সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ১০ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ঠিকাদারের ‘উপহার’ বাঁশের সাঁকো

1478325584নিউজ ডেস্ক:: ‘আমাদের কী সৌভাগ্য, পাকা সেতুর বদলে বাঁশের সাঁকো উপহার পেয়েছি!’ কয়েকদিন আগে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শিবগঞ্জ-নেকমরদ সড়কে বাঁশের একটি সাঁকো পারাপারে বিড়ম্বনার কথা বলতে গিয়ে এ কথা বলেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা জামালপুর ইউনিয়নের ভগদগাজী গ্রামের বাসিন্দা আবদুল জব্বার।

ওই সড়কের কাশিডাঙ্গা এলাকায় পুরানো একটি পাকা সেতু ছিল। গত বছরের শুরুতে সেতুর মাঝখানে গর্ত সৃষ্টি হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে নতুন সেতু নির্মাণে সেটি ভেঙে ফেলা হয়।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) ঠাকুরগাঁও সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের জুলাই মাসে নর্দান বাংলাদেশ ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় এলজিইডি ভগদগাজি থেকে শিবগঞ্জ পর্যন্ত চার দশমিক দুই কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক মেরামতের উদ্যোগ নেয়। সেতুটি ওই সড়কে পড়ায় সেটিও নির্মাণের আওতায় আনা হয়। সেতুসহ সড়ক মেরামতের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় পাঁচ কোটি ২৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। কাজটি পান শহরের ঠিকাদার রামবাবু।

ওই বছরের ২৬ আগস্ট তাকে কার্যাদেশ দেয়া হয়। কার্যাদেশের শর্তানুযায়ী কাজটি এ বছরের ৩০ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা। ফেব্রুয়ারি মাসে নতুন সেতু নির্মাণের জন্য পুরানো সেতুটি ভেঙে ফেলা হয়। সেতুটি ভেঙে ফেলার সময় ঠিকাদার সেতুর পাশে বিকল্প সড়ক নির্মাণ করে দেন। বর্ষা শুরু হলে বিকল্প সড়কটি পানিতে তলিয়ে যায়। এতে ওই পথে চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে লোকজনের পারাপারে ওই জায়গায় বাঁশের সাঁকো বানিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা করে দেন ঠিকাদার।

সরেজমিনে জানা গেছে, বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে শিশু ও বৃদ্ধসহ নানা বয়সের মানুষ। ওই এলাকার চলাচলের সময় লোকজন বলেন, ‘কষ্ট হলেও ভাঙা সেতু দিয়ে যাতায়াত করা যেত। সেতুটি ভেঙে ফেলার পর ঠিকাদার বাঁশের সাঁকো তৈরি করায় চলাচল আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। গত কয়েক দিনে সাঁকো থেকে পাঁচ থেকে ছয়জন মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেলের আরোহী পানিতে পড়ে গেছেন।’

স্থানীয় আরো কয়েকজন বলেন, ওই সেতু দিয়ে এলাকার কয়েকটি গ্রামের মানুষ চলাচল করে। কিন্তু সেখানে বাঁশের সাঁকো দেয়ায় উৎপাদিত পণ্য পাশের হাটবাজারে নিয়ে যেতে তাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম চৌধুরী জানান, একাধিকবার ঠিকাদার ও প্রকৌশলীকে অনুরোধ করলেও এখন পর্যন্ত কাজ শুরু হয়নি। যে কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।

ঠিকাদার রামবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে তিনি কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

ঠাকুরগাঁও এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী কান্তেশ্বর বর্ম্বন বলেন, ভগদগাজি রাস্তার পাশে অনেকগুলো সরকারি গাছ রয়েছে। গাছ কাটার প্রক্রিয়া শুরু করতে দেরি হয়েছে। তারপর বর্ষাকাল আসায় ব্রিজটির কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এখন পানি কমতে শুরু করেছে। কিছুদিনের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: