সর্বশেষ আপডেট : ৭ মিনিট ০ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আজও প্রিয়দর্শিনী

1478150642বিনোদন ডেস্ক:: আজ ৩ নভেম্বর। দিনটির বিশেষত্ব এই যে, আজকের দিনেই পৃথিবীতে এসেছিলেন দেশীয় চলচ্চিত্রের ‘প্রিয়দর্শিনী’ খ্যাত নায়িকা মৌসুমী। এদেশের সিনেমাপ্রেমী দর্শকেরা জননন্দিত নায়িকা শাবানার পর যার মধ্যে তার ছায়া খুঁজে বেড়ান তিনি মৌসুমী। অবশ্য মৌসুমী বিষয়টিকে বেশ বিনয়ের সঙ্গে এড়িয়ে যান। মৌসুমীর আজ জন্মদিন। জন্মদিনে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিশেষ এই প্রতিবেদনটি লিখেছেন অভি মঈনুদ্দীন।

বিশেষ এই দিনটিতে তিনি কখনোই বিশেষ কিছু করার পরিকল্পনা করেন না। তবে বিগত বিশ বছরে মৌসুমী নিজেকে এমন এক অবস্থানে নিয়ে এসেছেন, যেখানে এসে তার অবস্থানই দাবি করে তার জন্মদিনে বিশেষ কিছুর। তবে পরিবার থেকে এবার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না জন্মদিনে বিশেষ কিছু করার।

001মৌসুমীর জন্মদিনে তার স্বামী চিত্রনায়ক ওমর সানী বলেন, ‘মৌসুমীর জন্মদিনে তার জন্য অনেক অনেক শুভ কামনা। আল্লাহ তাকে ভালো রাখুন, সুস্থ রাখুন এই দোয়া করি। আর আমি চাইব, মৌসুমী যেন সবসময় আল্লাহর পথে থেকেই তার কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। মৌসুমী তার প্রতিটি ক্ষেত্রেই সফল হয়েছে। একজন নায়িকা হিসেবে, একজন স্ত্রী হিসেবে, একজন মা হিসেবে; সর্বোপরি একজন মানুষ হিসেবে মৌসুমী সফল। প্রতিটি মানুষ জীবনে সফল হতে পারে না। কিন্তু মৌসুমী পেরেছে। আল্লাহ তাকে আমার জীবনে আশীর্বাদ হিসেবে উপহার দিয়েছেন। এটা আমার জন্যও অনেক সৌভাগ্যের। ব্যক্তি মৌসুমী আমার স্ত্রী, কিন্তু নায়িকা মৌসুমী দর্শকদের ভালোবাসার মৌসুমী।’ ছোটবেলা থেকেই সিনেমা দেখার প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল মৌসুমীর। সেই অভ্যাস বড়বেলাতেও এসে একটুও বদলায়নি। নিজে নায়িকা হওয়ার পরও পরিবারের সবাইকে নিয়ে দলবেঁধে সিনেমা দেখেছেন তিনি।

010মৌসুমী বলেন, ‘আমার গ্রামের বাড়ি খুলনা হলেও আমার ছোট থেকে বড় হয়ে ওঠা ঢাকাতেই। স্কুলজীবন থেকে চলচ্চিত্র দেখার প্রতি আমার আগ্রহ জন্মায়। আমি শাবানা ম্যাডামের খুব ভক্ত ছিলাম। যে কারণে তার অভিনীত চলচ্চিত্রগুলোই বেশি দেখতাম। তার মতো হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম। গর্ব হয় যে, শাবানা ম্যাডামের পথ ধরে আমি চলতে পেরেছি। আমার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ছিল সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’। এতে আমার নায়ক ছিলেন প্রয়াত নায়ক সালমান শাহ। যদিও এটি ঈদে মুক্তি পায়নি। কিন্তু তারপরও ঈদের আমেজ ছিল এই চলচ্চিত্রটি মুক্তির সময়। ১৯৯৩ সালের মার্চ মাসে চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায়। যতই দিন যাচ্ছিল, ততই দর্শকগ্রহণযোগ্যতা বাড়ছিল। আমি নিজে ঢাকাসহ দেশের নানা অঞ্চলে গিয়েছিলাম পরিচালক ও নায়কের নিয়ে নিজে দর্শকের সঙ্গে বসে সিনেমাটি দেখার জন্য। মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছিলাম জীবনে প্রথম। এরপর ঈদে আমার ও সালমান অভিনীত প্রয়াত শিবলী সাদিক পরিচালিত ‘অন্তরে অন্তরে’ মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটির গানসহ গল্প দর্শককে মুগ্ধ করে। দর্শকপ্রিয়তায় মুগ্ধ হলাম আমি ও সালমান। তারপর তো কয়েক বছর পর অর্থাত্ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর এই পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে পরপারে পাড়ি জমায় সালমান। আমি কিছুদিনের জন্য হয়ে গেলাম নায়কবিহীন। হয়তো এটাই নিয়ম, জীবন থেমে থাকে না। থেমে থাকেনি জীবন। প্রয়াত আরেক নায়ক মান্নার সঙ্গে জুটিবদ্ধ হয় কাজ শুরু করলাম। এক ঈদে মুক্তি পেল আমার ও মান্না অভিনীত ‘লুটতরাজ’ চলচ্চিত্রটি। এই চলচ্চিত্রের আইয়ুব বাচ্চুর গাওয়া ‘অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে’ গানটি সারা বাংলাদেশের দর্শকের কাছে আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা পায়। দর্শকের ভালোবাসায় মুগ্ধ হলাম আমি। এমন আরও অনেক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছি মান্নার সঙ্গে, যা ঈদে মুক্তি পেয়েছে এবং ব্যবসা সফলও হয়েছে। প্রতিটি চলচ্চিত্রের সফলতার পিছনে প্রযোজনা সংস্থা, পরিচালকসহ শিল্পী এবং পুরো ইউনিটের আন্তরিক অংশগ্রহণ ছিল। এখনো কাজ করছি আমি চলচ্চিত্রে নিয়মিত। কিন্তু কোথায় যেন এক শূন্যতা কাজ করে প্রতি মুহূর্তে। মাঝে মাঝে ভাবি আজ যদি সালমান বেঁচে থাকত কিংবা মান্না বেঁচে থাকতেন, তবে আমাদের চলচ্চিত্রের এতটা দুর্দশা হতো না। হয়তো এই অবস্থা খুব বেশিদিন স্থায়ী হবে না। আমি খুব আশাবাদী, আবার আমাদের সিনেমা ঘুরে দাঁড়াবে। আমরা আবারও হলে হলে সেই দর্শক ফিরে পাব, যারা ঘরমুখী হয়ে গেছেন। আমি নিজেও এখন চলচ্চিত্র নির্মাণ করছি। আমি আমার চলচ্চিত্র দিয়ে দর্শককে হলমুখী করতে পারব, এই আত্মবিশ্বাস আমার আছে। তবে দর্শকের কাছে অনুরোধ থাকবে ঘরে বসে যেন কেউ চলচ্চিত্রের সমালোচনা না করেন। আসুন আমরা সবাই আবারও সিনেমা হলে গিয়ে চলচ্চিত্র দেখার অভ্যাস গড়ে তুলি। তবেই আমরা আমাদের চলচ্চিত্রের হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাব।’

0001এখনো কাজের প্রতি তার দায়বদ্ধতা সহকর্মী কিংবা ইউনিটকে ভীষণভাবে মুগ্ধ করে। মৌসুমী তার জীবনের শুরু থেকেই এমন কিছু মানুষের সহচার্য পেয়ে এসেছেন, তারাই যেন তাকে আগামী দিনে চলার পথ দেখিয়ে দিয়েছিলেন। আর সেই পথ ধরেই মৌসুমী হেঁটে চলেছেন এখনো। মৌসুমী তার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকেই পেয়েছিলেন বিজ্ঞাপন নির্মাতা আফজাল হোসেন, মডেল ফটোগ্রাফার চঞ্চল মাহমুদ, পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান ও সাংবাদিক আবদুর রহমানকে। তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে ভীষণভাবে সফল। আর চারজন সফল মানুষের সংস্পর্শে এসে যেন মৌসুমী সবার কাছ থেকেই চেষ্টা করেছেন ভালো কিছু শেখার। মৌসুমী নিজেকে অন্যদের চেয়ে গড়ে তুলেছেন একটু আলাদাভাবে। যে কারণে সমসাময়িক সময়ে অনেকেই তার সঙ্গে পথচলা শুরু করলেও কেউই এখন আর তার সমকক্ষ নন। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন মৌসুমী, ‘সত্যি বলতে কী, আমি এভাবে ভাবি না। আমি আমাকে নিয়ে ভাবি। আমার কাজই আমাকে আমার অবস্থান নির্ধারণ করে দিবে। হয়তো কিছু ভালো কাজ করেছি, যে কারণে দর্শক এখনো আমাকে ভালোবাসে। আর এটাই আমার জীবনের বড় পাওয়া।’

এখন পর্যন্ত তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন মৌসুমী। নারগিস আক্তারের ‘মেঘলা আকাশ’, চাষী নজরুল ইসলামের ‘দেবদাস’ ও মোস্তফা কামাল রাজের ‘তারকাঁটা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য এই সম্মানে ভূষিত হয়েছেন তিনি। মৌসুমী-সানী দম্পতির বড় সন্তান ছেলে ফারদিন ও ছোট সন্তান মেয়ে ফাইজাহ। গত ২৯ অক্টোবর ছিল ফাইজাহর জন্মদিন। ফাইজাহ বর্তমানে স্ট্যান্ডার্ড সিক্সে পড়ছেন। মৌসুমী—এমনই একজন নায়িকা, যিনি ছোটপর্দাতেও নিজেকে ব্যালেন্সড করেই উপস্থিত করেন। তবে বড় কিংবা ছোটপর্দা যাই হোক না কেন, মৌসুমীর উপস্থিতি যেন সব দর্শককেই ভীষণভাবে মুগ্ধ করে। মৌসুমীর ভুবন ভোলানো হাসিই যেন সেই মুগ্ধতার কারণ।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: