সর্বশেষ আপডেট : ৩১ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কমলগঞ্জে স’মিল শ্রমিক সংঘের কমিটি গঠন

komiকুলাউড়া অফিস:: স’মিল শ্রমিক সংঘের কমলগঞ্জ উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুগাছ বাজারে অনুষ্ঠিত এক শ্রমিক সভার মাধ্যমে মোঃ মাখন বক্তকে সভাপতি ও মোঃ মোস্তাক মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট স’মিল শ্রমিক সংঘ কমলগঞ্জ উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত শ্রমিক সভায় সভাপতিত্ব করেন স’মিল শ্রমিক সংঘ ভানুগাছ আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মোঃ আব্দুল মজিদ।

সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস, স’মিল শ্রমিক সংঘ সিলেট বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন ও মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সভাপতি মোঃ আরজান আলী। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স’মিল শ্রমিক সংঘ শ্রীমঙ্গল উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান, কমলগঞ্জ উপজেলা কমিটির নেতা রমজান আলী, মজিদ বক্ত, শাহিন মিয়া, ফটিক মিয়া , ছালামত মিয়া, মোঃ মানিক মিয়া, মোঃ এমরান মিয়া প্রমূখ। বক্তারা বলেন দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর ২০১৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর স’মিল সেক্টরে কর্মরত শ্রমিক কর্মচারীদের জন্য নিম্নতম মজুরি ঘোষণা করে গেজেট(এস. আর. ও. নং ২৩৪-আইন/২০১৪) প্রকাশ করেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে সরকার গেজেট প্রকাশ করে আইন জারী করার পরও নিম্নতম মজুরির গেজেট কার্যকর হয়নি। শুধু তাই নয় স’মিল শ্রমিকরা দৈনিক ৮ ঘন্টা কর্মদিবসসহ দেশের প্রচলিত শ্রম আইনের সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত। স’মিল সেক্টরে শ্রমিকদের কাজের কোন নির্দিষ্ট কর্মঘন্টা নাই, অর্জিত ছুটি, চিকিৎসা ছুটি, উৎসব ছুটিসহ শ্রমআইনের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধাও কার্যকর করা হয় না। সাপ্তাহিক ছুটি প্রদান করা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ছুটির দিনের মজুরি দেওয়া হয় না। শ্রমআইনে নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, সার্ভিসবুক প্রদান বাধ্যতামূলক হলেও মালিকরা এসবের ধারধারেন না। বাংলাদেশ শ্রমআইন-এর ৫ ধারায় নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র, ৬ ধারায় সার্ভিস বই, ১০ ধারায় চাকুরীচ্যূতি জনিত ৪ মাসের নোটিশ পে, প্রতিবছর চাকুরীর জন্য ৪৫ দিনের গ্রাচ্যুয়েটি, ১০৩ ধারায় সপ্তাহে দেড়দিন সাপ্তাহিক ছুটি, ১০৮ ধারায় দৈনিক ৮ ঘন্টা সপ্তাহে ৪৮ ঘন্টা কাজ, অতিরিক্ত কাজের জন্য দ্বিগুণ মজুরি প্রদান, ১১৫ ধারায় বছরে ১০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি, ১১৬ ধারায় ১৪ দিন অসুস্থাতার ছুটি, ১১৭ ধারায় প্রতি ১৮ দিন কাজের জন্য ১ দিন অর্জিত ছুটি, ১১৮ ধারায় ১১ দিন উৎসব ছুটি প্রদানের আইন থাকলেও স’মিল শ্রমিকদেরকে এই সকল আইনগত অধিকার হতে বঞ্চিত করা হচ্ছে। স’মিল শ্রমিকদের যেমন নেই কাজের পোষাক, মাক্স, চশমা, গ্লাভস, তেমনি প্রতিষ্টানে ক্রেন ও ট্রলি না থাকায় স’মিল শ্রমিকরা অমানবিক পরিশ্রম করে বিরাট বিরাট গাছ টেনে মেশিনে তুলতে গিয়ে প্রায়ই দূর্ঘটনার শিকার হন। কিন্তু মালিকরা আহত শ্রমিকদের কোন ক্ষতিপুরণ বা উপযুক্ত চিকিৎসা খরচ প্রদান করেন না। তাই শ্রমিকদের এসব সমস্যা সমাধানে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে গঠিত স’মিল শ্রমিক সংঘ কমলগঞ্জ উপজেলা কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা হলেন সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুল মজিদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ রমজান আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মানিক মিয়া, কোষাধ্যক্ষ মোঃ ছালামত মিয়া, সহ-কোষাধ্যক্ষ মোঃ ফটিক মিয়া, প্রচার সম্পাদক মোঃ এমরান মিয়া, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোঃ আফজাল মিয়া, সদস্য মজিদ বক্ত, জাহাঙ্গীর আলম, শাহিন মিয়া। সভা থেকে স’মিল সেক্টরে সরকার ঘোষিত নিম্নতম মজুরির গেজেট কার্যকর, ৮ ঘন্টা কর্মদিবস, নিয়োগ পত্র, পরিচয় পত্রসহ শ্রম আইন বাস্তবায়ন এবং কর্মক্ষেত্রে কাজের পোষাক, মাক্স, হ্যামলেটসহ উপযুক্ত নিরাপত্তা প্রদানের দাবি জানানো হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: