সর্বশেষ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মৌলভীবাজারে বিলুপ্তির পথে ডাহুক পাখি

1-daily-sylhet-0-6জালাল আহমদ:: মৌলভীবাজারের সাত উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাটবাজারে বিক্রি হচ্ছে বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় প্রজাতির ডাহুক পাখি। টোপ ও ফাঁদে ফেলে শিকারিচক্র এগুলো ধরে এনে বিক্রি করছে। জেলার টেংরা ও বড়লেখা বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে ডাহুক পাখি বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। গত দু’শক আগেও জেলার হাওর-বাওর, খাল-বিল-ঝিল, নালা-দীঘির পাশের ঝোঁপঝাড়ে দল বেঁধে বাস করতো ডাহুক পাখি। গ্রামাঞ্চলের ডোবা-নালার ঝোঁপঝাড়ে সাঁঝের বেলা ডাহুকের কলরব শোনা যেতো। গভীর রাতেও ডাহুকের করুণ ডাকে অনেকের ঘুম ভাঙতো। এখন আর সে ডাক তেমন শোনা যায় না।

বর্ষা ও শরতে ডাহুকরা বাড়ির গৃহপালিত হাঁসমুরগির সাথে বেড়াতে আসতো। এখন আর তাদের আনাগোনাও চোখে পড়ে না। পাখিদের আবাসস্থল ধ্বংস, খাদ্য সংকট, প্রজননকালীন শিকারিদের উৎপাতসহ নানা কারণে হারিয়ে যাচ্ছে পরিবেশবান্ধব এ প্রজাতির পাখি। শিকারিচক্রের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না গভীর বনজঙ্গলে বসবাসকারী ডাহুক।

unnamed-10অনুসন্ধানে জানা গেছে, দ্রুত অবলুপ্তির পথে হাঁটছে ডাহুক। একসময় গৃহস্থের বাড়ির পাশে ছোটো-বড়ো জলাশয়ে হামেশাই দেখা যেতো এই ডাহুকদের। কিন্তু গ্রামীণ জনপদ, ডোবায়, ঝোঁপ-ঝাড়ে আগের মতো এখন আর ডাহুক পাখির দেখা মেলে না। টিনের চালে ঝুম বৃষ্টির শব্দ আর শাপলার বিলে ডুক্ ডুক্ ডাহুকের ডাক-এ যেনো গ্রামবাংলার বর্ষার চিরন্তন রূপ। কিন্তু প্রকৃতির এই সুন্দর রূপকে ধ্বংস করেছে মানুষ নিজেই। কৃষি জমিতে অতিমাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ, সেই সাথে বন-জঙ্গল উজাড় ও খাদ্যে টান পড়ায় এখন বিলুপ্তির পথে ডাহুক।

পাখিবিশেষজ্ঞদের অভিমত, দেশে ডাহুকবা হোয়াইট ব্রেস্ট হেন এখন দ্রুত অবলুপ্তির পথে। এর কারণ হিসেবে তারা বলছেন, শিকারিদের ফাঁদ, এই পাখির মাংস খাওয়ার প্রবণতা, জলাভূমি নষ্ট করে ফেলা ও তাদের খাদ্য ভা-ারে টান পড়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
পক্ষীবিশারদদের মতে, ডাহুক জলের পাখি। খুব ভীরু। জলাভূমির আশপাশের ঝোঁপ-ঝাড়ে লুকিয়ে থাকা পাখিটি মাঝারি সাইজের। পায়ের আঙ্গুল বেশ লম্বা। পিঠের রং ধূসর থেকে খয়েরি কালো, মাথা ও বুক সাদা। লেজের নিচের কারির ফাঁদ আর অংশে লালচে আভা। ঠোঁট হলুদ রঙের, ঠোঁটের ওপরে লাল রঙের ছোট দাগ আছে। দেখতে খুব সুন্দর একটি পাখি। পানিই এদের প্রধান আশ্রয়। পুকুর, খাল-বিল, জলাভূমি ও নদীর গোপন লুকোনো জায়গা এদের খুব প্রিয়। মাটিতে, ঝোপের তলায় এরা বাসা তৈরি করে। ৬ থেকে ৭টি ডিম পাড়ে। ডিমের রং ফিকে হলুদ বা গোলাপী মেশানো সাদা। ডাহুক বিলুপ্তির কারণ বাসা তৈরির উপযুক্ত পরিবেশের অভাব ও খাদ্য সংকট, জলা বা কৃষি জমিতে কীটনাশকসহ উৎপাদন বাড়াতে নানা ধরণের হরমোন প্রয়োগ করায় এরা অকাতরে মারা যাচ্ছে। এর ওপর আছে শিকারিদের শ্যৈনদৃষ্টি। এরা এখন বাংলাদেশেরও বিপন্ন প্রাণি। বর্ষা আসে প্রতিবারের মতো, কিন্তু সেই চিরচেনা ডাহুকের ডুক্ ডুক্ ডাক আর শোনা যায় না।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: