সর্বশেষ আপডেট : ৪৯ মিনিট ৫১ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মেঘের রাজ্য সাজেকভ্যালি

sajek-velly_travelnewsbdনিলয় মামুন ::
আকাশের মেঘগুলো যেন উড়ে উড়ে এসে বসেছে পাহাড়ের কোলে। পাহাড়ের উপরে শুধুই সাদা মেঘের সমাবেশ। দেখে মনে হবে মেঘ তৈরির কারখানা। তৈরি হওয়া মেঘগুলো পাহাড়ের সৌন্দর্য দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ‘দার্জিলিং’ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশের ভ্রমণ পিপাসুদের স্বপ্নের রাজ্য ‘সাজেকভ্যালি’।

সাজেক রাঙ্গামাটি জেলার সর্ববৃহৎ ইউনিয়ন। খাগড়াছড়ি থেকে ৬৯ কিমি এবং বাঘাইছড়ি উপজেলা থেকে ৩০ কিমি দুরের পুরোটাই পাহাড়ে মোড়ানো পথ। রাস্তাগুলো এত বেশি আঁকাবাঁকা আর উঁচুনিচু যেকোন দুর্বল চিত্তের মানুষ বা শিশুরা ওখানে গেলে ভয় পাওয়াই স্বাভাবিক।

যাদের গাড়িতে উঁচুনিচু রাস্তায় চড়ার অভ্যাস আছে শুধুমাত্র তারাই দুর্ঘটনা থেকে রেহাই পেতে পারেন। নয়তো নতুন কোন চালক বা ঢাকা থেকে নিজস্ব গাড়ি নিয়ে ওখানে গেলেই ঘটবে বিপত্তি। কয়েকদিন পর পর এ রাস্তায় ঘটে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। সাজেকে পৌঁছানোর পরে আপনি কিনতে পারেন পাহাড়ে ওঠার কিছু লাঠি যা আপনাকে পাহাড়ে উঠতে সাহায্য করবে। যত উপরে উঠতে থাকবেন তত নিচে তাকলেই ভয়ে আঁতকে উঠবেন। পাহাড়ে উঠার পথে সাইনবোর্ডে লেখা আছে, কোনো বৃদ্ধ বা শিশুর উপরে ওঠার সতর্কতাসমূহ।

তবে আপনি যত উপরে উঠবেন নিচে তাকালে তত ভয় পাবেন। পাশাপাশি উপরে তাকালে মুগ্ধ হবেন। কারণ সেখানে মেঘের খেলা দেখে আপনি পাবেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অন্যরকম স্বাদ। এ উঁচু পথ বেয়ে পাহাড়ের একেবারে উপরে উঠলে দেখতে পাবেন, পাহাড়ি পরিবারের বসবাস।

রুইলুই পাড়া সাজেক উপত্যকার মূল কেন্দ্র। যেখানে লুসাই, পাংখোয়া, ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর বসবাস। তাদের বানানো সুন্দর সুন্দর বাড়িগুলোর রং লাল- সবুজ। আবার কিছু দোকান ও পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থাও রয়েছে সেখানে। তবে ব্যতিক্রম হলো, বেশির ভাগ দোকান পরিচালনায় রয়েছেন নারী। আর কিছু মানুষকে দেখা যাবে কাজ করতি, তারাও নারী।

1473843661পাহাড়ীদের মধ্যে নারীরাই পুরুষের চেয়ে সংসার পরিচালনায় এগিয়ে। তারা মনে করেন, পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সব কাজে সমান অংশ নিতে পারে।

পাহাড়ের মধ্যে ঘর বানানোর জন্য বাঁশের বেড়া বানাচ্ছিলেন মাতাই ত্রিপুরা। তিনি বলেন, “আমরা সব সময় এমন কাজ করে থাকি। এমনকি পাহাড়ে জুম চাষেও আমরা পুরুষদের সহযোগীতা করি।” এদের মধ্যে যারা শিক্ষিত নারী তারাও এসব কাজে পুরুষদের সহযোগীতা করে। এবং পারিবারিক কাজে সমানে অংশ নেয়।

পাহাড়ে উপরে দোকানে কিছু নারীকে ডাব বিক্রি করতে দেখা যাবে। যদি আপনি পানি না নিয়ে পাহাড়ে উঠেন তাহলে এ ডাব দিয়ে তৃষ্ণা মিটিয়ে নিতে পারবেন। এখানে বসবাসকারীরা সোলার বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। পাহাড়ের শেষ চূড়ায় উঠে নিচে তাকলে, যেকারো পাহাড়ের উঁচু থেকে মেঘে লাফ দিতে ইচ্ছে হবে। এ কারণেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সাজেক পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

sajekveliiiপর্যটনবান্ধব সাজেক প্রতিষ্ঠায় সেনাবাহিনীর রয়েছে ব্যাপক ভূমিকা। কারণ আপনি যখন গাড়িতে করে সেখানে যাবেন, তখন দেখতে পাবেন আপানার নিরাপত্তার জন্য একটু পথ চলার পর পর সেনা বাহিনীর ক্যাম্প। তারা বিভিন্ন সময় গাড়ির যাত্রী ও মানুষের নিরাপত্তার জন্য সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাসী করবে। তাদের কারনেই পাহাড়ী আর বাঙালিদের একসঙ্গে পার্বত্য জেলায় বসবাস ও পর্যটকদের সেখানে স্বাচ্ছন্দে আসা যাওয়া সম্ভব হচ্ছে।

কিভাবে যাবেন ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি:
বাসে করে ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি যেতে হবে। নন- এসি বাস ৫২০ টাকা (শ্যামলী, শান্তি পরিবহন, ঈগল, ইকোনো, এস আলম ইত্যাদি), এসি বাস ৮০০ টাকা (একমাত্র সেন্টমার্টিন পরিবহন)। ঢাকা থেকে বাস ছাড়ে সকালে ও রাতে এবং খাগড়াছড়ি থেকে বাস ছাড়ে সকালে ও রাতে (৯.০০ টায়)। ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি যেতে সময় লাগবে রাতে ৭/৮ ঘণ্টা এবং দিনে ৮/১০ ঘণ্টা।

22222কিভাবে যাবেন খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক:
খাগড়াছড়ি শহড়ের শাপলা মোড় থেকে চাদের গাড়ী/ সিএনজি রিজার্ভ করে সাজেক যাওয়া যাবে। সময় লাগবে সবমিলিয়ে তিন ঘণ্টা। চান্দের গাড়ীর ভাড়া ৫০০০/৬০০০ টাকা (দরদাম করতে হবে), সিএনজি ভাড়া ৩০০০/৪০০০ টাকা (সিএনজিতে না যাওয়াই ভাল কারণ প্রকৃতি ভালভাবে দেখা যাবে না)। যাওয়ার পথের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে হলে চান্দের গাড়ীর ছাদে বসে যেতে হবে। সেইক্ষেত্রে সাবধানে ধরে বসতে হবে। একটি চান্দের গাড়ীতে অনায়াসে ১৪ জন যেতে পারবেন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: