সর্বশেষ আপডেট : ৪৪ মিনিট ৫৭ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

এ বিজয় হোক বিশ্বশান্তির নতুন অগ্রযাত্রা

1478775045এস এম জাকির হোসাইন:: সাঙ্গ হল আমেরিকার উত্তেজনাকর এক নির্বাচন। হিলারি ক্লিনটন নয়, ডোনাল্ড জে ট্রাম্পই হয়েছেন মার্কিন মুল্লুকের নয়া প্রেসিডেন্ট। অথচ বিবিসি, ওয়াশিংটন পোস্ট, নিউইয়র্ক টাইমস এমনকি এবিসি নিউজের পরিচালিত জনমত জরিপ দাবি করেছিল, হিলারি ক্লিনটনই হচ্ছেন আমেরিকার ৪৫তম রাষ্ট্রপ্রধান। শুধু তাই নয়, আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানী থেকে শুরু করে বনের বাঘ, গাছের বানরও ভবিষ্যতবাণী করেছিল প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন হিলারি।

হয়তো এ কারণেই বন্যার্তদের পাশে না দাঁড়িয়ে, মার্কিন নির্বাচনে কুঁড়ি কোটি টাকা ঢেলে দিয়েছিলেন এ দেশীয় একজন। এখন সব জলে। আশায় গুড়ে বালি নয়, কাদা। সুবিধাভোগীদের কান্নার সাগরে ভাসিয়ে বিজয়ের হাসি হেসেছেন বিতর্কের রাজপুত্র খ্যাত ডোনাল্ড ট্রাম্প। অবশ্য, মিডিয়ার জনমত জরিপ নয়, বিতর্ক, কলাম কিংবা টাকা নয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেন ভোটাররা। একজন ভুল করতে পারে, কিন্তু কোটি কোটি ভোটারের ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে গণতান্ত্রিক পন্থায় যোগ্যতম ব্যক্তিটিই হয় রাষ্ট্রপ্রধান। যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েই ৪ বছরের জন্য পৃথিবীর সুরক্ষিত স্থান হোয়াইট হাউজে বসবাস করা ও বর্তমান বিশ্বের সর্বাধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছেন ট্রাম্প। জনগণের চাওয়াটাই আসল, এটাই গণতন্ত্রের আসল সৌন্দর্য। ট্রাম্প সেটা প্রমাণ করলেন আবার। মিস্টার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অভিনন্দন।

২৪০ বছরের মার্কিন নির্বাচনের ইতিহাসে এবারের নির্বাচন ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। ব্যয়বহুল তো বটেই। প্রথম বারের মত কোনো বড় দল থেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভোট যুদ্ধে নামার সুযোগ পেয়েছিলেন একজন নারী। তাও আবার সাবেক ফার্স্ট লেডি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী। কিন্তু না, এবারও এত পুরনো ইতিহাস ভাঙতে পারেনি আমেরিকাবাসী। সবগুলো অঙ্গরাজ্য মিলিয়ে হিলারি সর্বাধিক ভোট(৫,৯০, ৫৯,১২১) পেলেও যুক্তরাষ্ট্রের জটিল প্রেসিডেন্ট নির্বাচন প্রক্রিয়াতে হেরে গেলেন তিনি। নির্বাচিত হয়েছেন পুরুষ প্রেসিডেন্টই(৫,৮৯,৩৫,২৩ ভোট পেয়ে)। অথচ নির্বাচনে নামার শুরু থেকে একবারে শেষ দিন পর্যন্ত বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছিল না ডোনাল্ড ট্রাম্পের। নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময়ই আসতে থাকে ভয়ংকর সব অভিযোগ। হেরেছেন হিলারির সঙ্গে অংশগ্রহণ সব কয়টা বিতর্কে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে যে পরিমাণ বিতর্ক তৈরি হয়েছে এর আগে কোনো রাষ্ট্রপতি প্রার্থীকে নিয়ে অত বিতর্ক হয়েছে কিনা বলা মুশকিল। এমনকি ট্রাম্প যে রিপাবলিকান প্রার্থী সেটাও অনেক প্রভাবশালী রিপাবলিকান পছন্দ করেনি। জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তো জনসম্মুখেই ট্রাম্প সম্পর্কে তিক্ত বক্তব্য দিয়েছেন। এসব কারণে অনেকে ধরেই নিয়েছিলেন হিলারির জয় নিশ্চিত। অবশেষে ট্রাম্প সমালোচকদের মুখ বন্ধ করেছেন ইতিহাস রচনা করে। তবে মার্কিন টিভি চ্যানেল সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কিছু ভোটার দাবি করছেন তারা আসলে ট্রাম্পকে ভোট দেননি। দিয়েছেন হিলারির বিপরীতে। কারণ রাষ্ট্র নায়ক হিসেবে হিলারিকে তাদের পছন্দ নয়।

খ্রিষ্টপূর্বাব্দে প্রাচীন গ্রিসে যে গণতন্ত্রের জন্ম সেই গণতন্ত্র এখন পৃথিবীর প্রায় সব দেশে। সময়মত নির্বাচনও হচ্ছে দেশে দেশে। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে এত মাতামাতি কেন? সবার আগ্রহ দেখে মনে হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নয়, হয় যেন বিশ্ব প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। তবে এ কথা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই যে, বিশ্বের সুখ-শান্তি, স্থিতিশীলতা অনেকটাই নির্ভর করে মার্কিনীদের মেজাজ-মর্জির উপর।

খুব বেশি দূরে যেতে হবে না, উদাহরণ হিসেবে আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া যুদ্ধের কথা বলা যায়। উল্লেখ করা যায় ইরানের উপর কট্টর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কথা। উত্তর কোরিয়ার পারমানবিক যুদ্ধের হুমকি উপেক্ষা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ মহড়া অংশগ্রহণ করে কিংবা গাজার সহিংসতা যখন মার্কিনীদের স্পর্শ করে না তখনও বিশ্বব্যাপী সাধারণ মানুষের উৎকণ্ঠা বাড়তে থাকে, কি হবে বিশ্বের ভবিষ্যৎ? চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায় যখন আমেরিকা ও চীন সমুদ্রাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয় কিংবা হঠাৎ করেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে। মাঝে মাঝে মনে হয়, এই বুঝি ৩য় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে আমরা, এই বুঝি শুরু হল পারমানবিক যুদ্ধ। আবার একই সঙ্গে, কিউবানদের সঙ্গে পুরনো তিক্ততা ভুলে যখন নতুন সম্পর্ক তৈরি করে তখন অনেকেই আশার আলো দেখতে পান।

বর্তমানে ইসলামিক স্টেট বা আইএস বিশ্বব্যাপী একটি গণ-আতঙ্কের নাম। বিশ্বের বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্রে ধর্মের নামে জেহাদ করে নিরীহ মানুষ হত্যা করতে তাদের কোনো জুড়ি নেই। অথচ উইকিলিকস এর প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ দাবি করছেন হিলারি এবং বারাক ওবামা আইএসের জন্য এক সময় চাঁদা সংগ্রহ করেছেন। প্রকারান্তে মার্কিনীরাই আজকের আইএসের প্রতিষ্ঠাতা। আর ইরাক যুদ্ধের ভুল তো সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার স্বীকার করে নিয়েছেন। আফগান ও ইরাক অর্থনীতির মাজা ভেঙ্গে গেছে আগেই। অনেকের হয়তো সাগর পারে আইলান কুর্দির নিথর দেহের ছবিটির কথা মনে আছে কিংবা ৫ বছর বয়সী সিরিয়ার রক্তাক্ত ওমলানের কথা। আইএসের ভয়ে যেমন দেশ ছেড়ে সাগরে ডুবে মরছে শিশু আইলান তেমনি সেই আইএসকে নিশ্চিহ্ন করতে বোমা ফেলতে হচ্ছে ওমলানদের মাথায়। কতটুকু অনিরাপদ হয়েছে পৃথিবী তা আমেরিকার মত দেশগুলোর সামরিক বাজেট দেখলেই বোঝা যায়। বোঝা যায় বিশ্বব্যাপী পারমানবিক অস্ত্রের মজুদ দেখলে। অস্ত্রের ক্রয় বিক্রয় দেখলে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবে মার্কিন ভোটাররাই তবে এখানে আমাদেরও কিছু প্রত্যাশা থাকতে পারে। আমরা চাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট হবেন এমন একজন যিনি বসবাসযোগ্য, নিরাপদ বিশ্ব নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাবেন। যার চিন্তায় থাকবে যুদ্ধ-সন্ত্রাস-হানাহানি মুক্ত নতুন এক শান্তিপূর্ণ বিশ্বের প্রতিচ্ছবি। যিনি সংগ্রাম করবেন সমৃদ্ধ বিশ্বের। যেখানে থাকবে না ক্ষুধা-দারিদ্র, মানবতাই হবে প্রধান ধর্ম। আসছে জানুয়ারির ২০ তারিখ ৪৫তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন ডোনাল্ড জে ট্রাম্প। তাঁর এই বিজয় হোক বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার নতুন অগ্রযাত্রা। যুদ্ধ নয়, শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক পৃথিবীর সর্বত্র। জয় হোক মানবতার। জয় হোক মানব সভ্যতার।

লেখক: সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: