সর্বশেষ আপডেট : ৭ মিনিট ৪ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ নির্বাচন : প্রচারনায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা

1-daily-sylhet-0-7মৌলভীবাজার সংবাদদাতা:: মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারনায় ব্যাস্ত সময় কাটাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। প্রচারনায় এগিয়ে রয়েছেন তিন দলের চার নেতা। পাশাপাশি সরব হয়ে উঠেছে মৌলভীবাজারের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। কিন্তু প্রচারণায় পিছিয়ে নেই বিএনপি ও জাতীয় পার্টি। রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের পাশাপাশি এ দুটি দলের জনপ্রিয় প্রার্থীর নাম। শহরে নানা রঙের ডিজিটাল ব্যানার, ফেস্টুন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জানান দিচ্ছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পাটির্র সম্ভাব্য প্রার্থীরা ।

জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন সাবেক বিট্রিশ কাউন্সিলার ও বিট্রিশ আওয়ামীলীরের সহ সভাপতি ও মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য এম এ রহিম (সি আই পি)। তিনি ছাড়াও জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, মৌলভীবাজার-১ আসনের জাপা মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী, কাতার- বাংলাদেশ চেম্বারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আহমেদ রিয়াজ এবং সাবেক এমপি ও ঠিকানা গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএম শাহীন এর নাম সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে। আর সদস্য পদে প্রচারনায় এগিয়ে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরষ্কার প্রাপ্ত সাংবাদিক বিকুল চক্রবর্তী।

012জেলা পরিষদ কোন ভাবেই হাত ছাড়া করতে রাজি নয় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ। তাই মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থী দিয়ে ট্রা¤েপর মতো চমক দেখাতে চায় দলটি। সে লক্ষ নিয়ে কাজ করছেন দলটির নীতি নির্দারকরা। জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীদের যোগ্য প্রার্থীর তালিকায় এগিয়ে রয়েছেন সাবেক বিট্রিশ কাউন্সিলার ও বিট্রিশ আওয়ামীলীরের সহ সভাপতি ও মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য এম এ রহিম (সি আই পি)। জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারামুক্তি আন্দোলনের অন্যতম অগ্রসৈনিক বিশিষ্ট শিক্ষা অনুরাগী এম এ রহিম (সি আই পি)। শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে এম এ রহিম (সি আই পি) নিজ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করেছেন আলহাজ্ব মো: মখলিছুর রহমান ডিগ্রী কলেজ। বিনা টাকায় কলেজে লেখা পড়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। ছাত্র-ছাত্রীদের কলেজে যাতায়াতের জন্য দিয়েছেন দু’টি বাস। সবই করেছেন নিজ অর্থায়নে। কর্মসংস্থানের লক্ষে প্রতিষ্ঠা করেছেন বিভিন্ন সমাজ সেবা মূলক প্রতিষ্ঠান। তবে তৃণমূলের নেতাদের ধারনা, মৌলভীবাজার জেলাকে পর্যটন নগরী হিসাবে গড়ে তুলতে হলে জেলা পরিষদ নির্বাচনে এম এ রহিম এর বিকল্প কেউ নেই। তাই নিজ নির্বাচনী এলাকায় আলোচিত এবং জনপ্রিয় এই নেতা সাধারণ মানুষের কাছে। জনপ্রিয়তা রয়েছে সর্ব মহলে। তাই প্রচারনায় এগিয়ে রয়েছেন এই নেতা।

ক্ষমতাসীন দলের জনপ্রিয় নেতা এমএ রহিম (সি আই পি) বলেন, স্বাধীনতা-উত্তর সময়ে দেশ ও দলের জন্য অনেক ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলন করেছি। সে সময় মৌলভীবাজারের প্রতিটি স্কুলে ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করি। ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তোলার কারণে কারাবরণ করতে হয়েছে। ৭ মে ২০০৭ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হয়ে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে আগমন করলে ১৮ দিন কারাবরণ করতে হয়। তিনি মৌলভীবাজারকে আগামী দিনে আধুনিক ও পর্যটন জেলা হিসেবে গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এছাড়াও ২০০৭ সালের জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারামুক্তি আন্দোলনে অগ্রসৈনিক হিসাবে কাজ করেন এম এ রহিম।

এদিকে মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, মৌলভীবাজার-১ আসনের জাপা মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী, কাতার- বাংলাদেশ চেম্বারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আহমেদ রিয়াজ। বিগত মৌলভীবাজার- ৩ আসনের উপনির্বাচনে জাপার সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসাবে তিনি সারাটি জেলায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন। আহমেদ রিয়াজ ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনে জাপার ৪০ জন সেলেকটেড এমপির তালিকায়ভুক্ত ছিলেন। নির্বাচনও করেছিলেন তিনি। সিলেট বিভাগের চারটি জেলার মধ্যে তিনটি জেলায় জাপার ৪ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন। শুধু মাত্র মৌলভীবাজার জেলায় জাপার কোনো সংসদ সদস্য না থাকায় আহমেদ রিয়াজ মনে করেন নতুন এই আইনে নির্বাচনে অংশ নেয়া দরকার। তাছাড়া জাপা নির্বাচনমূখী দল। পার্টির চেয়ারম্যান যদি আমাকে নির্দেশ দেন আর পার্টি যদি নির্বাচনে যায় তবে আমি এই চ্যালেজিং নির্বাচন করতে প্রস্তুত। যে কারণে নিজ নির্বাচনী এলাকায় আলোচিত এবং জনপ্রিয় এই নেতা সাধারণ মানুষের কাছে। জনপ্রিয়তা রয়েছে সর্ব মহলে। তাই প্রচারনায় এগিয়ে রয়েছেন এই নেতা। আগর আতরের রাজধানী খ্যাত বড়লেখার সুজানগরের আহমেদ রিয়াজ আরো বলেন, সংসদের অনুপাতিক হারে জেলা পরিষদ নির্বাচনে মৌলভী বাজার জেলার এই পদটি জাপার জন্য খুবই প্রয়োজন চতাছাড়া ইলেকট্রোরাল কলেজ পদ্ধতির এই নির্বাচনে আমি ট্রাম্পের মতো চমক দেখাতে চাই।

বিএনপিসহ অন্য দলের নেতারা প্রার্থীতার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত না নিলেও মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হচ্ছেন বিএনপি নেতা সাবেক এমপি ও ঠিকানা গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএম শাহীন। গেল কয়েকদিন ধরে এমন গুঞ্জন ছড়াচ্ছে তার নিজ নির্বাচনী এলাকা (কুলাউড়া-কমলগঞ্জ আংশিক) সহ পুরো জেলায়।

জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, মৌলভীবাজারের ৭টি উপজেলার ৬৭টি ইউনিয়ন, ৫টি পৌরসভা ও ৭টি উপজেলা মিলে ৯৪৩ জন নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্য (ভোটার) রয়েছেন। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান একজন, ১৫ জন সদস্য ও সংরক্ষিত আসনের পাঁচজন নারী সদস্য নিয়ে জেলা পরিষদ গঠন হবে। সব মিলিয়ে ২১টি পদের জন্য এখন পর্যন্ত এ জেলায় প্রায় অর্ধশতাধিক প্রার্থী মাঠে প্রচারণা চালাচ্ছেন। সীমানা ও নির্বাচকমন্ডলীর সদস্য নির্ধারণের পর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্য (পুরুষ ও মহিলা) পদে প্রার্থীরা মাঠে নামছেন। সময় যত বাড়ছে ততই বাড়ছে প্রার্থীদের সংখ্যা। দলীয় প্রতীকে এই নির্বাচন না হলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী ওইসব পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে ধারণা স্থানীয় নির্বাচন বিশ্লেষকদের।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: