সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ২০ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

হুমকির মুখে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান

1-daily-sylhet-0-2পিন্টু দেবনাথ, কমলগঞ্জ:: মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এখন হুমকির মুখে। পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন রকম অনুমতির তোয়াক্কা না করেই মাটি কাটা হচ্ছে আর মাঝে মাঝে তো উদ্যান এলাকায় বনদস্যুরা গাছ কর্তন করছে। সবকিছু মিলে উদ্যানটি হুমকির মুখে পতিত হচ্ছে। পাশাপাশি লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন বনে চলছে বাণিজ্যিক কার্যক্রম। ফলে মিশ্র চিরহরিৎ লাউয়াছড়া উদ্যানের জীববৈচিত্র্যকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে এবং বন ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে। এসব কার্যক্রমে স্থানীয় সচেতন মহল উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। ২০১৪ সনে ভ্রাম্যমান আদালত লাউয়াছড়া উদ্যান সংলগ্ন এলাকায় টিলা কেটে কটেজ তৈরি করার কারনে দু’টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে কমলগঞ্জের পশ্চিম ভানুগাছের সংরক্ষিত বনের ১২৫০ হেক্টর জায়গা নিয়ে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। উদ্যান ঘোষণার পর থেকেই এখানে দেশি বিদেশী পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে লিজকৃত এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমিতে একটি মহল পাহাড়ি বনের উচুঁ টিলা কেটে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান স্থাপনের কার্যক্রম শুরু করে। বনের টিলায় কিংবা টিলার বাঁকে বাঁকে ইকো-কটেজ, মটেজ ব্যঙের ছাতার মতো দ্রুত গতিতে বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে উঠছে। লাউয়াছড়া উদ্যান এলাকায় এধরনের দু’টি কটেজ থাকলেও উদ্যান ঘেষে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জের টিলায় টিলায় প্রায় অর্ধশতাধিক কটেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। লাউয়ছড়া বন সংলগ্ন ডলোবাড়ি ও বিষামনিতে বনের জায়গা দখল করে ও দৃষ্টি নন্দন পাহাড় কেটে কটেজ তৈরীর অভিযোগে ২০১৪ সনের ৩ নভেম্বর শ্রীমঙ্গলস্থ ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিষ্ট্রেট মো. সাইদুল হক সরজমিনে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে নির্মিত ২টি নির্মানাধীন রিসোর্টের একটিকে নগদ ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা ও অপরটির ভেতরে মাটিকাটার কিছু সামগ্রী পুড়িয়ে ও পানির ট্যাঙ্ক, বিদ্যুতের তার ধ্বংস করে দেয়া হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রীমঙ্গলের রাধানগর এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়েই পাঁচ তারকা হোটেল ‘গ্রান্ড সুলতান টি রিসোর্ট এন্ড গলফ’ স্থাপিত হয়েছে। তবে এর পার্শ্ববর্তী লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান সংলগ্ন ডলুবাড়ি এলাকায় লেমন গার্ডেন, জঙ্গল কটেজ এবং শ্রীমঙ্গলের রাধানগর এলাকায় নিসর্গ লিচু, নিসর্গ নিরব, আর্মিটেড, আমাজান, হীমাচল, শান্তিবাড়ি, নীড়বর্ন, আমার বাড়ি, গ্রান্ট মুবিনসহ অসংখ্য বাহারি নামে কটেজ স্থাপিত হলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের কোন অনুমতি নেই। লেমন গার্ডেনের পার্শ্ববর্তী স্থানে উচুঁ টিলা কেটে উপরে নতুন একটি কটেজ নির্মানের কাজ চলছে। কর্মরত শ্রমিকরা জানান, সেখানে প্রায় ৮ ফুট উচুঁ টিলা কেটে কটেজ নির্মানের কাজ চলছে। এভাবে আশপাশ আরো কয়েকটি টিলায় কটেজ নির্মাণে আরো অনেকের প্রস্তুতি রয়েছে।

এ ব্যাপারে জঙ্গল কটেজ এর মালিক রুকন মিয়া জানান, তাঁর নিজস্ব ভূমিতে কটেজ করেছেন। টিলা কেটে কিংবা পরিবেশের কোন ক্ষতি না করেই তারা কটেজ নির্মাণ করেছেন। পাহাড় রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটি’র চেয়ারম্যান মো. সালাহউদ্দীন আহমদ বলেন, পাহাড় কাটা কোনভাবেই ঠিক নয়। এরপরও শ্রীমঙ্গলসহ আশপাশ এলাকার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় কাটা হচ্ছে। ১৯৯৫ সনের আইনে এটি আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য তিনি সরকারের কাছে জোর দাবি জানান।

বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সহকারী বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. তবিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে কেউ আমাদের কাছে আসে না। তবে এটি দেখার দায়িত্বে রয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: