সর্বশেষ আপডেট : ৭ মিনিট ৩৮ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জগন্নাথপুরে কোচিং এর নামে চলছে রমরমা ব্যবসা, হতদরিদ্র শিক্ষার্থী বিপাকে

1-daily-sylhet-0-7ওয়াহিদুর রহমান ওয়াহিদ,জগন্নাথপুর:: সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলায় দীর্ঘ দিন যাবত ইসাকপুর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়সহ উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরন ও কোচিং ফি’র নামে রমরমা ব্যবসা চলছে। এবং শিক্ষা প্রতিষ্টানগুলো এসএসসি পরিক্ষার নির্বাচনী পরিক্ষায় অকৃতকার্যদের নিয়ে তৈরী করেছে নতুন নিয়ম। এ নিয়মের মধ্যে রয়েছে নির্বাচনী পরিক্ষায় অকৃতকার্যদের জামানত হিসেবে পরক্ষিায় অংশ গ্রহনের ক্ষেত্রে এক বিষয়ে ২ হাজার টাকা,দুই বিষয়ে ৪ হাজার টাকা,তিন বিষয়ে ৮ হাজার টাকা এবং চার বিষয়ে ১৬ হাজার টাকা গুনতে হয় পরিক্ষার্থীদের। যদি এসব টাকা দিতে কেউ অপারগতা প্রকাশ করে তার ভাগ্যে পরিক্ষায় অংশগ্রহন সম্ভবকর হয়ে উঠেনি। তাই ছেলে-মেয়েদের লেখা-পড়া নিয়ে বিপাকে রয়েছেন প্রায় হাজারো হতদরিদ্র পরিবারের অভিভাবকরা। বিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ । এনিয়ে প্রায় সময়ই অভিভাবক এবং শিক্ষা প্রতিষ্টানের কতৃপক্ষের সাথে চলে বাকবিতন্ডা।

মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানাযায়- কেন্দ্র এবং বোর্ড ফি মিলিয়ে এসএসসির ফরম পূরণে বিজ্ঞান বিভাগে ২০০০ টাকা এবং মানবিক ও ব্যবসা বিভাগে ১৯০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জানাযায়- সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে জগন্নাথপুর উপজেলার পৌর এলাকার ইসাকপুর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় এবারের মাধ্যমিক পরিক্ষার ফি আদায়ের ক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ডের কোন নিয়মনীতি মানতে নারাজ। বিদ্যালয় কতৃপক্ষ তাঁদের ইচ্ছামতো ফি আদায় করে যাচ্ছেন। তারা শিক্ষা বোর্ডের নিয়মনীতিকে তোয়াক্ষা না করে এবারের এসএসসি পরিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিজ্ঞান শাখায় ৫৭২০ টাকা এবং মানবিক শাখায় ৫৬৩০ টাকা আদায় করা হয়েছে। যার মধ্যে বিদ্যালয় কতৃপক্ষ বোর্ড ফি বাবত প্রায় ১৯শত টাকা,উন্নয়ন বাবত ৫৭০ টাকা এবং বিজ্ঞান শাখায় কোচিং ফি প্রায় ৩২শত ও মানবিক শাখায় প্রায় ৩১শত টাকা আদায় করা হয়েছে। এই অতিরিক্ত ফি আদায় নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহল হিমশিম খাচ্ছেন এবং চাপের মধ্যে রয়েছেন। যদিও বিত্তশালী পরিবারের শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত টাকা দিয়ে ইতোমধ্যে ফরম পূরণের কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু দিন মজুর,গরীব পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য অসম্ভব হলেও ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার স্বার্থে হতদরিদ্র অভিভাবকরা ধার-দেনা করে বিদ্যালয় কতৃক নির্ধারিত ফি দিতে হয়েছে। এবং অতিরিক্ত ফি’র টাকা না দিতে পারায় পরিক্ষা থেকে বঞ্চিত হতে হয়েছে ৪ শিক্ষার্থীকে।

এসময় অভিযোগ করে ইসাকপুর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের এবারের এসএসসি পরিক্ষার্থীদের মধ্যে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পরিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন- আমাদের স্যাররা টাকা ছাড়া কিছু বুঝেন না। তাঁদের কাছে টাকাই বড়। আমাদরে সহপাঠি জাহিদ খাঁন পরিক্ষায় অংশগ্রহন করতে বিদ্যালয় কতৃপক্ষের কাছে জামানত,কোচিং ও বোর্ড ফিসহ ২১,০০০(একুশ হাজার) টাকা দিয়ে পরিক্ষায় অংশগ্রহনের জন্য ফরম পূরণ করে। এবং আমাদের সহপাঠি মিলি,রুকসানা,ঝুমি,শাহানা এবং নাজমা টাকার জন্য পরিক্ষা দিতে পারছেনা। তারা কষ্ট করে বোর্ডের নির্ধারিত ফি’র টাকা যোগার করলেও স্যারেরা তাঁদের নির্ধারিত কোচিং ফি ও জামানত ছাড়া বোর্ড ফি’র টাকা গ্রহন করছেন না। তাদেরকে তাদের মৌলিক অধিকার শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আমরা চাই তাদেরকে নিয়ে পরিক্ষায় অংশগ্রহন করতে। তাই বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,শিক্ষামন্ত্রীর কাছে ইসাকপুর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের অনিয়ম ও দূনীতি
রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছি।
এব্যাপারের ইসাকপুর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর জহুর বলেন- বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে কোচিং ফি নির্ধারিত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভাল ফলাফলের জন্য বিদ্যালয় থেকে কোচিং’এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে আমরা বিনা বেতনে পাঠদান করে আসছি। আনিত অভিযোগের ব্যাপারে আমার জানা নেই।

জগন্নাথপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ.কে.এম মখলেছুর রহমান বলেন, কেন্দ্র ও বোর্ড ফি ছাড়া অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নাই। আর কোচিং এর নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিলে তাঁদের বিরোদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। ২০১২ সালে বাংলাদেশ সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী কোচিং বন্ধ করা হয়েছে। এ ধরনের কোন অভিযোগও আমাদের কাছে নেই। তবে জেএসসি ও জেডিসি পরিক্ষা শেষ হলে আমি এসব বিষয় খতিয়ে দেখব এবং প্রমাণ মিললে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: