সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

৫ প্রতিবন্ধী শিশুর আর্তনাদ ১৫ বছরেও কেউ শুনেনি!

1-daily-sylhet-0-17হাবিবুর রহমান, জামালগঞ্জ :: হাওর পাড়ে ঝুপড়ি ঘরে থাকা একই পরিবারের ৫ প্রতিবন্ধীর আর্তনাদ গত ১৫ বছরেও কেউ শুনেননি! সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের (বর্তমান নব-গঠিত) জামালগঞ্জ উওর ইউনিয়নের সুরমানদী ও হালির হাওর পাড়ের হোসেনপুর গ্রামের আলী উস্তার ও মিনারা দম্পতির উরসজাত ৫ সন্তান জন্মগত ভাবেই প্রতিবন্ধী। ওই শিশুদের চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে ব্যবসা, হালের বলদ, স্ত্রীর গহনা-জমি-জমা বিক্রি করে এখন নিংস্ব হয়ে গেছেন। তিনি নিজেও প্যারালাইড হয়ে বর্তমানে শয্যাশায়ী আর স্ত্রী মানুষের বাড়িবাড়ি ঝিয়ের কাজ করে যা পান তাতে অসুস্থ্য স্বামী আর সন্তানদের মুখে ঠিকমত একবেলা খাবার জুঠাতে পারছেন না, সেখানে স্বামী আর সন্তানদের চিকিৎসা করে সুস্থ্য করে তোলাটা তার কাছে এখন একটি দু:স্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই নয়!!’

প্রতিবেদক সরজমিনে উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৭কি:মি: অদুরে লালপুর বাজার সুরমা নদীর খেয়াপাড়ি দিয়ে হোসেনপুর গ্রামে গেলে সরজমিনে দেখা যায়, ওই গ্রামের উস্তার আলী ও মিনারা বেগম দম্পতির ১৫ বছর বয়সী সুহেল মিয়া, ১৩ বছরের রুবেল মিয়া, ৯ বছরের শিশুকন্যা সুমা বেগম, ৭ বছরের জুনেন মিয়া, ও সাড়ে ৩ বছর বয়সী শিশু সন্তান আলী আহমদ সহ একই পরিবারের ৫ সন্তান প্রতিবন্ধী হয়ে ঝুঁপড়ি ঘরে বিনাচিকিৎসায় দিনাতিপাত করছে।

সবার বড় ছেলে ১৫ বছরের সোহেল জন্মের পর থেকেই বাকপ্রতিবন্ধী, তার দু’পায়েও সমস্য, এক পায়ের হাড় ভাঙ্গা। শীতকালে শরীরের ত্বক ফেঁটে যায়। এ অবস্থায় টানা ৬ বছর বিভিন্ন চিকিৎসকের দারস্থ্য হয়ে চিকিৎসা ব্যায় মেটাতে গিয়ে আলী উস্তার বালি-পাথরের ব্যবসার পুঁজি খুঁইয়েছেন। কিন্তু সুস্থ্য হওয়া তো দুরের কথা দিনে দিনে ওই ছেলে ঘরের কোনে থেকে থেকে মানসিক প্রতিবন্ধী হয়ে উঠেছে।’unnamed-4

সুস্থ্য সন্তান জন্ম নেবে এই আশায় আরো হতাশা বেড়ে গেল যখন সোহেলে ২ বছর পর জন্ম নিল দ্বিতীয় সন্তান রুবেল মিয়া। রুবেলের ১৩ বছর পার হতে চললেও তার নেই শ্রবণশক্তি সেই সাথে সে বাকরুদ্ধ। এক পর্যায়ে এ সন্তানের জন্য টানা ২ বছর গোয়ালের গরু-ছাগল-হাসঁ-মুরগী আর ধারদেনা করে চিকিৎসার নামে বিপুল অর্থ ব্যায় করে নিরাশ হলে হতাশার আলো ভেদ করে ৪ বছর পর জন্ম নিল শিশু কন্যা সুমা বেগম। ফের সেই হতাশায় গ্রাস করল ওই দম্পতিকে। সুমাও জন্মের পর থেকেই শ্রবণশক্তি ও বাকশক্তিহীন। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গেলে মা-বাবাই ভরসা। লোকজন দেখলেই ভয় পায়। দিনভর উপোস কাটে কখনো কান্নাকাটি করে।’ দু’বছর পর ওই দম্পতির কোলজুড়ে আসে আরেক শিশু সন্তান জুনেন মিয়া। তারও শ্রবণ শক্তি ও বাকশক্তি নেই।’ সবার ছোট সাড়ে ৩ বছর বয়সী আলী আহমদ ও তার সহোদর ভাই-বোনদের ন্যায় বাকশক্তি ও শ্রবণশক্তি হীন। কোলের এই শিশুটিতে প্যারাইলাইসড হয়েও মা অন্যের বাড়ি ঝিয়ের কাজ করতে চলে গেলে অসহায় পিতাই আগলে রাখেন।’

জানা গেল, সন্তাদেনর চিকিৎসার জন্য ওই দম্পতি গত ১৫ বছর ধরে স্থানীয় মেম্বার , চেয়ারম্যান , উপজেলা চেয়ারম্যান, সমাজসেবা অফিস ও উপজেলা প্রশাসনের দরজায় দরজায় বছরের পর বছর ধরে কড়া নাড়লেও সাহায্যের দরজা খুলেননি কেউ! এনজিও সংস্থা, দানশীল, বিক্তবান ও সমাজসেবক ব্যাক্তিদের কেউ-ই কোন দিন উকিও দেননি হালির হাওর পাড়ের হোসেনপুর গ্রামের ওই ঝুঁপড়ি ঘরে পড়ে থাকা নিষ্পাপ শিশুগুলোর মুখের দিকে’ তাকিয়েও দেখেনি কেউ কোনদিন।’

উস্তার আলী ও মিনারা দম্পতি এ প্রতিবেদকে জানান, প্রতিবন্ধী সন্তানের চিকিৎসার ব্যায় মেটাতে গিয়ে বালি পাথরের ব্যবসা, গোয়ালের গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগী, অলংকার, আবাদী জমি সহ প্রায় ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা খরচ করেছেন কিন্তু একটি সন্তানও সুস্থ্য হয়নি।’ এখন অন্যের বাড়ি বাড়ি ঝিয়ের কাজ করে মিনারা যা পান তাতে অসুস্থ্য স্বামী ও ৫ প্রতিবন্ধী সন্তানদের মুখে একবেলা ঠিকমত খাবারোও জুটাতে পারছেনা !তারা আরো বলেন, আমাদের সামর্থ নেই, তাই সন্তানদের সুস্থ্যতার আশাই ছেড়ে দিয়েছি।’ কারো নিকট থেকে টাকা-পয়সা চাইনা, চাইনা আমাদের ঝুঁপড়ি ঘর কেউ মেরামত করে দিন, “দয়া করে যদি স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ‘জাতির জনকের কন্যা শেখ হাসিনা’ আমাদের সন্তানদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে সূস্থ্য করে তোলার দায়িত্বটুকু নেন তবে না খেয়ে মরে গেলেও অন্তত কবরে গিয়েও কিছুটা হলেও স্বস্থি পাব এই ভেবে সন্তানদের চিকিৎসার একটা সর্ব্বোচ্য পর্যায়ে নিয়ে গেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।’

জামালগঞ্জ প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থার সাধারন সম্পাদক জসিম উদ্দিন ও গণমাধ্যমকর্মী এবং পরিববেশ ও মানবাধিকার কর্মী মাহফুজুর রহমান পরশ বলেন. জামালগঞ্জ সমাজসেবা অফিস থেকে যতটুকু জানতে পেরেছি ৬৮৭ জন প্রতিবন্ধীকে ভাতা দেয়া হয় কিন্তু ওই তালিকায় গত ১৫ বছরেও ওই শিশুদের নাম উঠেনি।
জেলা সমাজসেবা অফিসার খাঁন মোতাহের হোসেন এ প্রতিবেদকে বলেন, হোসেনপুরে একই পরিবারের ৫ প্রতিবন্ধী থাকার বিষয়টি আমার জানা নেই।

জেলা প্রশাসক শেখ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ৫ প্রতিবন্ধী শিশুর বিষয়টি গণমাধ্যম (আপনাদের) মাধ্যমে জানতে পারলাম।’ আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করব ওদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য।’জেলা সদরে প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য সম্প্রতি একটি-বিদ্যালয় চালু করা হয়েছে, যদি ওই পরিবারে লেখাপড়া করার মত ওই শিশুদের মধ্যে কেউ থাকে তাহলে সে ব্যবস্থাও করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: