সর্বশেষ আপডেট : ৪৩ মিনিট ১৫ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

এক গলিকে দু’গলিতে রুপান্তরিত, দু’শতাধিক অবৈধ দোকানকোটা

1-daily-sylhet-0-3হাবিবুর রহমান,জামালগঞ্জ:: সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে সুরমা নদীর নৌ-রুটকে কাজে লাগিয়ে স্বাধীনতার পুর্ব থেকেই গড়ে উঠে জেলার আরেক অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক কেন্দ্র সাচনা বাজার। শুধু জামালগঞ্জ নয় এর আশে পাশের কয়েকটি উপজেলা হাওরঘেষা হওয়ায় দিনে দিনে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটে সাচনা বাজারে। এক সময় সাচনা বাজার পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকলেও কালের পরিক্রয়ায় সেই সাচনা বাজার এখন হাজারো মানুষের দূর্ভোগ আর দূর্গতির হাট হিসাবে খ্যাতি পেয়েছে। আর এ দূর্ভোগ ও দূর্গতির কারন হিসাবে দেখা দিয়েছে গত দেড় যুগেরও বেশী সময় ধরে বাজারের মেইন রোডে গড়ে উঠা দু’শতাধিকের উপর ভাসমান দু’সারির দোকানকোটা।’

অভিযোগ রয়েছে কয়েক শ্রেণীর প্রভাবশালী চক্র ওই সকল দোকানকোটার পজিশন ধরিয়ে দিয়ে হকারদের নিকট থেকে আগাম হিসাবে প্রতিটি দোকানের বিপরীতে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা নেয়ার পাশাপাশী ভাড়া হিসাবে প্রতিমাসে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করে যাচ্ছে।বাজারের গলিতে ভাসমান ক্ষদে ব্যবসায়ীদেরকে ১/১১ এর সময় এক গলিকে বিভক্ত করে দু’গলিতে রুপান্তরিত হওয়া ওইসব দোকান কোটা উচ্ছেদ করা হলেও পরবর্তীতে দখলদার চক্র সেই আগের অবস্থানেই রয়ে গেছেন। ওইসব দোকানকোটার উচ্ছেদ ঠেকানোর দলে থাকা সুবিধাভোগীরা বছরের পর বছর ধরে প্রশাসনের সাথে সাপ-লুডু খেলা চালিয়ে যাচ্ছে।unnamed-5

সম্প্রতি সরজমিনে সাচনা বাজার গেলে ভোক্তভোগী সাধারন লোকজন, স্কুল কলেজে যাতায়াতকারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বাজারের ব্যবসায়ীরা এ প্রতিবেদকের নিকট তাদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরতে গিয়ে ওই সব তথ্য প্রদান করেছেন।
সরজমিনে জেলার এ বৃহৎ হাট ঘুরে দেখা যায়,জেলা সদর থেকে চারচাকার যানবাহননের প্রবেশ দ্বার সিএনডিবি রোডের মুখ থেকেই সরু গলির দু’পাশের দোকানকোটা মধ্যবাজার হয়ে দক্ষিণে লঞ্চঘাট পর্যন্ত এক গলিকে দু’গলিতে ভাগ করে মাঝখানে বসানো হয়েছে, চা-পান , জুতা, কাপড়, মনোহারি, ফল- মুল , শাক- সবজি, সহ প্রায় দু’শতাধিক অস্থায়ী দোকানকোটা । ওইসব দোকানকোটার কারনে গলির সরু রোড দিয়ে সিএনজি, লাইটেস, প্রাইভেট কার, রিক্সা, মোটর সাইকেল প্রবেশ করতেই পারেনা। সেই সাথে বাজারের ভেতর থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ তো দুরের কথা সাধারন পথচারীরা, নারী , পুরুষ, স্কুল- কলেজে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীরাও চলাচল করতে গিয়ে গায়ে গায়ে ধাক্কা সামলাতে গিয়ে অনেক সময় বিপাকে পড়ে যান।
সাচনা বাজারের সার ডিলার আলাল মিয়া বলেন, পণ্যবাহী ট্রাক, যানবাহন প্রবেশ তো দুরের কথা সাধারন লোকজনও ফুটপাতের দোকান কোটার কারনে স্বাভাবিক ভাবে চলাচল করতে পারেনা।’unnamed-7

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামালগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের এক ছাত্রী জানান, সাচনা বাজার হয়ে খেয়া নৌকা পারি দিয়ে প্রতিনিয়ত কলেজে আসা যাওয়া করতে হয়। বাসা থেকে খেয়াঘাট যেতে যেখানে ১০ মিনিট সময় লাগার কথা না সেখানে গলি পার হতেই আধা ঘন্টা লেগে যায়। ওই ছাত্রী আরো বলেন, অনেক সময় দেখা যায় আমার মত ক্কুল কলেজে পড়–য়া হাজারো শিক্ষার্থী ফুটপাতের দোকানকোটার কারনে লোকজনের শরীরে গাঁ ঘেষেই চলাচল করতে গিয়ে লজ্জায় পড়ে যায়।’
জামালগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান বলেন, সাচনা বাজারের ওই ফুটপাতের দোকানকোটা জন্য শুধু স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীই নয় বাজারে আসা সাধারন ক্রেতাদেরও হাটতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ওইসব দোকানকোটা উচ্ছেদের দাবি দ্ধীর্ঘ দিনের হলেও কয়েকটি স্বার্থান্বেশী মহল তাদের স্বার্থে সংগঠন করে বার বার উচ্ছেদ অভিযানকে বাধাগ্রস্থ করেই যাচ্ছে।’ অপরদিকে সাচনা বাজার -বেহেলী রোডের অবস্থা আরো বেগতিক। দু’সারির দোকান কোটার সামনে কয়েকটি ওয়ার্কশপের নির্মাণ সামগ্রী ও মেরামত যোগ্যনয় এমন কিছু সেলু মেশিন, ট্রাক্টর ফেলে রাখা হয়েছে।’
এদিকে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় মুখে কুলুপ এটে রাখা ফুটপাতে বসা দোকানীরা আগাম টাকা দেয়া ও প্রতিমাসে ভাড়া প্রদানের বিষয়টি অস্বীকার করলেও এদের কেউ কেউ জানান, ভাসমান চালি সমিতির নামে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুর্ন:বার্সন করার কথা বলে একটি মহল বাজারের খাঁস ভুমিতে ভিট পাইয়ে দেবার নামে গত ক’বছর পুর্বে কোটি টাকা বাণিজ্য করেছেন।

এদিকে ১/১১ সময় বাজারের ভাসমান ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করে তাদের পুর্ন:বাসনের নামে ব্রীজের নীচের খালের জায়গাটা বরাদ্ধ দেওয়া হলেও পরবর্তীতে তা ক্ষুদে ব্যবসায়ীদেও ভাগ্য জুটেনি দোকান কোটা।
বর্তমান সাচনাবাজার নিউ মার্কেট নামে পরিচিত স্থানে ৪০টির অধিক দোকানকোটা গড়ে উঠলেও তার অধিকাংশ ভিটা পেয়েছেন এলাকার প্রভাবশালী পরিবারের লোকজন। তাও আবার হাতে গোনা ক’জন ছাড়া অধিকাংশ ব্যবসায়ী ভিট পেয়ে তা বিক্রি করে দিয়েছেন।
সাচনা বাজার ভাসমান চালি সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মিয়া বলেন, প্রশাসন আমাদেরকে রাস্তা পরিস্কারের কথা বলেছেন, আমাদেরকে একটু সময় দিতে হবে।’ অতীতে এভাবে জনদূর্ভোগ সৃষ্টি করে সংগঠনের নামে প্রশাসনকে জিম্মি করে কতবার সময় নিয়েছেন ? এমন প্রশ্নের উওর জানতে চাইলে তিনি প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাসলিমা আহমেদ পলি সোমবার মুঠোফোনে বাংলামেইলএর প্রতিবেদকে বলেন, উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক মহোদয়কে উচ্ছেদ অভিযানের বিসয়টি অবহিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশের মাধ্যমে মাইকিং করে সর্বশেষ সময় জানিয়ে দেয়া হবে। ভাসমান দোকান কোটা সরিয়ে নেয়ার জন্য। তিনি আরো বলেন, নির্ধারিত সময়ের পর কেউ যদি তার অবৈধ দোকান কোটা না সড়ায় তাহলে বাধ্য হয়ে। ##
হাবিবুর রহমান.সুনামগঞ্জ-১৪.১১.১৬
০১৭১৬-৩৮৮৩৬৪

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: