সর্বশেষ আপডেট : ৯ মিনিট ১৩ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৭ ফাল্গুন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বিশ্বনাথে তির খেলা জমজমাট : নীরব পুলিশ

juyaবিশ্বনাথ সংবাদদাতা ::
বিশ্বনাথের মুফতিরবাজারে চলছে ভারতীয় তির খেলার নামে জমজমাট জুয়ার আসর। এর ফলে বিপথগামী হচ্ছে এলাকার তরুণ ও যুবকরা। দীর্ঘদিন দিন ধরে এই জুয়ার আসর চলে আসলেও নীরব ভূমিকায় রয়েছে প্রশাসন। এলাকার সচেতন মহল মনে করছেন যদি দ্রুত এই জুয়ার আসর বন্ধ করা না হয় তাহলে এলাকার তরুণ যুবকরা যেমন অসামাজিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়বে, তেমনি এলাকায় চুরি-ডাকাতি বৃদ্ধি পাবে।
২০ থেকে ২৫ বছর পূর্বে ভারতীয় ধনকুবেরা এ রকম খেলা আবিষ্কার করেন। এর নাম রাখা হয় মেঘালয়ের আঞ্চলিক ভাষায় তির খেলা। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ে অনুষ্ঠিত তির খেলায় অংশ হিসেবে বিশ্বনাথ উপজেলার মুফতির বাজারে বসেই জুয়ায় বাজি ধরা হয়। বাজারে দোকানঘর ভাড়া নিয়ে এদেশীয় এজেন্টরা (সরকারদলীয় লোক) ভারতের জুয়ার আসরের সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের সমন্বয় করেন। বিশ্বনাথে স্থানীয়ভাবে খেলাটিকে বলা হয় টুকা খেলা, নাম্বার খেলা, বোটকা খেলা, ভাগ্য পরীক্ষা খেলা, ডিজিটাল নাম্বর খেলা। রিকশাচালক, অটোরিকশাচালক ও বেকার যুবকরা এই তির খেলায় অংশ নিচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে এই খেলা চললেও এদের বিরুদ্ধে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, খেলা আয়োজকদের মাধ্যমে থানাপুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের হাতে বখরা পৌঁছে দেয়া হয়।
সূত্র জানায়, এদেশের এজেন্টদের মাধ্যমে ১-১০০ পর্যন্ত নাম্বার বিক্রয় করা হয় যে-কোনো মূল্যে। যত মূল্যে বিক্রয় হবে তার ৭০ গুণ লাভ দেয়া হবে বিজয়ী নম্বরকে। অর্থাৎ, ১ টাকায় ৭০ টাকা। একই নম্বর একাধিক লোকও কিনতে পারেন। সবাই কেনা দামের চেয়ে ৭০ গুণ বেশি টাকা পাবেন। চরকির মতো একটি চাকা ঘুরে এবং এই চাকা লক্ষ করে তির ছোড়া হয়। যে নম্বরে তির লাগে, সেই নম্বর বিজয়ী।
এই তির খেলা সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলে। সপ্তাহে ৬দিন খেলাটি পরিচালিত হয়। অন্ধ বিশ্বাসের উপর এ খেলা চলে। খেলাটি ভারতের রাষ্ট্রীয় ছুটির দিনসহ প্রতি রোববার ছাড়া বাকি সকল দিবসে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিদিন বিকাল বেলা ভারতের শিলংয়ে মোবাইলফোনের মাধ্যেমে খোঁজ নেন কোনো সংখ্যার লটারি লেগেছে। তারপর তা মূহূর্তের মধ্যই ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। আর যারা তির খেলার সংখ্যা কিনেন, তখনই তারা জানতে পারেন, কে লটারি জিতেছেন। এ ক্ষেত্রে হঠাৎ কোনোদিন কেউ লটারি জিতলে তার লোভে পড়ে আরো আসক্ত হড়ে পড়েন এই খেলার প্রতি।
বাজারের হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলোতে আগে যেখানে মানুষ চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে দেশের রাজনৈতিক ও সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করতেন, কিন্তু এখন আলোচনার মূল বিষয় হচ্ছে তির খেলা। কে কত টাকার তিরের সংখ্যা কিনলেন এবং কে কত টাকা পেলেন। বিশেষ করে যুবসমাজের এই খেলার সাথে সম্পৃক্ততা বেশি। সাধারণ শ্রমিকদের অনেকেই এই খেলার সাথে সম্পৃক্ত হয়ে কাজকর্মের প্রতি মনোনিবেশ হারিয়ে ফেলেছেন। সারা দিন শুধু তির খেলায় ব্যস্ত থাকেন। এর কারণে দিন দিন তাদের পারিবারিক অস্বচ্ছলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যখন পকেটে টাকা না থাকে তখন অনেকেই তাদের ঘরের আসবাবপত্র বিক্রি করে এই তির খেলার সংখ্যা ঘর কেনেন। আবার কেউ-কেউ চুরি মতো অপরাধমূলক কাজ করতে দ্বিধাবোধ করেন না। ফলে এলাকাবাসী অনেকটাই আতঙ্কগ্রস্ত। এ অবস্থা চলতে থাকলে এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড বৃদ্ধি পাবে। যেভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে তিরের নাম্বার বিক্রি করা হয়, তাতে অভিভাবক মহল তাদের সন্তানদের নিয়ে চিন্তিত ও উদ্বিগ্ন।
এ ব্যাপারে খাজাঞ্চী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তালুকদার গিয়াস উদ্দিন বলেন, উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় আমার পরিষদের সদস্য ফজলুল হক তির খেলার বিষয়টি অবহিত করেছেন। শুধু তির খেলাই নয়; এলাকায় জুয়াসহ সকল অসামাজিক কর্মকান্ড বন্ধ করতে হবে। দ্রুত এই জুয়ার আসর (তির খেলা) বন্ধ করতে তিনি প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান।
বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম পিপিএম সাংবাদিকদের বলেন, শুধু তির খেলাই নয়, যে-কোনো ধরনের জুয়া অপরাধ কর্মকান্ড বন্ধ করতে আমরা যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। প্রশাসন এ ব্যাপারে সার্বক্ষণিকভাবে তৎপর রয়েছে। তির খেলার সাথে সম্পৃক্ত কাউকে পেলে আইনি আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।
বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল হক বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: