সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ৫১ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ওসমানীনগরে আসমত হত্যামামলায় ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

jel-big20160724160845ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
ওসমানীনগরে আছমত আলী হত্যামামলায় এক নারীসহ ৫ জনের যাবজ্জীবন ও অপর ৯ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাদেরকে অর্থদন্ডও করা হয়। গত বৃহস্পতিবার সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক এ. এম, জুলফিকার হায়াত এ রায় ঘোষণা করেন।

যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হচ্ছেন, ওসমানীনগর থানার বড় ধিরারাই খালপাড় গ্রামের রইছ আলীর ছেলে জিলু মিয়া (৩৫), তার ভাই জলাল মিয়া (২৫), একই এলাকার হাছিব উল্যার ছেলে ফারুক মিয়া (৩০), তার ভাই কদর মিয়া (২৮) ও একই এলাকার রইছ আলীর স্ত্রী নূর জাহান (৫৫) এবং বিভিন্ন মেয়াদে দন্ডপ্রাপ্তরা হচ্ছেন, ওসমানীনগর থানার বড় ধিরারাই খালপাড় গ্রামের মৃত সিফাত উল্লার ছেলে রাশিদ উল্লাহ (৫৫), একই এলাকার তাহির উল্লাহর ছেলে নছির মিয়া (৩৫), তার ভাই ছিদ্দেক মিয়া (২৮), হাছিব উল্যার ছেলে কওছর মিয়া (২০), তার ভাই এমরান মিয়া (২২), ওয়ারিছ উল্লাহর ছেলে কয়েছ মিয়া (২০), মৃত ওয়াছিব উল্লাহর ছেলে লিয়াকত মিয়া (৩০), তার ভাই সাকত মিয়া (২৪) ও মৃত মক্রম উল্লাহর ছেলে আব্দুল বারিক (৫৫)। রায় ঘোষণার সময় জিলু মিয়া, জলাল মিয়া, নূর জাহান ও সাকত মিয়া পলাতক থাকলেও বাকি সকল আসামি গতকাল আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, ২০০৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০ টার দিকে ওসমানীনগর থানার বড় ধিরারাই খালপার গ্রামে জেলার বিশ্বনাথ থানার সাদপুর গ্রামের মৃত ইন্তাজ আলী ছেলে আসকর আলীর খরিদকৃত বাড়িতে আসামিরা অনধিকার প্রবেশ করে সুপারি গাছ হতে সুপারি পাড়িতে দেখে আসকর আলী তাদেরকে বাধা দেন। এসময় আসামিরা পূর্ব থেকে ওৎপেতে থাকা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আসকর আলীর উপর অতর্কিত হামলা করেন। তখন তাঁকে রক্ষা করতে তাঁর ভাই আছমত আলী ও তাদের ভাতিজা আক্তার এগিয়ে আসলে তাদেরকেও এলোপাতাড়ি কোপান আসামিরা। এ সময় আসামি জলাল মিয়া ডেগার দিয়ে আছমতের ডান বগলের নিচে আঘাত করেন ও আসামি ফারুক মিয়া রামদা দিয়ে তাঁর মাথায় কোপ দেয় এবং নূর জাহান আছমতের পিঠে দা দিয়ে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পরেন। স্থানীয় লোকজন আহত অবস্থায় আসকর আলী, আছমত আলী ও আক্তারকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কতব্যরত ডাক্তার আছমত আলীকে (৪৫) মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহত আছমত আলীর ভাই আসকর আলী বাদি হয়ে ১৫ জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো ৮/১০জনকে আসামি করে ওসমানীনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে ওই থানার এসআই দিলীপ কান্তনাথ ২০০৯ সালের ১৩ মে ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। এবং ২০১০ সালের ১৭ জুন থেকে আদালত এ মামলার বিচার কার্য শুরু করেন। তখন মামলা চলাকালীন তাহির আলীর ছেলে আসামি সমছু মিয়া (৪৫) মারা যান। দীর্ঘ শুনানি ও ১৪ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত আসামি কদর মিয়া, জিলু মিয়া, জলাল মিয়া, ফারুক মিয়া, নূর জাহানকে ৩০২ ও ১৪৩ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে যাবজ্জীবন, ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো ১ বছর করে সশ্রম ও ২ মাসের বিনাশ্রমে কারাদন্ড এবং শুধু কদর মিয়াকে ৩২৪ ধারায় আরো ১ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৩ মাসের সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করেন। অপর আসামি লিয়াকত, ছিদ্দেক, এমরান ও সাকত মিয়াকে ১৪৩ ধারায় ২ মাসের বিনাশ্রমে ও ৩২৪ ধারায় ১ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো ৩ মাসের সশ্রম কারাদন্ড দেন। আসামি রাশিদ উল্লাহ, নছির উল্যা আব্দুল বারিক, কওছর মিয়া ও কয়েছ মিয়াকে শুধু ১৪৩ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে তাদের প্রত্যেককে ২ মাসের বিনাশ্রমে কারাদন্ডে দন্ডিত করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে এপিপি অ্যাডভোকেট মো. ফখরুল ইসলাম ও আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন এবং স্টেট ডিফেন্স অ্যাডভোকেট মো. মইনুল ইসলাম মামলাটি পরিচালনা করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: