সর্বশেষ আপডেট : ৪৮ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

শিক্ষকদের বিদেশে প্রশিক্ষণের প্রকল্পে শিক্ষকরাই নেই!

500x350_5bea2eebc98da18c5e42de88517eb03a_logoa106শিক্ষাঙ্গন ডেস্ক ::
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) এক কর্মকর্তা গত মাসে অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিং শেষ করেছেন। তিনি ভিসা পেয়েই ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। তাতে লিখেছিলেন, ‘মাই গট ভিসা।’ অর্থাৎ তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন, ‘আমি ভিসা পেয়েছি।’ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যে কর্মকর্তা ‘আমি ভিসা পেয়েছি’র ইংরেজিই লিখতে পারেন না; তিনি অস্ট্রেলিয়া গিয়ে কী প্রশিক্ষণ নিয়েছেন! তিনি তো অস্ট্রেলিয়ার ভিন্ন ধরনের ইংরেজি কথা ধরতেই পারেননি, বোঝা তো দূরের কথা!’

শুধু এই কর্মকর্তাই নন, গত মাসে ইউজিসির হায়ার এডুকেশন কোয়ালিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্টের (হেকেপ) অর্থায়নে অস্ট্রেলিয়ায় প্রশিক্ষণে যাওয়া ৬২ জনের মধ্যে ৩২ জনই ছিলেন জুনিয়র কর্মকর্তা। বিদেশে প্রশিক্ষণের শর্ত পূরণ না করেই তাঁরা সুযোগ পান। এ ধরনের প্রশিক্ষণ শিক্ষার উন্নয়নে কোনোভাবেই কাজে আসছে না বলে জানিয়েছে ইউজিসির এক নির্ভরযোগ্য সূত্র।

এ ছাড়া গত ১৭ অক্টোবর মাধ্যমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রকল্প ‘টিচিং কোয়ালিটি ইমপ্রুভমেন্টের (টিকিউআই-২) অর্থায়নে নিউজিল্যান্ডে প্রশিক্ষণ নিতে যান ১৬ জন কর্মকর্তা। দলটির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ এস মাহমুদ। তিনি ২৮ অক্টোবর প্রশিক্ষণ শেষ করে দেশে ফিরে ২৯ অক্টোবরই অবসরোত্তর ছুটিতে যান। চাকরিজীবনের শেষ দিনে প্রশিক্ষণ তিনি কোন কাজে লাগিয়েছেন তা খুঁজে পাচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা। সূত্র জানায়, মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নয়নের এই প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া ১৬ জনের মধ্যে আটজন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, ছয়জন সরকারি কলেজের শিক্ষক এবং একজন মাত্র সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। অথচ শিক্ষকদের জন্য এই প্রশিক্ষণ প্রকল্পটিতে শিক্ষকরাই বিদেশে যাওয়ার তেমন কোনো সুযোগ পাচ্ছেন না।

এদিকে মাধ্যমিক স্কুল ও মাদ্রাসা শিক্ষা কার্যক্রম পরিদর্শন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নের কাজে প্রশিক্ষণ নিতে গত মাসে কানাডা যান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাঁচ কর্মকর্তা। তাঁদের ১৪ দিনের সফরের আয়োজন করেছিল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন শাখা। পাঁচজনের একজন এর আগের মাসেই একটি প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফেরেন। আরেকজনও চলতি বছরে একাধিকবার বিদেশে প্রশিক্ষণে গিয়েছেন। এভাবেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদেশে প্রশিক্ষণের বিষয়টিতে ব্যাপক অনিয়ম ও পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে। ইউজিসির হেকেপ প্রকল্পের নামেও বেশ কিছু অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। আর এ কারণে প্রকল্পের ‘অগ্রহণযোগ্য ব্যয়ের’ টাকা ফেরত চেয়েছে বিশ্বব্যাংক।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. আফছারুল আমীন বলেন, ‘যাঁরা শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করান এবং যাঁরা শিক্ষা কর্মকর্তা রয়েছেন তাঁদেরই শিক্ষাবিষয়ক বিদেশি প্রশিক্ষণে যাওয়া উচিত। যাঁরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর বা প্রকল্পের প্রশাসনিক কর্মকতা তাঁরা বিদেশে শিক্ষার প্রশিক্ষণ নিয়ে কী করবেন? তাঁরা আজ এক ধরনের কাজ করবেন তো কাল অন্য ধরনের। শিক্ষকরা প্রশিক্ষণ না পেলে শিক্ষার উন্নতি হবে না। যাঁদের প্রশিক্ষণ নিয়ে ভূমিকা রাখার সুযোগ নেই তাঁদের যাতে সুযোগ দেওয়া না হয় সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের আরো সচেতন হতে হবে।’

ইউজিসি সূত্র জানায়, গত মাসেই হেকেপের অর্থায়নে অস্ট্রেলিয়ার ম্যাককোয়ার ইউনিভার্সিটিতে ‘প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট শর্ট ট্রেনিং কোর্সে’র আওতায় দুটি দলে ভাগ হয়ে প্রশিক্ষণে যান ৬২ জন কর্মকর্তা। তাঁদের মধ্যে ৩২ জনই জুনিয়র কর্মকর্তা, যাঁরা প্রকল্পের সংশোধিত প্রস্তাব (আরডিপিপি) অনুযায়ী এই প্রশিক্ষণে যেতে পারেন না। তাঁদের মধ্যে হেকেপের সিস্টেম অ্যানালিস্ট, প্রোগ্রাম অফিসার পর্যায়ের কর্মকর্তারাও ছিলেন। অথচ আরডিপিপি অনুযায়ী, সিনিয়র সহকারী সচিবের নিচে কোনো কর্মকর্তা এই ধরনের প্রশিক্ষণে যেতে পারবেন না।

নাম প্রকাশ না করে ইউজিসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘৬২ জনের মধ্যে অর্ধেকই ইংরেজি ঠিকমতো বোঝেন না। যাঁরা ইংরেজিই বোঝেন না তাঁরা কিভাবে ইংরেজিতে প্রশিক্ষণ নেবেন। আসলে প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচন প্রক্রিয়াটাই ভিন্ন। যাঁরা বিদেশে যাওয়ার জন্য তদবির করেন তাঁদের মধ্যে এই বছরে কে বিদেশে যাননি বা একবার গিয়েছেন তাঁকেই নির্বাচন করা হয়। আর বিদেশে গিয়েও তাঁরা কেনাকাটা বা ঘোরাঘুরিতে ব্যস্ত থাকেন। কারণ দেশে ফিরে কপি পেস্ট করে একটি প্রতিবেদন দিলেই দায়িত্ব শেষ।’

ইউজিসির ওই সূত্র জানায়, আরডিপিপি অনুযায়ী, উচ্চশিক্ষায় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের এসব প্রশিক্ষণে যাওয়ার কথা বলা হলেও তাঁরা সব সময় থাকেন উপেক্ষিত। উচ্চশিক্ষার এই ট্যুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে চারজন ও হেকেপ থেকে আট কর্মকর্তা অংশ নেন। দলটিতে এমন কয়েকজন কর্মকর্তা ছিলেন যাঁরা কোনোভাবেই উচ্চশিক্ষার সঙ্গে জড়িত নন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, হেকেপ প্রকল্প শেষ হবে ২০১৮ সালে। এই প্রকল্পের ব্যয় প্রায় দুই হাজার ৫৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২৬২ কোটি টাকা দিচ্ছে সরকার। আর বাকি সবই বিশ্বব্যাংকের ঋণ। ২০০৯ সাল থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের প্রথম ধাপ শেষ হয় ২০১২ সালে। কিন্তু প্রথম ধাপে ৫০ শতাংশ অর্থও খরচ করতে না পারলেও প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে এসেই আরডিপিপিতে বছরে একাধিক বিদেশ ভ্রমণের আয়োজন রাখা হয়। শুধু বিদেশ সফরই নয়; আরো অনেক অভিযোগ উঠেছে হেকেপ প্রকল্পের বিরুদ্ধে। প্রকল্পের বড় অঙ্কের অগ্রহণযোগ্য ব্যয় ধরা পড়েছে বিশ্বব্যাংকের কাছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উপপ্রকল্প বাস্তবায়নে এসব ব্যয় করা হয়েছে দেখানো হলেও তা সঠিকভাবে খরচ করা হয় না বলে জানা গেছে। বিশ্বব্যাংক এ অর্থ ফেরত চেয়েছে। এ ছাড়া উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে প্রায়ই সভা-সেমিনারের আয়োজন করা হয় এ প্রকল্প থেকে। যে আয়োজনে বড় অঙ্কের ব্যয় দেখানো হয়। অথচ এ ধরনের সেমিনার উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে কতটুকু সহায়ক তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষাবিদর।

সূত্র: কালেরকন্ঠ।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: