সর্বশেষ আপডেট : ৯ মিনিট ৪২ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জনপ্রতিনিধি সাংবাদিক ও নৌ শ্রমিকদের সাথে মতবিনিময়

unnamed-4জামালগঞ্জ প্রতিনিধি:: সুনামগঞ্জের নদী পথে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবীতে নৌশ্রমিকরা গত বুধবার থেকে অনিদৃষ্টকালের জন্য কর্মবিরতী পালন করছেন। জামালগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মিলনস্থল ফতেহপুর আবুয়া নদীতে প্রায় শতাধিক মালবাহী ভাল্কহেড (ষ্টীলবডি নৌকা), ভলগেট নৌকা, সাধারণ নৌকা নোঙ্গর করে এই কর্মবিরতী পালনসহ জামালগঞ্জে মানববন্ধন করেছেন। শ্রমিকদের নৌ-ধর্মঘটের সংবাদ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও আঞ্চলিক দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশের পর সিলেটের উপ-সহকারী পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) মো: নজরুল ইসলাম জামালগঞ্জ থানায় এসে স্থানীয় পুলিশ প্রসাশন, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিমিয় করেছেন।

জামালগঞ্জ থানার পরিদর্শনকালে সিলেটের উপ-সহকারী পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) মো: নজরুল ইসলাম বলেছেন, সুনামগঞ্জের নৌপথে স্ব-স্ব ই্উনিয়নের জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় জনগন, সুধী সমাজ ও সাংবাদিকদের নিয়ে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে গণজোয়ার সৃষ্টির আহবান জানান। তিনি শ্রমিকদের আশ্বস্থ করেন বলেন, যত দ্রুত সম্ভব সুনামগঞ্জের নৌপথে চাঁদাবাজির বন্ধের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের আহবান জানান। কিছু দিনের মধ্যেই সানবাড়ী ও জয়শ্রীতে নৌ-পুলিশ ফাড়ির ব্যবস্থা হবে। সার্বিক বিষয়ে আমরা প্রকাশ্য ও গোপনিয় ভাবে তদন্ত করছি । পরিদর্শন শেষে জামালগঞ্জ থানার কার্যক্রম এর উপর সন্তোষ প্রকাশ করেন। এসময় সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সঞ্জয় সরকার, সহকারী পুলিশ সুপার (দিরাই সার্কেল) মো: সুরুত আলম, জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইন-চার্জ মো: আতিকুর রহমান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সাচনা বাজার ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম শামীম, ফেনারবাক ইউপি চেয়ারম্যান করুণা সিন্দু তালুকদার, ভীমখালী ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ দুলাল মিয়া,বেহেলী ইউপি চেয়ারম্যান অসীম কুমার তালুকদার, শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।unnamed-7

অপরদিকে নৌ-পথে চাঁদাবাজি বন্ধের প্রতিবাদে রবিবার জামালগঞ্জ থানার সামনে নৌ-শ্রমিকরা মানববন্ধন করেছেন। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় শ্রমিক নেতা জাহাঙ্গীর আলম। সুনামগঞ্জ মালবাহী নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি সফিজুল ইসলাম ও সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ আলী। নির্যাতিত শ্রমিকদের মধ্য বক্তব্য রাখেন, আঃ ছালাম, আলতাফ হোসেন, আরিফুল ইসলাম, সাঈদ মিয়া প্রমুখ। বক্তারা বলেন, নৌপথে যারা চাঁদাবাজি করছে তাদের কে আইনের আওতায় এনে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। যারা এই চাঁদাবাজদের নামে মাত্র একটি কাগজ দিয়ে নদীতে মার্কিং-আরকাটির (পথ প্রদর্শক) অজুহাতে চাঁদাবাজিতে উৎসাহিত করছে তারাই এই চাঁদাবাজদের জন্ম দিয়েছে। নারায়নগঞ্জ ও ঢাকার একাধিক নৌ-শ্রমিক সংগঠন থেকে একাধিক ব্যাক্তির নামে এই নদীপথে টাকা তুলার দায়ীত্ব দেয়ার কারনে চাঁদাবাজদের চাঁদাতুলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত গতিতে এই চাাঁদাবজি বন্ধের দাবী জানিয়েছেন শ্রমিক নেতৃবৃন্দ। যতদিন এই নদীপথ চাঁদাবাজি মুক্ত না হবে তত দিন পর্যন্ত শ্রমিকদের এই কর্মবিরতী চলবে বলেন জানান তারা। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সুধি সমাজ ও গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে পেয়ে নির্যতিত শ্রমিকরা চাঁদাবাজদের হামলা বিভিন্ন নির্যাতনের দিক তুলে ধরে তাদের শরীরে আঘাতের ক্ষতচিহ্ণ দেখিয়ে অনেকেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তারা বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে চাঁদাবাজি বন্ধের কোন নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্তÍ শ্রমিকদের এই ধর্মঘট চালিয়ে যাবেন।

জানা যায়, তাহিরপুর উপজেলার বড়ছড়া, টেকেরঘাট, চারাগাঁও শুক্ল ষ্টেশন থেকে কয়লা, ফাজিলপুর থেকে বালু ও নুরী পাথর ক্রয় করে সারা দেশে যোগান দেয় ব্যবসায়ীরা। এসব আমদানিকৃত পণ্য বহনের একমাত্র মাধ্যম জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, ধর্মপাশার ও মধ্যনগরের নদীপথ। ওই নদীপথে ষ্টীলবডি নৌকা, কার্গো, সাধারণ নৌকা গুলো চলাচলের সময় জনমানবহীন ৮-১০ টি স্থানে ইঞ্জিন চালিত ছোট নৌকা দিয়ে চাঁদা আদায় করে সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রটি। প্রতিদিন প্রায় শতাধিক নৌকা ও শতাধিক কার্গো থেকে ১ থেকে দেড় হাজার করে টাকা অদায় করা হয় বলে জানান চালক ও মাঝিরা। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশ হলেও টনক নড়েনি চাঁদাবাজদের। অভিযোগ উঠেছে নদী পথে নারায়নগঞ্জের কয়েকটি সংগঠন, “বাংলাদেশ কার্গো ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন, বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশন ও বাংলাদেশ ভাল্কহেড শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ বাল্কহেড বোট মালিক সমিতি, বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশন, ঢাকার সদরঘাট এলাকার বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার এসোসিয়েশন” নামীয় সংগঠন থেকে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, মধ্যনগর, ধর্মপাশা এলাকার নৌপথে আরকাটি’র অযুহাতে অনুমোদন দিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজ তৈরী করে এলাকার প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় খুন সন্ত্রাসী ও বিভিন্ন মামলার আসামীদেরকে দিয়ে চাঁদা আদায় করে ভাগ ভাটোয়ারা করে নিচ্ছে। এক সংগঠন আরেক সংগঠনকে চাঁদাবাজীর জন্য দায়ী করছে। এই চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা, মধ্যনগর, বিশ্বম্ভরপুর থানায় মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। চাঁদাবাজ চক্রটি বছরে প্রায় কয়েক কোটি টাকা চাঁদা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে জানান শ্রমিকরা।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: