সর্বশেষ আপডেট : ৫ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিলেটে পর্যটন মোটেলে ওপেন বার :: চাইলেই হাতের কাছে মদ…! (পর্ব-১)

sylhet-bar-news-dailysylhetহাসান মো. শামীম::
শাহজালাল শাহ পরানের পুণ্যভূমি সিলেট। সারা দেশে আধ্যত্বিক রাজধানী বলে খ্যাত ৩৬০ আঊলিয়ার এই নগরী। দেশের অন্যান্য স্থানের তুলনায় এই অঞ্চলের মানুষ প্রকৃতিগত ভাবেই একটু ধর্মপরায়ণ। অথচ এই সিলেটেই চালু হয়েছে ওপেন মদের বার ! পবিত্র এই নগরীর নামের সাথে মিল রেখে তার নামকরণ করা হয়েছে ‘সিলেট বার’! অবিশ্বাস্য হলেও সত্য প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে গত তিন বছর ধরে সিলেট পর্যটন মোটেলে চলছে এই কর্মকান্ড। সরকার অনুমোদিত লাইসেন্স থাকলেও সিলেট এয়ারপোর্ট থানার দশ মিনিট দুরত্বে থাকা এই ওপেন বারে বিক্রি হচ্ছে দেশি বিদেশী বৈধ অবৈধ প্রায় সব ধরনের মদ।
মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের কাছ থেকে নেওয়া মদ বিক্রির লাইসেন্সের অপব্যবহার করে দেদারসে সিলেটের নতুন প্রজন্মকে সরবরাহ করা হচ্ছে জীবণ নাশী সুরা। সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার হচ্ছে এর প্রধান ক্রেতা হচ্ছে উঠতি বয়সের স্কুল পড়ূয়া কিশোর তরুণরা। মদ বিক্রির ব্যাপারে শুধুমাত্র মদ পানের লাইসেন্সধারিদের মদ সরবরাহের কথা থাকলেও মানা হচ্ছেনা সেই আইন ! যে কোন বয়সী মানুষ চাইলেই হাতের কাছে পাচ্ছেন মদ! অপ্রাপ্ত বয়স্করা সন্ধ্যা রাতে তিন তলা এই বারে বসেই পান করছেন বিভিন্ন জাতের পানীয়, কখনোবা বারের কর্মচারীদের টিপস দিয়ে, সাথে করে বাসায় নিয়ে যাচ্ছেন আস্ত মদের বোতল! অভিভাবকরাও ঘুণাক্ষরে জানতে পারছেন না কিভাবে বখে যাচ্ছে তার আদরের সন্তান। অগোচোরেই দিনকে দিন সিলেটে বাড়ছে সামাজিক অবক্ষয়! অথচ এ ভাবে সবার কাছে মদ বিক্রির নির্দেশনা আছে বলে অদ্ভুত এক দাবি করেছেন পর্যটন মোটেল “সিলেট বার” বার ম্যানেজার বেলাল হোসেন!
এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিন শহরতলির পর্যটন এলাকায় গেলে দেখা যায় মোটরবাইকে করে প্রায় প্রতি ১০ মিনিটে তরুণরা ভিড় জমাচ্ছেন সিলেট বারে! নিচ তলার পার্কিং স্পটে গাড়ি রেখেই তারা চলে যান তিন তলায়! দ্বিতীয় তলায় তথাকথিত রেস্টুরেন্ট! ম্যানেজার বেলাল হোসেন পাওয়া গেলো পার্কি স্পটে! পরিচয় পেয়ে এই প্রতিবেদককে নিয়ে বসান দোতলায় রেস্টুরেন্টে। পুরো রেস্টুরেন্ট তখন খালি! অথচ চোখে পড়ছিল নানা বয়সী মানুষজনের উপরে উঠার দৃশ্য!
sylhet-barবেলাল হোসেন বলেন ২০১৪-১৫ সালে সরকারি দরপত্রে সর্বোচ্চ টাকা দিয়ে এই ওপেন বারের লিজ পেয়েছেন তারা। লিজ এক বছর মেয়াদী হলেও তারা আছেন দু বছর ধরে! তিনি জানান যুব সমাজ বিভিন্ন ধরনের মাদকে আসক্ত, এই সব মাদক তারা ক্রয় করছে অবৈধ উপায়ে। তাই সরকার ওপেন বারের লিজ দিয়েছে যাতে অন্তত কর পাওয়া যায়! এখানে যে কোন বয়সী মানুষ এসে মদ পান করতে পারে কিন্তু মহিলারা এখানে আসতে পারবেন না! তবে ক্রেতা প্রাপ্তবয়স্ক না অপ্রাপ্ত বয়স্ক সেটা দেখার জন্য পর্যাপ্ত লোকবল নেই স্বীকার করে তিনি বলেন এখানে লাইসেন্সধারীরাই যে মদ খেতে পারবে এমন কোন নিয়ম নেই, এটা ওপেন বার! তবে তার কথার বিপরীত কথাই বলেন পর্যটন মোটেলের ম্যানেজার জাহিদ। তিনি বলেন এখানে মদ পান করতে হলে অবশ্যই লাইসেন্সধারী হতে হবে, না হলে প্রাপ্ত বয়স্কও কারো কাছে মদ বিক্রি করা যাবেনা! অপ্রাপ্ত বয়স্কদের পেগ হিসেবে মদ বিক্রি ও বারের বাইরে মদের বোতল নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটি তিনি দেখবেন বলে জানান!
বার ম্যানেজার বেলাল হোসেনের বক্তব্য অনুযায়ী জানা যায় দেশি বিদেশী মদ এখানে বিক্রি করা হলেও ভারতীয় মদ তারা বিক্রি করেন না কারন তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক! তবে এই অঞ্চলে ভারতীয় মদের বাজার অনেক বড় বলেও স্বীকার করেন তিনি।
অভিযোগ আছে এখানে ভারতীয় মদের পর্যাপ্ত মজুদ আছে এবং তা বিপুল পরিমানে ক্রেতাদের কাছে সরবরাহও করা হয়! তবে বেলাল এই অভিযোগ অস্বীকার করেন!
মুলত সরকারী লাইসেন্সের জোরেই তারা যুব সমাজ বিনষ্টকারী কর্মকান্ড চালাতে পারছেন বলে মনে করছেন সিলেটের মানুষ! এ ব্যাপারে সিলেট সিটি কর্পোরেশন এর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন ‘সিলেটে ওপেন বার আছে এটা যেমন আশ্চর্যের ব্যাপার তেমনি হজম করাও মুশকিল! আমাদের ছেলেরা প্রায়ই এয়ারপোর্ট রোডে বাইক রাইডিং এ যায়, এমনটা জানলে কখনো যেতে দিতাম না কারন নষ্ট হওয়ার এত সহজ রাস্তা থাকলে ভাল ছেলেও খারাপ হয়ে যেতে কতক্ষন! হাতে বন্দুক থাকলে যে কারোরই পাখি শিকার করতে ইচ্ছা করে! (চলবে..)

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: