সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আওয়ামী লীগ মানে স্বাধীনতা এবং উন্নয়ন

14575296872-696x387মোঃ কায়ছার আলী:: ‘Rome did not build in a day’ একদিনে কোন দল, দেশ, জাতি, রাষ্ট্র গঠিত বা বিকশিত হয় না। আওয়ামী লীগ ও ধীরে ধীরে আজ শুধু দেশেই নয় দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় একটি প্রাচীন, বৃহৎ এবং আধুনিক সংগঠন হিসেবে বিকশিত হয়েছে। বিগত বিংশ শতাব্দীর শেষ এবং একবিংশ শতাব্দীর শুরুকে একসূত্রে বেঁধে রেখেছে আওয়ামী লীগ। শত নির্যাতন, নিষ্ঠুর অত্যাচার, সামরিক শাসন, ভয়াবহ দল ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র করে ও বিরোধিরা শেষ পর্যন্ত হালে পানি পায়নি। ৭০-৮০ কি.মি গতিতে চলন্ত গাড়িকে যেভাবে গতি চেক, আঁকাবাঁকা মোড় থামিয়ে রাখতে পারে না ঠিক সেভাবে বিভিন্ন চড়াই উতরাই পার হয়ে ভিশন-২০২১ কে সামনে রেখে দীর্ঘ ৬৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগ চলছে তো চলছেই। সময়ের কারণে নেতৃত্বের পরিবর্তন হলেও অতীত ইতিহাস বক্ষে ধারণ করে আধুনিক তথ্য ও প্রযুক্তির ছোঁয়ায় দল ও দেশ আজ পরিচালিত হচ্ছে। প্রবীণ ও নবীনের নেতৃত্ব একাকার হয়ে নৌকার বৈঠা ও পাল ধরেছে। রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ একটি চেতনার নাম, একটি বিপ্লব, একটি বিশ্বাস, একটি প্লাটফর্ম (কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের মত)। যেখানে ২৪ ঘন্টা যাত্রীর কোলাহল লেগে থাকে। যাত্রীর যাওয়া এবং আসায় প্লাটফর্মের কখনও ঘাটতি বা কমতি হয় না। বিগত ৬৭ বছরে এদেশের জনগণকে মহান স্বাধীনতা এনে দিয়ে আজ বিশ্বের বিশ সম্পদশালী দেশের একটি হবে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ তথা নৌকার কান্ডারীরা দিবা-রাত্রী কাজ করে যাচ্ছেন। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দেশের ঐতিহ্যবাহী দল হিসেবে আওয়ামী লীগই এই উপমহাদেশে অপেক্ষাকৃত অনেক কাজ ভালভাবেই করতে পেরেছে। পরশপাথর তুল্য এ দলে যারা এসেছেন তাদের ভাগ্য খুলে গেছে আর যারা বেইমানি করে দলছুট হয়েছেন তারা ধ্বংস হয়ে গেছেন। বিশাল বটগাছ কখনও কি মনে রাখে তার দু’চারটি পাতা কোথায় গেল? গণতন্ত্র ও একনায়কতন্ত্র উভয় প্রকার শাসনব্যবস্থাতেই রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ এটা জনমত গঠনের প্রধান হাতিয়ার। বিভিন্ন দেশে, বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন কারণে দলের উৎপত্তি হয়। কোন দেশেই সকল ব্যক্তি সকল বিষয়ে একই রূপ বা মনোভাব বা মত পোষন করেন না। ১৯৪৭ সালের পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর মুসলিম লীগে কোন সুনির্দিষ্ট আর্থ-সামাজিক কর্মসূচি না থাকায় দেশ পরিচালনায় তারা ব্যর্থ হয়। পাকিস্তানি শাসকদের বিভিন্ন প্রকার বৈষ্যমের প্রতিবাদে ১৯৪৯ সালে মার্চে করাচি নগরীতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী তার পুরনো কর্মীদের সমাবেশে স্বতন্ত্র একটি রাজনৈতিক দল গঠন করবেন বলে ঘোষনা দেন। এসময় আসাম মুসলীম লীগের সভাপতি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী দলত্যাগ করে ঢাকায় আসেন। পরে ঢাকায় রোজ গার্ডেন অনুষ্ঠিত এক রাজনৈতিক কর্মী সম্মেলনে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকে সভাপতি ও টাঙ্গাইলের শামসুল হককে সাধারণ সম্পাদক এবং কারাগারে অন্তরীণ অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেষ মুজিবুর রহমানকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করে আওয়ামী মুসলীম লীগ এর জন্ম হয়। যা আওয়ামী লীগের মাতৃ সংগঠন। পাকিস্তানি শাসকচক্র এবং মুসলিম লীগ নতুন দলটির পতি জন্মলগ্ন থেকে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। তারা সোহরাওয়ার্দী ও ভাসানীকে ভারতীয় চর বলে প্রচার চালান। চল্লিশ সদস্যের ওয়ার্কিং কমিটি দলকে দ্রুত একটি শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত করতে থাকেন। পরবর্তীতে সময়ের প্রয়োজনে ও বাস্তবতার বিচারে সম্মেলনের মাধ্যমে ১৯৫৩ সালে ভাসানী সভাপতি এবং বঙ্গবন্ধু সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫৫ সালে কাউন্সিল অধিবেশনে ‘মুসলীম’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘আওয়ামী লীগ’ একটি অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৬৬ সালের ১৮ই মার্চ কাউন্সিল অধিবেশনে ৬ দফা গৃহীত এবং বঙ্গবন্ধুকে সভাপতি ও তাজউদ্দীন আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। ৬৭ বছরে আওয়ামী লীগে অনেক সভাপতি নির্বাচিত হলেও আমার দৃষ্টিতে চারজন সভাপতি অনন্য ও অসাধারণ। ভাসানী, সোহরাওয়ার্দী, বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। ১৯৮১ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারী ক্ষতবিক্ষত বহুধাবিভক্ত দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে দলের কাউন্সিলে সর্বসম্মতভাবে শেষ হাসিনাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ঐ বছরের ১৭ই মে প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে আসার পরেও তাঁকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। অবশেষে ১২ই জুন দীর্ঘ ছয় বছর পর তাঁর কাছে ঐ বাড়িটি হস্তান্তর করা হয়। ছেপে ছেপে রক্তের দাগ। বঙ্গবন্ধু পরিবারের স্মৃতিবিজড়িত অসংখ্য চিহ্নগুলো আজও জাতির বিবেককে নাড়া দেয়। সেই কান্তিহীন পথচলা, শক্ত করে পাল ধরার কাজ করছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। পিতা দিয়েছেন স্বাধীনতা, কন্যা দিচ্ছেন উন্নয়ন। গত ২২ ও ২৩ শে অক্টোবর আওয়ামী লীগের ২০ তম সম্মেলন রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের মানুষ নানারকম স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। এ সম্মেলনের স্লোগান ছিল শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ “উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছি দুর্বার। এখন সময় বাংলাদেশের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার”। এই স্লোগানের প্রতিটি শব্দই আজ বাস্তব এবং সত্য। দল এবং দেশকে তিনি নিয়ে গেছেন অনেক উচ্চ শিখরে। এর জন্য বঙ্গবন্ধু কন্যার নাম ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এবারের ২০ তম অনিন্দ্যসুন্দর সম্মেলনের মত এত আলোকসজ্জা ইতোপূর্বে দেশবাসী দেখেনি। আওয়ামী লীগের নেতা এবং কর্মীরা সম্মেলনকে ঘিরে ছিল উজ্জীবিত। ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়ে যায় সমগ্র রাজধানী। আলোর ঝলকানিতে অপরূপ রূপে সাজে রাতের ঢাকার চিরচেনা দৃশ্য যেন কয়েকদিন ধরে পাল্টে যায়। মধ্যরাতে ও ছিল মানুষের ঢল। লাল, নীল, মরিচ বাতি, এল.ই.ডি লাইটে নৌকা, বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যত কান্ডারি সজীব ওয়াজেদ জয় এর রঙিন প্রতিকৃতিতে মহানগরীর এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত সাজানো হয়। প্রথম দিনের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১৫০ ফুট দীর্ঘ, ৮৪ ফুট প্রস্থ এবং ৪২ ফুট উচ্চতায় নৌকার মত দেখতে বিশাল আকৃতির মঞ্চ দেখামাত্রই যেন হৃদয় ও চোখ জুড়ে যেত। সাথে ছিল প্রায় ৫০ হাজার লোকের (অতিথি, ডেলিগেট, কাউন্সিলার, পর্যবেক্ষক) আসন ব্যবস্থা। দ্বিতীয় দিনের মত প্রস্তুত ছিল ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউট। সম্মেলন উপলক্ষে আগত প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ১৯ শে অক্টোবর রাজধানীর এক অনুষ্ঠানে বলেন, “আইসিটি খাতে দেশ এখন রোল মডেল”। কাউন্সিলারগণ তাঁকে দলের দায়িত্ব প্রদান করতে চাইলে তিনি বলেন “বিদেশ থেকে দায়িত্ব পালন করা যায় না।” সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে শেখ হাসিনাকে অষ্টম বারের মত সভাপতি এবং সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি ওবায়দুল কাদেরকে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত করা হয়। গত সরকারের মেয়াদের শেষ সময়ে বিরোধীদলের টানা দীর্ঘ হরতাল ও অবরোধ সত্ত্বেও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নশীল দেশ আজ কোথায় পৌঁছেছে তা পাঠকের উদ্দ্যেশে তুলে ধরতে চাই। হাতিরঝিল, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, লুই কানের নকশা মোতাবেক নতুন সচিবালয় নির্মাণ, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বিস্ময়কর মুদ্রা রিজার্ভ অর্থাৎ ৩১.৩২ মিলিয়ন ডলার, প্রবৃদ্ধির হার দীর্ঘ ৭ বছরে ৬ থকে ৭.১১ শতাংশে, অষ্টম জাতীয় পে স্কেল, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ, বঙ্গবন্ধু হত্যা ও যুদ্ধাপরাধীর বিচার কার্যকর, বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি, স্থল সীমান্ত চুক্তি, তথ্য ও প্রযুক্তিতে মহাবিপ্লব, মধ্যম আয়ের দেশ, যুগল স্ট্রিটে বাংলাদেশ দারিদ্র্যের হার ৪১.৫ শতাংশ থেকে কমে ২২.৫ শতাংশে, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, MDG অর্জন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, মাথাপিছু আয় ১৪৬৬ ডলার, বিশ্বের অষ্টম সুখী দেশে উন্নীতকরণ, দেশে বিদেশে প্রায় দেড় কোটি লোকের কর্মসংস্থান, বাংলা নববর্ষে উৎসবভাতা, আশ্রয়ন প্রকল্প, একটি বাটি একটি খামার, দুস্থ, বিধবা, বয়স্ক ও মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, শিক্ষার হার ৭১%, উৎপাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ প্রায় ১৫ হাজার মেগাওয়াট। সম্প্রতি চীনের প্রেসিডেন্ট সফরকালে প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ডলার ঋণচুক্তির সমঝোতা স্মারক সাক্ষরিত এবং বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্টের আগমনে স্বেচ্ছায় ২ মিলিয়ন ডলার ঋণ চুক্তির প্রতিশ্রুতি দেন। পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে, “অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে বির্শ্বের পাঁচটি দেশের মধ্যে একটি বাংলাদেশ”। শুধু দেশেই উন্নতি হচ্ছে তা নয় বরং বঙ্গবন্ধুর পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে ভারত-চীন এবং যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার মত পরস্পর চারটি প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সাথে বর্তমান সরকারের সুসম্পর্ক রয়েছে। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, We are a small country. We want friendship with all and malice towards none’’ দল এবং দেশের জন্য পরিশ্রম করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ব সংস্থা, আন্তর্জাতিক সংগঠনের দেয়া ডিগ্রিী, পদক ও সম্মাননা অনেক পেয়েছেন। বিশ্বের শীর্ষ ১০০ চিন্তবাদের তালিকায় তাঁর অবস্তায় ১৩ তম এবং বর্তমানে জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ে প্যানেলেও তাঁর নাম রয়েছে। পরিশেষে আমার নেতা খালিদ মাহমুদ চৌধুরী (এমপি) এবারের সম্মেলনে তৃতীয় বারের মত পুনরায় সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ায় অভিনন্দনের পাশাপাশি আগামী সম্মেলনে তাঁর আরও সাফল্য কামনা করছি। কাউন্সিল উপলক্ষে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত আর্টিকেল ‘স্থিতিশীল দেশে এবারের উদযাপনী আয়োজন’ লেখার জন্য তাকে ধন্যবাদ। যাদের ত্যাগ ও মহিমায় (জীবিত ও প্রয়াত) দল এবং দেশ আজ উন্নতির শিখরে তাঁদের প্রতি বিন¤্র শ্রদ্ধা জানিয়ে বলতে চাই ‘তোমাদের এই ঋণ কোন দিন শোধ হবে না’।

লেখকঃ সহকারী প্রধান শিক্ষক, ফরক্কাবাদ এন.আই স্কুল এন্ড কলেজ, বিরল, দিনাজপুর।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: