সর্বশেষ আপডেট : ৪৪ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘নোংরা’ পথে ভোটের লড়াই!

1478403132আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: পাল্টে যাচ্ছে আমেরিকার ভোটের রাজনীতি। দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ইতিহাস ২২৮ বছরের পুরনো। ১৭৮৮ সালে প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন দেশটির জাতির পিতা জর্জ ওয়াশিংটন। সেই সমৃদ্ধ ইতিহাসকে পেছনে ফেলে একবিংশ শতাব্দীর রাজনীতিতে ‘নোংরা’ পথে এগোচ্ছে মার্কিনীদের ভোটের লড়াই। নির্বাচনী প্রচারে চলছে পর্বত সমান বাহাস। কিন্তু বাস্তবতা যেন সেই বাহাসকেও হার মানাতে বসেছে।

নির্বাচনের আর মাত্র দুদিন বাকী থাকলেও এখন পর্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আর তাতেই চিন্তিত হয়ে পড়েছে হিলারি শিবির। জনপ্রিয়তায় হিলারির চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারণার ধরণ যেন ‘গায়ে মানে না, আপনি মোড়ল।’ অর্থের জোরে সর্বত্র এক আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে। সর্বশেষ শুক্রবার সিএনএন-এর এক জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের চেয়ে হিলারি ৫ শতাংশ এগিয়ে রয়েছেন। কিন্তু কোনো জরিপকেই তোয়াক্কা করছেন না ডোনাল্ড ট্রাম্প। ধরেই নিয়েছেন তিনি প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন। আর পরাজিত হলে হিলারিকে ক্ষমতা থেকে টেনে হিঁচড়ে নামাবেন তার ব্যবস্থা করছেন এখন থেকেই। সিনেটে রিপাবলিকানরা ঘোষণাই দিয়েছেন তারা হিলারিকে অভিশংসন করাবেন। এ জন্য যে তথ্য প্রমাণ তাদের কাছে আছে অভিশংসনের জন্য তা-ই যথেষ্ট। এসব বাহাসই যেন দিন দিন জোরালো হচ্ছে। এতে ডেমোক্রেটরা কিছুটা হলেও চুপসে পড়েছেন।আর এ সুযোগ নির্বাচনী ডামাডোলে গা ভাসাচ্ছেন রিপাবলিকান ট্রাম্পের সমর্থকেরা।

এদিকে যে কোন উপায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হবার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। পেশায় ব্যবসায়ী। নগদ অর্থসহ ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ রয়েছে তার। আর তার এই অর্থবিত্তের কাছে ধরাশায়ী হয়েছে মার্কিন রিপাবলিকান রাজনীতি। ডোনাল্ড ট্রাম্প এমনই একজন প্রার্থী যার বিরুদ্ধে রয়েছে ধর্ষণের অভিযোগ। আছে ১৮ বছর ধরে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ। আরো অনেক অভিযোগ থাকলেও কোন কিছুকেই গায়ে মাখছেন না ট্রাম্প। একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের শুধুই ভালো গুণ থাকাটাই যোগ্যতা বলে ধরে নেওয়া হয়। অথচ ট্রাম্প সেইসব ভালো প্রথা ভেঙেই চলেছেন। আর ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জয়ী হওয়ার জন্য এই অভিযোগগুলোই যেন হিলারি ক্লিনটনের বড় হাতিয়ার। তা হলে ট্রাম্পই যে নিশ্চিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট হতেন তা সবাই একবাক্যে বলছেন। হিলারি যে প্রেসিডেন্ট হিসাবে ভালো প্রার্থী নন তা ডেমোক্রেটদের বড় একটি অংশ মনে করে। যে কারণে প্রাইমারিতে নতুন প্রজন্ম বেছে নিয়েছিল বয়সের ভারে ন্যুব্জ বার্নি স্যান্ডারসকে।

গণতান্ত্রিক দেশ হিসাবে আমেরিকা বিশ্বের কাছে মডেল, অথচ সেই দেশের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসাবে ট্রাম্প আগাম ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন- নির্বাচনে হেরে গেলে তিনি ফল মেনে নেবেন না। এসব কথাবার্তাই বলে দিচ্ছে মার্কিন রাজনীতি কোন পথে এগোচ্ছে। তবে ট্রাম্প পরাজিত হলে তার নির্বাচনী প্রচারণাগুলো বাহাস হিসাবেই ইতিহাসের পাতায় স্থান পাবে, এমনটাই ভাবছে মার্কিনীরা।

এদিকে ট্রাম্পের এই নেতিবাচক প্রচারণা কোথাও কোথাও বিক্ষুব্ধ করছে ডেমোক্রেটদের। ভোটের দিন হিলারির ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনতে বাধা দেওয়া হতে পারে এমনও শোনা যাচ্ছে। এরকম কিছু হলে বসে থাকবে না হিলারি শিবিরও। যার প্রমাণ পাওয়া গেছে কলোরাডো রাজ্যের ডেনভারে। সেখানে শুক্রবার ট্রাম্পের নির্বাচনী ক্যাম্প তছনছ করে দিয়েছে কে বা কারা। এসব ঘটনা মার্কিন রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব যে পড়বে না তা এই মুহূর্তে বলা সহজ হবে না।

এদিকে সিএনএন শুক্রবার সর্বশেষ ইলেকটোরাল কলেজ ম্যাপ প্রকাশ করেছে। ‘রোড টু ২৭০’ নামের এই ম্যাপে শেষ তিন পর্যন্ত ট্রাম্প কিছুটা ভালোর দিকে গেলেও হিলারির অবস্থান ‘স্পষ্ট’ বলা হচ্ছে। অর্থাৎ হিলারি ইলেকটোরাল ভোটে জয়ী হচ্ছেন। আর তিনিই হবেন ৪৫তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সিএনএন-এর এই ম্যাপে শনিবার ভোর পর্যন্ত হিলারির নিশ্চিত ইলেকটোরাল ভোট দেখানো হচ্ছে ২৬৮টি। অন্যদিকে ট্রাম্প পাচ্ছেন নিশ্চিত ২০৪টি। মেইন, নিউ হ্যাম্পশায়ার, ওহাইও ও উটাহ ব্যাটলগ্রাউন্ডে রয়েছে ৬৬টি ইলেকটোরাল ভোট।

এরমধ্যে নিউ হ্যাম্পশায়ারের ভোট হিলারির কাছ থেকে ব্যাটলগ্রাউন্ডের দিকে ঝুঁকছে। বাকি তিনটি ব্যাটলগ্রাউন্ড থেকে ঝুঁকছে ট্রাম্পের দিকে। এ ক্ষেত্রে ট্রাম্প কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। তবে কলোরাডো, পেনসিলভানিয়া, মিশিগান, উইসকনসিন ও ডিসট্রিক্ট অব কলম্বিয়ার (ওয়াশিংটন ডিসি) ইলেকটোরাল ভোট হিলারির দিকেই ঝুঁকছে। অন্যদিকে ট্রাম্পের দিকে ঝুঁকছে জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলিনা, অ্যারিজোনা ও নেভাডার ইলেকটোরাল ভোট। নির্বাচনের দিন যতই কাছে আসছে ভোটের এই সমীকরণ ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।

এদিকে ভোটের দিন নিউইয়র্ক, টেক্সাস ও অ্যারিজোনায় আল-কায়েদার হামলার হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আল-কায়েদার এই হুমকি তিনটি রাজ্যে কেন তা বিশ্লেষণ করছেন গোয়েন্দারা। নির্বাচনী বাহাসের সঙ্গে অর্থাৎ ভীতি ছড়ানোর জন্য এমনটি করা হয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে যে তিনটি রাজ্যে হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে এই তিনটি রাজ্যের ভোট মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ। ভয়ে যদি ভোটাররা কেন্দ্রে না আসেন তাহলে ওলটপালট হয়ে যেতে পারে ভোটের হিসাব। তবে ডেমোক্রেটদের ভোটকেন্দ্রে আসতে বাধা দেওয়া হতে পারে এমন অভিযোগ রয়েছে হিলারি শিবিরের। এসব কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে সর্বত্র বিরাজ করছে গুমোট হাওয়া।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: