সর্বশেষ আপডেট : ১০ মিনিট ০ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বিশ্বনাথে পিতৃহত্যার বিচার চাওয়ায় ৫৬ মামলার আসামি ‘সোনাপুত’

1345128360_বিশ্বনাথ প্রতিনিধি  ::
বিশ্বনাথে পিতা হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে হত্যা মামলার কারণে ৫৬টি মামলার আসামি হয়েছেন বিশ্বনাথে সোনাপুত নামের পরিচিত আহমেদ রেজা ইদ্রিস। তিনি উপজেলা খাজাঞ্চী ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের মৃত রাশিদ আলীর পুত্র। আহমদ রেজা ইদ্রিসের অভিযোগ, তার পিতাকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাটি ধামাচাপা দিতে একের পর এক মামলার শিকার হন তিনি। বর্তমানে চাঞ্চল্যকর দিনমজুর মনাফ হত্যা মামলায় তাকে (ইদ্রিস) জাড়ানোর অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কুচক্রী মহল। এর ফলে এপর্যন্ত ৫৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। শুধু মামলাও নয়, পিতা হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে গ্রাম্য পঞ্চায়েত থেকে বাদ দেয় প্রভাবশালী ধনাঢ্য মহল। দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ তাকে একঘরে করে রাখা হয়। কেউ তার সাথে কথা বললে কিংবা তিনি কারো কাছে সামাজিক কথাবার্তা বললে গ্রামের মোড়ল-মাতব্বররা তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকিও নানা ভাবে হয়রানি করেন বলে অভিযোগ করেন। পঞ্চায়েতের বাদ দেওয়ায় বিভিন্ন সমস্যায় সামাজিক সমাধান থেকে বঞ্চিত হওয়ায় অনেক সময় বাধ্য হয়ে তিনি আইনের আশ্রয় নেন। এতে গ্রাম্য মোড়ল-মাতব্বররা তাকে মামলাবাজ হিসেবে বিভিন্নজনের কাছে প্রচার করে থাকেন বলে তিনি জানান। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, সামাজিক বিচার থেকে বঞ্চিত হয়ে আইন-আদালতের আশ্রয় নেওয়া কি অপরাধ? আহমদ রেজা ইদ্রিস আদালতে প্রায় ৫০টি মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন এবং অপর মামলাগুলোতে জামিনে রয়েছেন বলে জানান।

জানা গেছে, হরিপুর গ্রামের মৃত রাশীদ আলী ১৯৮৯ সালে একই গ্রামের বশারত আলীদের বিরুদ্ধে একটি স্বত্ব মামলা দায়ের করেন। ১৯৯৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর খুন হন আহমদ রেজা ইদ্রিসের পিতা রাশীদ আলী। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষের লোকজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন রাশীদ আলীর একমাত্র পুত্র আহমেদ রেজা ইদ্রিস। মামলাটি সিলেট অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-৫ম এ বিচারাধীন রয়েছে।

আহমদ রেজা ইদ্রিস অভিযোগ করেন, তিনি তার পিতার হত্যাকারীদের বিচার চাইতে গিয়ে মামলা করেন। মামলাটির কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করতে মামলার অন্যতম আসামি মৃত বশারত আলীর পুত্র সিরাজ মিয়া উরফে মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী একের পর এক ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করেন তাঁর বিরুদ্ধে। প্রায় সকল মামলায়ই প্রত্যেক্ষ এবং পরোক্ষভাবে মদদ রয়েছে সিরাজ মিয়ার (মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী)। আহমদ রেজা ইদ্রিসের পিতা মৃত রাশিদ আলীর দায়েরকৃত স্বত্ব মামলা ও পরবর্তীকালে পিতৃহত্যা মামলা দুটি গ্রামের মোড়ল-মাতব্বর ও দালাল চক্র টাকা দিয়ে আপসে নিষ্পত্তির প্রস্তাব দিলে তিনি (ইদ্রিস) তা প্রত্যাখান করেন। তাই তাঁকে পঞ্চায়েতের বাদ দিয়ে একঘরে (বয়কট) করে রাখা হয়। ২০১৫ সালে নিহত হন হরিপুর গ্রামের দিনমজুর আব্দুল মনাফ। এ ঘটনায় আব্দুল মনাফকে অপহরণের পর একমাত্র দেখা সাক্ষী ও পুনরায় ময়নাতদন্ত করার আবেদনে এলাকাবাসীর পক্ষে প্রথম স্বাক্ষরকারী এবং সিআইডিকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করায় ষড়যন্ত্রকারী মহল ক্ষিপ্ত হয়ে মনাফ হত্যামামলায় তাঁকে (ইদ্রিস) ফাঁসানো চেষ্টা করে। এরই ধারাবাহিকতায় আহমদ রেজা ইদ্রিসের উপর একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এ ব্যাপারে সিরাজ মিয়া উরফে মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে সাংবাদিকদের বলেন, আহমদ রেজা ইদ্রিস আমার উপর ৭/৮ টি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। আর আমি তার উপর দুটি মামলা দায়ের করি। আব্দুল মনাফ হত্যা মামলায় তাকে (ইদ্রিস) কেউ ফাঁসায়নি তিনি নিজেই ফেঁসেছেন। তিনি (ইদ্রিস) শুধু পঞ্চায়েত নয়; ১০ গ্রামের বাদ। ইদ্রিস একজন মামলাবাজ হিসেবে এলাকায় পরিচিত বলে অভিযোগ করেন সিরাজ মিয়া।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: