সর্বশেষ আপডেট : ৪৫ মিনিট ১৪ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কুশিয়ারার ভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে নদীর তীরবর্তী এলাকা ও রাস্তাঘাট

1-daily-sylhet-0-3ওয়াহিদুর রহমান ওয়াহিদ,জগন্নাথপুর:: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় পাইলগাঁও,আশারকান্দি ও রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী নদী কুশিয়ারা নদীর অকাল ভাঙ্গনে বিলীন হতে যাচ্ছে প্রায় হাজারখানেক বসতবাড়ীসহ স্কুল,মাদ্রাসা,বাজার,ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মসজিদ,কমিউনিটি ক্লিনিক ও বিভিন্ন রাস্তা-ঘাট। এবং দেশের প্রধান অর্থনৈতিকভাবে যার বিশেষ অবদান সেই কৃষি জমিও বিলীন হয়ে যাচ্ছে নদীর গর্বে। একদিকে নদীর ভাঙ্গনের ফলে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম-গঞ্জের যোগাযোগের প্রধান অবলম্ভন রাস্তা-ঘাট। অন্যদিকে রাস্তা-ঘাট না থাকায় বা চলার উপযোগি না হওয়ায় নদীর তীরবর্তী এলাকার কয়েক হাজার স্কুল,কলেজ,মাদ্রাসার পড়োয়া শিক্ষার্থীরা পরেছেন বিপাকে। ঠিকমত লেখা পড়া জুটছেনা তাঁদের ভাগ্যে। আবার কৃষি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে ধারে ধারে গোরতে হয়েছে স্থানীয় কয়েক শতাধিক কৃষকদের। নদী ভাঙ্গনের ফলে বসতবাড়ী নিয়ে দিশেহারা হয়ে গেছেন নদী গর্বে তলিয়ে নিয়ে যাওয়া পরিবারের লোকজনেরা। কেউ কেউ আবার নিজের শেষ সম্ভল ভিঠে-মাটি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে অন্যের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে জগন্নাথপুর উপজেলার পইলগাঁও ইউনিয়নের পাইলগাঁও গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবার নদী গর্বে নিজের বসতবাড়ী হারিয়ে ভয়ানক ভাবে জিবন যাপন পালন করে আসছেন। এমনিতেই দীর্ঘদিন যাবত এই গ্রামে বাংলাদেশ সরকারের কোনো উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি। বরং এই গ্রামবাসীরাই জগন্নাথপুর উপজেলাবাসীদের মধ্যে সকল নির্বাচনে নৌকাকে সর্বোচ্চ ভোট প্রদান করে আসছেন। এবং এই পাইলগাঁও গ্রামকে আওয়ামীলীগ সরকারের ঘাটি বলে বিভিন্ন অনুষ্টানে ক্ষমতাশীল রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্ধ আখ্যাহিত করে আসছেন। ঠিক সেইভাবে কোনো উন্নয়ন করতে পারছেনা স্থানীয় জনপ্রতিধিসহ রাজনৈতিকেরা। শুধু পাইলগাঁও গ্রামকে একারণে বিখ্যাত বললে ভুল হবে। পাইলগাঁও গ্রামে রয়েছে জগন্নাথপুর উপজেলার একমাত্র প্রাচীনতম নির্দেশন ঐতিহ্যবাহী পাইলগাঁও জমিদার বাড়ী। জমিদার বাড়ীটি ইতোমধ্যে নদী গর্বের মতোই বিলীন হয়েগেছে। তা সংরক্ষনে প্রশাসনের কোনো উদ্যেগ নেই। তাই প্রশাসনের প্রতি ঐতিহ্যবাহী প্রচীনতম নির্দশন পাইলগাঁও জমিদার বাড়ী সংরক্ষনের অনুরোধ জানান পাইলগাঁও গ্রামের সচেতন মহল। পাইলগাঁও গ্রামে প্রায় শতাধিক বসতবাড়ী নদী গর্বে হারিয়ে যাওয়াদের মধ্যে বেশির ভাগই সণাতন ধর্মালম্ভীরাই। যাদের পরিবারের লোকজন নিত্য দিনের খরচ যোগাতে হিমশিম খেতে হয়। যদি বা কেউ একদিন কাজে যেতে পারেন না তাহলে পরিবারের লোকজনেরাই অনাহারে থাকতে হয়। নতুন করে বসতবাড়ী তৈরী করাটা তাঁদের পক্ষে সম্ভবকর নয়। তাই এসব পরিবারের লোকজনেরাই বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি তাঁদের বাসস্থান করে দেওয়ার আকুল আবেদন জানান। এবং সরকারীভাবে ভূমি প্রদানের অনুরোধ জানান।

unnamed-1এই গ্রামের বাসিন্ধা মিডিয়াকর্মী মো.মুন্না মিয়া বলেন, মানুষের মৌলিক অধিকার পূরণের জন্য বর্তমান সরকার আন্তরিক। তাই পাইলগাঁও গ্রামের এসব গরীব অসহায় ভূমিহীন পরিবারের মধ্যে ভূমি প্রদান করে সরকারীভাবে তাঁদের বাসস্থান তৈরী করে দিতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের প্রতি সদয় দৃষ্টি কামনা করেন।
এদিকে- উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া জগন্নাথপুর ভায়া ওসমানীনগর উপজেলার বেগমপুর রাস্তাটি কুশিয়ারা নদীর ভাঙ্গনে বিলীন হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে স্থানীয় জালালপুর(ভাঙ্গাবাড়ী) এলাকায় রাস্তার সাথে সংযোগ করেছে কুশিয়ারার ভাঙ্গন। ভাঙ্গনের ফলে জগন্নাথপুর ও ওসমানীনগর উপজেলা বাসীর যান চলাচল বিচ্ছিন্ন হয়ে পরেছে। প্রতিদিন কয়েক শত যানবাহন এ ভাঙ্গাচুরা রাস্তা দিয়ে চলাচল করে থাকে। ভাঙ্গনের ফলে বর্তমানে সড়ক দিয়ে যাতায়াত ও যান চলাচল জীবনের ঝুঁকি হয়ে দাড়িয়েছে। জালালপুর গ্রামের অনেক বাড়ি-ঘর এযাবত কুশিয়ারা নদীর গর্বে বিলীন হয়ে গেছে। বিলীন হয়ে যাওয়ার ফলে এই এলাকাকে ভাঙ্গাবাড়ী নামে স্থানীয়রা

ইতোমধ্যে ডাকা শুরু করেছেন। বর্তমানে সেখানকার ঘরবাড়ী ও একটি মসজিদ কুশিয়ারার ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গাবাড়ী বা জালালপুর গ্রামকে রক্ষা করতে কোনো সময় প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিদের তেমন কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। যার কারণে দিন দিন কুশিয়ারার কাছে হার মানতে হয় সেখানকার বসবাসকারীদের।

স্থানীয়দের সাথে আলাপকালে জানাযায়- একসাথে কয়েকদিন বৃষ্টিপাতের কারণে আবারোও এই রাস্তাটি ভাঙ্গনের মুখে পরে। ফলে এ রাস্তা দিয়ে যানচলা ঝুঁকি নিয়ে করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব সমস্যার সম্মুখিন হয়ে আসতে হচ্ছে আমাদেরকে। তাই এসব সমস্যার সমাধান অতিদ্রুত গতিতে সমাধানের জন্য আমাদের এমপি মহোদয় বর্তমান সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম.এ মান্নানসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গ ও জনপ্রতিনিধিদের এবং সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অপরদিকে- উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের রাণীগঞ্জ বাজার,বাগময়না গ্রাম,নোয়াগাঁও এবং আশারকান্দি ইউনিয়নের বড় ফেচি বাজার এলাকায় নদী ভাঙ্গনে ব্যাপক ক্রয় ক্ষতি হয়েছে।

জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান- আমি ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করে আসছি এবং উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে তাৎক্ষনিক ভাবে সংস্কার করার জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।#

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: