সর্বশেষ আপডেট : ১৪ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

শত বছরের পুরনো পেশা ধরে রেখেছে সাচনাবাজার ইউনিয়নের নৌকা শ্রমিকগণ

unnamed-2মোঃ ওয়ালী উল্লাহ সরকার, জামালগঞ্জ:: ধান নদী খাল তিন উপাদানে জামালগঞ্জের প্রান। জামালগঞ্জের ধানী জমিনের পাশা পাশি অসংখ্য খাল বিল নদী নালা রয়েছে মাকরশার জালের মত। তাই বর্ষা কাল এলেই প্রয়োজন হয় নৌকার । একটি ইউনিয়ন ব্যতিত বাকী পাচটি ইউনিয়নে একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম নৌকা। বর্ষাকাল এলেই নৌকা তৈরির পেশাকে ঘিরে জীবিকার তাগিদে ঘরে উঠেছে সাচনা বাজার ইউনিয়নের সেরমস্তপুর পলকপুর হরিনাকান্দি গ্রামে শতাধিক মানুশের পেশা। পেশাটি হচ্ছে নৌকার কারিগর । শতাধিক বছর বংশ পরমপরায় এ পেশাটি ধরে রেখেছে কয়েকটি গ্রামের শতাধিক পরিবার। এই গ্রামগুলির সবার কাছে নৌকা তৈরির গ্রাম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় শতাধিক মানুষের।

সাচনাবাজার ইউনিয়নের মধ্যে অবস্থিত এই গ্রামগুলির প্রায় সহস্রাধীক পরিবার বসবাস করে এর মধ্যে অর্ধশতাধিক পরিবার নৌকা তৈরীর পেশার সাথে জড়িত । পূর্ব পুরুষরা প্রায় শতাধিক বছরের পুরানো পেশা বর্তমান প্রজন্ম ধরে রেখছে । বর্ষা আসলেই কর্মমুখর হয়ে উঠে এই গ্রামগুলি । সকাল হলেই হাতুরি বাটাল আর কাটের খুট খাট শব্দে মুখরিত হয় এই গ্রামগুলি । মাঝে মধ্যে ক্রেতারা আসে তাদের গ্রামে অন্যথায় সাচনা বাজারে সাপ্তাহিক হাটে সোমবারে বিক্রি করে তাদের নৌকাগুলি । এই গ্রামগুলির মধ্যে শতাধিক পরিবারের সাথে সাপ্তাহিক কিংবা দৈনিক মজুরিতে আবার কেহ কেহ শিক্ষানবিশ হিসাবে কর্মরত আছে আরো প্রায় অর্ধশত পরিবারের কর্মসংস্থান হয়েছে নৌকা তৈরির এ পেশায় । বর্ষকাল আসলে তিন মাস কাজ করে আবার অনেকেই ফিয়ে যায় ঘর তৈরী অথবা কৃষিকাজে । এই পেশায় অনেকে সাবলম্ভী হয়েছে কেহ কেহ বেকার থেকে কর্মসংস্থান হয়েছে অনেকে। সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে প্রতিটি আঙ্গিনায় পলিথিন টানিয়ে আবার কেহ কেহ উপরে ছাপঢ়া দিয়ে ঘর তৈরি করে রেখেছে নৌকা তৈরির জন্য ৩ জনে মিলে ১টি ১৫/২০হাত নৌকা তৈরী করতে পারেন তারা ।সাচনা বাজার ইউনিয়নের নজাতপুর গ্রামে মৃত গোলাম হোসেনের ছেলে নজীর হোসেন (৭০) জানান প্রায় ৩০ বছর ধরে নৌকা বানানোর পেশায় আছেন তিনি । পরিবারের ২ ছেলে ২ মেয়ে । মেয়ে বিয়া দিয়া দিয়েছেন ২ ছেলে তার সাথে নৌকা তৈরীর কাজে ব্যস্ত থাকেন তিনি। সংসার মোটামুটি ভালই চলে । বর্ষাকালে ৩ মাস নৌকা তৈরীর কাজে ব্যস্ত থাকেন। অন্য সময় অন্যের বাড়িতে ঘর তৈরী বা আসবাবপত্র তৈরীর কাজে ব্যস্ত থাকেন ।unnamed-5

তিনি জানান উনার পিতা ও দাদা এই পেশায় ছিলেন । ১টি ১৫ থেকে ২০হাত লম্বা নৌকা বানাইতে খরচ হয় ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা বাজারে নৌকা বিক্রি করেন ৫ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা । নৌকা বিক্রির লভ্যাংশ ছাড়া ও আরো ২/৩শত টাকার লাকড়ী আয় হয় । নৌকা তৈরি করতে কাট, পাট ও পাতাম ও লোহার দরকার হয় । কোন ব্যাংক কিংবা এন.জিও তে এর জন্য ঋণ নেননি । তবে তিনি জানান সুদ মুক্ত ঋণদিলে আমার মত অনেকেই ব্যবসায় সাবলম্ভী হতে পারত । সেরমুস্তপুর গ্রামে মৃত ওয়াজীদ আলীর পুত্র মনসুর আলী (৯০) জানান আষাঢ়, শ্রাবণ ভাদ্র এই তিন মাস নৌকা তৈরি করি । ১ দিনে আমরা বাপপুত ৩ জনে একটা ১৫/২০ হাত লম্বা নৌকা তৈরী করতে পারি। নৌকার এক এক সময় একেক দাম যেমন পানি বেশি হলে নৌকার প্রয়োজন বেশি হয় বা হাওরে পানি ডুকলে নৌকা দিয়া ধান কাটা ও আনার কাজে ব্যবহার করা হয়। বর্ষাকালে মাছ ধরা এই গ্রাম ঐ গ্রামে স্কুলে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার স্কুলে যেতে নৌকার প্রয়োজন হয় । তাই একেক সময় একেক দাম । তবে মোটামুটি ৩ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা ১৫/২০হাত নৌকা তৈরী করতে খরচ হয়র আর বাজারে বিক্রি করি ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার কোন কোন সময় ৫ হাজার টাকা বিক্রি হয় । সপ্তাহে ৬/৭টা নৌকা তৈরী করি। অনেক বছর ধরে এই কাজ করে আমার ছেলে ৩ মাস নৌকা তৈরীর কাজে আমার সাথে থাকে অন্য সময় কৃষি কাজ করে। এককথায় আমরা বেকার থাকি না । এ পেশায় থেকে আমরা ৫ হালজমি ক্রয় করেছি, ইনশাল্লাহ সংসার ভালই চলে। একই গ্রামের আব্দুল সৈয়দের ছেলে ইমান আলীর (৬৫) জনায় আমি ২০/২৫ বছর যাবৎ নৌকা তৈরী কাজ করি আমার পিতা পাকিস্তান আমলে নৌকা তৈরীর কাজ করত উনার কাছ থেকে এই কাজ শিখেছি। আমার ৩ছেলে ৬মেয়ে । ৪ মেয়ে বিয়ে দিয়েছি । ১মেয়ে সাচনা বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে এস.এস.সি পরীক্ষার্থী ১ ছেলে জামালগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে লেখা পড়া করে । বাকী ২ছেলে নৌকা তৈরীর কাজ করে। আমরা ৩জন প্রতিদিন ১টা নৌকা বানাইতে পারি । এই পেশায় কোন রকম সংসার চলে। এই কাজ আমাদের পূর্ব পুরুষরা করে এসেছে তাই আমারাও করি। প্রতিটি নৌকায় ৮০০ থেকে ১ হাজার লাভ হয় । সপ্তাহে ৫/৬টা নৌকা বানাইতে পারি। আমাদের মধ্যে যাদের কাট কিনার টাকা নাই তারা গ্রামের মহাজনদের কাছ থেকে শতকরা লাভে টাকা আনেন । নৌকা বিক্রি করে আবার টাকা দিয়া দেয়। আমাদের গ্রামের ৫০/৬০টি পরিবার নৌকা তৈরীর কাজে করে সাবলম্ভী হয়েছে। আমার বাচ্চাদের লেখাপড়ার খরচ এ ব্যবসায় আয় থেকে চলে। লিপসা মধ্যনগর ও সাচনাবাজার থেকে কাট আনি । রেন্টি, জারুল, কদম ,চাম্বল, কোমাকাট দিয়ে নৌকা তৈরী করি । একেক কাটের নৌকার একেক দাম । কাট, লোহা পাট ও পাতাম দিয়ে নৌকা তৈরী করি। বর্ষাকালে আমাদের এলাকায় নৌকা ছাড়া চলাফেরা করা যায় না। তাই নৌকার প্রয়োজন হলে আমাদের কাছ থেকে নিয়ে যায়। সাচনা বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব রেজাউল করিম শামীম বলেন আমাদের গ্রামের নৌকা শ্রমিকরা নৌকা তৈরী করে সামলম্ভী হয়েছেন। এই পেশা না থাকলে তারা বেকার থাকত। তাদেরকে সরকার অথবা এনজিও সংস্থা যদি সুদ মুক্ত ঋন দিয়ে সহায়তা করেতা হলে তারা আরো উপকৃত হত। তাই আমি সরকারী উর্ধ্বনতন মহলের নিকচ জোর দাবী জানাচ্ছি তাদেরকে সুদ মুক্ত ঋন দিয়ে আমার ইউনিয়নে কর্মসৃজন নৌকা শ্রমিকদের উন্নয়নে সহায়তা করার জন্য।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: