সর্বশেষ আপডেট : ১০ মিনিট ২০ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেটে টানা বৃষ্টি : শীতল আবহাওয়ায় জনজীবনে স্থবিরতা

brishty-weatherবিশেষ প্রতিবেদক  ::
হঠাৎ রাতে আকাশের মেঘ গর্জন। তারপর বৃষ্টি। গত তিন ধরে সিলেটে থেমে থেমে বৃষ্টি ঝরছে। সঙ্গে মৃদ্যু ঠান্ডা বাতাস। যেন এই বৃষ্টি সঙ্গে করে নিয়ে এল শীত । বাইরে শীতের তীব্রতা বাড়ায় প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘরের বাইরে বেরোচ্ছেন না। জন জীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। পাশাপাশি অবিরাম বৃষ্টির জলে নগরের অনেক ড্রেন উপচে গেছে। রাস্তায় জমেছে কাদাপানি। এতে পথচলায় নগরজীবনে চরম ভোগান্তি হচ্ছে।

আবহাওয়া অফিস সূত্র বলছে, আজও ঠান্ডা বাতাস বইবে। সঙ্গে থাকবে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। গত শুক্রবার থেকে বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে সিলেটে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। গতকাল সিলেটে বৃষ্টিপাতের রেকর্ড ছিল ২৫.৬ মিলিমিটার। আজ দিনে তা ২১.৫ মিলিমিটারে থাকতে পারে।

নগর ঘুরে দেখা গেছে, গতকাল অফিস-আদালতে লোকজনের উপস্থিতি কম ছিল। একটু পর পর বৃষ্টি হওয়ার কারণে লোকজন খুব একটা বাইরে বের হননি। অন্যদিন আদালত প্রাঙ্গণে লোকজনের ভিড় থাকে , গতকাল ছিল ফাঁকা। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতেও অন্যদিনের চেয়ে মানুষ কম গমনাগমন করেন। কেউ বা বিশেষ কাজে সরকারি প্রতিষ্ঠানে এলেও বৃষ্টিবন্দি হয়ে একা একা ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষায় ছিলেন।

আদালতে আগত লিয়াকত আলী জানান, বৃষ্টির কারণে কোর্টে জরুরি কিছু কাজ করতে পারিনি। একজন এলে, অন্যজন আসেননি। তাছাড়া বৃষ্টিতে ৫ মিনিটের কাজ করতে গিয়ে একজনের লেগেছে আধঘন্টা। বৃষ্টির কারণে বন্দি সময় পার করতে হয়েছে। তাই অনেক কাজই আটকে যায়। একই সঙ্গে শীতের কারণে দুপুর হতে না হতেই মানুষজন বাসাবাড়িতে চলে যায়।
সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশনে যাত্রী সংখ্যা অন্য দিনের তুলনায় কম ছিল। অন্যদিন বাস ১৫ মিনিট পর পর বাস ছেড়ে যেত, গতকাল দু ঘন্টা অপেক্ষা করেও একটি বাস যাত্রী বোঝাই হয়নি। তাছাড়া টার্মিনালে পানি জমে যাত্রীদের কাদাজলে বিরক্তিকর অবস্থার মুখে পড়তে হয়েছে। সিলেট রেল স্টেশনে অন্যদিন কাউন্টারে গিয়ে টিকিট পান না যাত্রীরা। গতকাল দিনভর কাউন্টার ছিল ফাঁকা।

স্টেশনের পত্রিকা হকার নুরুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টির কারণে ট্রেনের যাত্রীরা নেই। তাই পত্রিকা বিকিকিনি তেমন হয়নি।
এদিকে, নগরীর বিভিন্ন রাস্তা ভাঙাচোরা; বৃষ্টি হওয়ায় এসব রাস্তার ইট পিচ ওঠে গিয়ে গর্তে পানি জমেছে। কাদাপানি মাড়িয়ে চলছে গাড়ি। এতে বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে জটলার সৃষ্টি হয়। নগরীর কালীঘাট, শেখঘাট ও ভাতালিয়া এলাকার রাস্তাগুলোতে পানি জমে ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

শেখঘাটের সায়েম আহমদ জানান, এলাকার অনেক রাস্তায় খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। এসব রাস্তায় বৃষ্টির পানি জমে পথচারীদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঠান্ডায় জনজীবন থেমে গেছে।

মেজরটিলার জাহানপুরের বাসিন্দা ছাদেকুর রহমান বলেন, এই বৃষ্টি ক্ষতির চেয়ে উপকারই করছে বেশি। বৃষ্টির কারণে সিলেটে শীতের আমেজ নেমে এসেছে। অন্যদিকে, এ বৃষ্টিতে শহরে হালকা ভোগান্তি নেমে এলেও গ্রামের কৃষকদের ধান ক্ষেতের উপকার হচ্ছে। অঘ্রানের ধানের শিষ ভেদ করে তোড় বের হবে।’

সিলেট গণদাবি পরিষদের কর্মী নুরুদ্দিন রাসেল বলেন, হঠাৎ বৃষ্টিতে আর ঠান্ডা বাতাসে শিশুরা মানাতে পারছে না। আমার নিজেরই সর্দি-জ্বর হয়ে গেছে। পরিচিত অনেক পরিবারের শিশুরা ঠান্ডায় অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

সিলেটের আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী বলেন, নিম্নচাপের কারণে বৃষ্টি হচ্ছে। শীত চলে এসেছে। তাই বৃষ্টিতে ঠান্ডা বাতাস বইছে। এ অবস্থা আজ পর্যন্ত চলবে। তবে, আগামীকাল থেকে রোদ ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: