সর্বশেষ আপডেট : ৪০ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

লাউয়াছড়া ও মাগুড়ছড়া থেকে খাসিয়াদের স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত

khasiya20131124042556কমলগঞ্জ সংবাদদাতা ::
মৌলভীবাজার কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়ার ন্যাশনাল পার্কের লাউয়াছড়া ও মাগুরছড়ায় বসবাসকারী খাসিয়া পুঞ্জির লোকজনকে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খাসিয়া পুঞ্জিতে অবস্থানকারীদের বনের মধ্যের কোর জোন থেকে সরিয়ে বাফার জোনে নেওয়ার বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ সূত্র। বাফার জোনে স্থানান্তর করার বিষয়ে সমীক্ষার কাজও শুরু হয়েছে। জায়গা দেখা শেষ হলেই খাসিয়া পুঞ্জির সদস্যদের সাথে আলোচনা ক্রমে স্থানান্তরের কাজ শুরু হবে।

খাসিয়া পুঞ্জি স্থানান্তরে প্রাথমিকভাবে বাফার জোন কালাছড়া ও চাউতলির বিষয়ে সক্রিয় বিবেচনা করা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই প্রধানমন্ত্রীর দফতরে প্রস্তাব পাঠানো হবে। সিলেটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মিহির কুমার দে জানিয়েছেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) কবীর বিন আনোয়ার। ওই বৈঠকে লাউয়াছড়ার বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কোর জোনে থাকা লাউয়াছড়া ও মাগুরছড়া পুঞ্জি স্থানান্তরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই বৈঠকে বলা হয়েছে, পুনর্বাসনে যা অর্থের প্রয়োজন, সব দেওয়া হবে। তিনি আরো জানান, অক্টোবর মাসে লাউয়াছড়ায় অনুষ্ঠিত সিএমসির বৈঠকে ও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৩ সালে ভিলেজার হিসেবে ৬৩ টি পরিবারকে জমি লিজ দেওয়া হয়। সেই সময়ে ৪০টি পরিবারকে ৮ নম্বর কম্পাটমেন্টে আর ২৩টি পরিবারকে ২ নম্বর কম্পাটমেন্টে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। প্রত্যেক পরিবারকে আড়াই একর করে আর ২ পুঞ্জির ২ হেডম্যানকে সাড়ে ৪ একর করে জমি লিজ দেওয়া হয়। যা দিয়ে তাদের জীবিকানির্বাহ করার কথা ছিল। বন বিভাগের হিসেব অনুসারে মাত্র ১৬১ দশমিক ৫ একর জমি লিজ দেওয়া হয় খাসিয়াদের। কিন্তু খাসিয়ারা ঠিক কতটুকু জায়গা দখল করে রেখেছেন তার হিসেবে নেই খোদ বন বিভাগের কাছেও। অন্যদিকে খাসিয়াদের প্রদত্ত জমির লিজ প্রতি বছর নবায়ন করার কথা। যথারীতি ১৯৯০ সাল পর্যন্ত নবায়ন করা হয়েছে। কিন্তু এরপর থেকে আর নবায়নের অনুমোদন দেয়নি বন বিভাগ।

লাউয়াছড়া পুঞ্জির মন্ত্রী পিটিশন জিডিশন প্রধান সুচিয়াং বলেন, আমরা আদিকাল থেকে এখানে অবস্থান করে আসছি। এই বন সৃষ্টির পেছনে আমাদের অবদান অনেক বেশি। পুঞ্জি স্থানান্তরের বিষয়ে আমরা এখনও কিছু জানি না। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত হলে অবশ্যই আপত্তি থাকবে আমাদের। আমরা আশা করব, সরকার অবশ্যই আমাদের দিকটাও বিবেচনা করবে।

উল্লেখ্য, খাসিয়ারা লাউয়াছড়া ও মাগুড়ছড়া বনে পান চাষ করেন। সাম্প্রতিক সময়ে পান চাষের পরিধি বৃদ্ধি সহ নির্বিচারে বনের মধ্যের গাছের ডালপালাসহ ঝোঁপ-জঙ্গল পরিষ্কার করার কারণে বন্যপ্রাণীর জীবন বিপন্ন সহ প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্ট করছেন বলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: