সর্বশেষ আপডেট : ১৩ মিনিট ৩৪ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জেলা পরিষদ নির্বাচন : মৌলভীবাজারে সরব আ.লীগ, নীরব বিএনপি

eeee-01-copyবিশেষ প্রতিবেদক ::
মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাঠাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন তিন প্রবাসী নেতা। পাশাপাশি সরব হয়ে উঠেছে মৌলভীবাজারের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। কিন্তু প্রচারণায় পিছিয়ে নেই জাতীয় পার্টিও। তবে নীরব রয়েছে বিএনপি। শহরে নানা রঙের ডিজিটাল ব্যানার, ফেস্টুন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জানান দিচ্ছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রবাসী প্রার্থীরা । তবে প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন সদস্য পদের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন সাবেক ব্রিটিশ কাউন্সিলার ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এম এ রহিম (সিআইপি)। তিনি ছাড়াও জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, কাতার-বাংলাদেশ চেম্বারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আহমেদ রিয়াজ এবং সাবেক এমপি ও ঠিকানা গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএম শাহীনের নাম সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে। আর সদস্য পদে প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিক বিকুল চক্রবর্তী।

মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আহমেদ রিয়াজ মৌলভীবাজার-৩ আসনের উপনির্বাচনে জাপার সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন। আহমেদ রিয়াজ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে জাপার ৪০ জন মনোনীত এমপির তালিকাভুক্ত ছিলেন। নির্বাচনও করেছিলেন। সিলেট বিভাগের চারটি জেলার মধ্যে তিনটি জেলায় জাপার ৪ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন। শুধু মৌলভীবাজার জেলায় জাপার কোনো সংসদ সদস্য না থাকায় আহমেদ রিয়াজ মনে করেন, নতুন এই আইনে নির্বাচনে অংশ নেয়া দরকার। তাছাড়া জাপা নির্বাচনমুখী দল। তিনি বলেন, পার্টির চেয়ারম্যান যদি আমাকে নির্দেশ দেন আর পার্টি যদি নির্বাচনে যায়, তবে আমি এই চ্যালেঞ্জিং নির্বাচন করতে প্রস্তুত।

আগর-আতরের রাজধানী বলে খ্যাত বড়লেখার সুজানগরের আহমেদ রিয়াজ আরো বলেন, সংসদের অনুপাতিক হারে জেলা পরিষদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার জেলার এই পদটি জাপার জন্য খুবই প্রয়োজন। বিএনপিসহ অন্য দলের নেতারা প্রার্থিতার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত না নিলেও মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হচ্ছেন বিএনপি নেতা সাবেক এমপি ও ঠিকানা গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএম শাহীন। গেল কয়েকদিন ধরে এমন গুঞ্জন ছড়াচ্ছে তার নিজ নির্বাচনি এলাকা (কুলাউড়া-কমলগঞ্জ আংশিক) সহ পুরো জেলায়। নানা কারণে নিজ নির্বাচনি এলাকায় আলোচিত জনপ্রিয় এ নেতা কয়েক মাস থেকে নিজের পারিবারিক ও ব্যবসায়িক কাজে ছিলেন দেশের বাইরে। সম্প্রতি তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরায় ভক্ত ও শুভাকাক্সক্ষীদের মধ্যে তাঁর প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন জোরালো হচ্ছে। তাঁরা নিজ উদ্যোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গুলোতেও চালাচ্ছেন ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা। আর যাচাইও করছেন নির্বাচকমন্ডলীর (ভোটারদের) কাছে তাঁর জনপ্রিয়তা। সবকিছু ঠিকঠাক হলেই তিনি জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়বেন দৃঢ়তার সঙ্গে-এমনটিই জানান তাঁরা। এ ছাড়া অন্য কোনো দলের প্রার্থী নেই বললেই চলে।

ক্ষমতাসীন দলের জনপ্রিয় নেতা এমএ রহিম (সিআইপি) বলেন, স্বাধীনতা-উত্তর সময়ে দেশ ও দলের জন্য অনেক ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলন করেছি। সে সময় মৌলভীবাজারের প্রতিটি স্কুলে ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করি। ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে গণ-আন্দোলন গড়ে তোলার কারণে কারাবরণ করতে হয়েছে। ৭ মে ২০০৭ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হয়ে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে আগমন করলে ১৮ দিন কারাবরণ করতে হয়। তিনি মৌলভীবাজারকে আগামী দিনে আধুনিক ও পর্যটন জেলা হিসেবে গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এছাড়াও ২০০৭ সালের জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারামুক্তি আন্দোলনে অগ্রসৈনিক হিসাবে কাজ করেন এম এ রহিম।
এ বিষয়ে জানতে এমএম শাহীনের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ছারওয়ার আলম বেলাল, কুলাউড়া পৌর কাউন্সিলর মনজুরে আলম চৌধুরী খোকন, সুরমান আহমদ, সাইফুর রহমান সাইফুল, ইলিয়াছ আহমদসহ অনেকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তারা এমন গুঞ্জনের সত্যতা স্বীকার করে জানান, জেলা পরিষদ নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণের পর থেকে এমএম শাহীনের ভক্ত-সমর্থকেরা তাঁকে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে জোরালো দাবি জানিয়ে নিজ উদ্যোগে নানা প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন।

জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, মৌলভীবাজারের ৭টি উপজেলার ৬৭টি ইউনিয়ন, ৫টি পৌরসভা ও ৭টি উপজেলা মিলে ৯৪৩ জন নির্বাচকমন্ডলীর সদস্য (ভোটার) রয়েছেন। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান একজন, ১৫ জন সদস্য ও সংরক্ষিত আসনের পাঁচজন নারী সদস্য নিয়ে জেলা পরিষদ গঠন হবে। সব মিলিয়ে ২১টি পদের জন্য এখন পর্যন্ত এ জেলায় প্রায় অর্ধশতাধিক প্রার্থী মাঠে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
সীমানা ও নির্বাচকমন্ডলীর সদস্য নির্ধারণের পর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্য (পুরুষ ও মহিলা) পদে প্রার্থীরা মাঠে নামছেন। সময় যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে প্রার্থীদের সংখ্যা। দলীয় প্রতীকে এই নির্বাচন না হলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী ওইসব পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে ধারণা স্থানীয় নির্বাচন বিশ্লেষকদের।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: