সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ২৭ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মৌলভীবাজারে কোচিং বাণিজ্য জমজমাট

1-daily-sylhet-0-7নিজস্ব প্রতিবেদক:: মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ, মহিলা কলেজ, পলিটেকনিক, শাহ মোস্তফা কলেজসহ সদর উপজেলায় স্কুল ও কলেজ আছে প্রায় ২ শতাধিক। এর বাইরে নামে-বেনামে রয়েছে বেশ কিছু কিন্ডার গার্টেন। তবে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে কোচিং সেন্টার। বাণিজ্যিক এ কোচিং সেন্টারগুলো থেকে প্রতি মাসে কিছু শিক্ষক কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের প্রলোভন দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। অনেক সরকারি ও এমপিওভুক্ত স্কুলের শিক্ষকদের দিয়ে চলে ওই কোচিং সেন্টারগুলো। অনেকেই প্রকাশ্যে এবং অনেকই অন্তরালে থেকে সেন্টারগুলো পরিচালনা করছেন। এমন অভিযোগ সব মহলে।

কোচিং সেন্টার ছাড়াও রয়েছে ‘প্রাইভেট হোম’। এসব প্রাইভেট হোম মূলত একজন শিক্ষক চালান। সেখানে ব্যাচ করে শিক্ষার্থীরা পড়ে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে শহরে এমন প্রাইভেট হোম ও কোচিং সেন্টার হবে প্রায় ৫ শতাধিক। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মৌলভীবাজার শহরে রয়েছে ৪০/৫০টি কোচিং সেন্টার। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, কলম্বিয়া কোচিং সেন্টার, নলেজ হোম, এক্সটা টাইম কোচিং ইন্সটিটিউট, ই-টাইম, সাইফুর্স একাডেমি, ফিউচার গ্রুপ, মেনটরস, হার্বাড, ইকরা, রাইজিং, প্যারাডাইস, সাকসেস, শাহীন, কমার্স, কর্ণিয়া, ফিউচার ব্রাইট, স্টাডি এবরোড, গুলশান একাডেমি, অক্সফোড অ্যাডুকেশন, মুসলিম উম্মাহ, মিজানসসহ আরো বেশ কয়েকটি কোচিং সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে পৌরসভা থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত হচ্ছে মাত্র ৬টি। বাকি কোচিং সেন্টারগুলো মাসে ১ থেকে দেড় লাখ টাকা আয় করলে আদায় করছে না কোনো কর। গত শনিবার মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের পার্শ্ববর্তী ফরেন্স টিলা, বড়বাড়ি, সোনাপুর, বনবীথি, বনশ্রী, উত্তর কলিমাবাদ, দক্ষিণ কলিমাবাদ, টিভি হাসপাতল রোড, সার্কিট হাউস এলাকসহ আরও কয়েকটি বাসা বাড়িতে সরজমিনে গেলে দেখা যায়, পৃথক পৃথকভাবে শতশত শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়াচ্ছেন কলেজের শিক্ষকরা। কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে আলাপ করলে তারা বলেন, ক্লাসে ঠিকমতো বিষয়টি না বোঝার কারণে প্রাইভেট পড়তে হচ্ছে তাদের।

বিভিন্ন লোভনীয় অফার দিয়ে লিফলেট, ফেস্টুন, ব্যানার, সাইনবোর্ড ও স্টিকার ছাপা করে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মন আকৃষ্ট করছে তারা। এমন এক লোভনীয় অফার দিয়েছে কলাম্বিয়া কোচিং সেন্টার। ‘এসএসসি ২০১৭ তে মাত্র ১৪৫০ টাকায় এ প্লাস’ শিরোনামে কয়েক হাজার লিফলেট ছাপা করে হাতে হাতে বিলি করছে শহরে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। কিভাবে ১৪৫০ টাকায় এ প্লাস পাওয়া যাবে? এমন প্রশ্ন অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের। অভিভাবক হয়ে শহরের কয়েকটি কোচিং সেন্টারে গেলে মৌখিকভাবে ভালো ফলাফলের বিভিন্ন লোভনীয় অফার দেন তারা।

শহরে এমন অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেখানে দিনে চলে স্কুল আর রাতে চলে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কোচিং। অনেকটাই এখন স্থানীয় লোকদের কাছে রাতের স্কুল নামে পরিচিত। শহরের বড়হাট এলাকার শাহ জালাল কেজি অ্যান্ড জুনিয়র হাই স্কুলের এবারের পিএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২ মাসে কোচিংয়ের নামে আদায় করা হচ্ছে ১৫০০ টাকা করে। শাহ হেলাল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কোচিংয়ের নামে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে ৩০০ টাকা করে। জাতি গড়ার কারিগর এবং সমাজে শ্রদ্ধার পাত্র শিক্ষকদের এমন বাণিজ্যিক মনোভাবের কারণে ক্ষুদ্ধ অভিভাবকরা।

শহরে কোচিং ও প্রাইভেট পড়ানোর বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদ আবদুল ওয়াদুদ বলেন, আমাদের এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক কোচিং বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি আমি মনে করি শিক্ষকরা অন্য স্কুলের ১০ জন শিক্ষার্থী পড়াতে পারবে এমন আইন সংশোধন করে শিক্ষকদের সম্পূর্ণ কোচিং পড়ানো বন্ধ রাখা উচিত।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: