০ জনেরও নিচে মদ পানকারীর পারমিট রয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে সারা দেশের প্রায় ২০০০ হাজারের মতো ব্যক্তি মদ পান করার জন্য পারমিট চেয়েছেন। তাদের ওই আবেদন খতিয়ে দেখছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। সচরাচর উচ্চ ও মধ্যবিত্ত ছাড়া মদের পারমিট দেওয়া হয় না। তবে বর্তমানে মধ্যবিত্ত লোকদের পারমিট দেয়ার ব্যাপারে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। মদের পারমিট নিয়ে কেউ কেউ অবৈধভাবে ব্যবসা গড়ে তোলে। কেউ কেউ পাচারের সঙ্গে যুক্ত হয়। এজন্য আবেদনকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে গভীর তদন্ত করে পারমিট দেয়া হয়।

সূত্র জানায়, মদের পারমিটের আবেদনকারীর আয়ের উৎস, আয়কর সংক্রান্ত কাগজ, পুলিশের ক্লিয়ারেন্স ও জন্ম নিবন্ধন কপি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে জমা দিতে হয়। পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ওই ব্যক্তি মদের পারমিট পাওয়ার যোগ্য কিনা তা যাচাই-বাছাই করার জন্য মাঠ পর্যায়ে তদন্ত শুরু করে। মদের পারমিট নেয়ার আবেদন উচ্চবিত্ত লোকজনই বেশি করে থাকে। ঢাকায় এর সংখ্যা বেশি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র থেকে জানা গেছে, অনেকেই মদের পারমিট আর নতুনভাবে নবায়ন করে না। একবার পারমিট নিয়েই তারা বছরের পর বছর কাটিয়ে দেয়।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: