সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ৩৪ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

নগরীতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, ফ্লাড লাইট জ্বলছে কেন…!

1-daily-sylhet-0-11হাসান মো. শামীম:: বাংলা কার্তিক মাসের মাঝামাঝি এখন । কোণ এক সময় এই ঋতু তেই শীত পড়ে যেত বাংলাদেশে ! তবে শীত না পড়লেও সুয্যি মামা ঠিকই অস্ত যান সন্ধ্যা সাড়ে পাচ টায় । মোটামোটি শীতের আমেজ থাকলেও সারাদিনে বিদ্যুৎ তের নিয়মিত আসা যাওয়ায় মনে হতে পারে গরমকাল চলছে বোধহয়!

সিলেট নগরের বাসিন্দা মাত্রই জানেন গত কয়েকদিন থেকে শহরের বিদ্যুৎ বিভ্রাট কাহিনী । আশা যাওয়ার নিত্য খেলের পাশে কখনো বিদ্যুৎ মহাশয় হারিয়ে যান দীর্ঘ সময়ের জন্য, কখনো বা তার দেখা মেলেনা সারা দিন! ভোর সকালে চরম অস্বস্তি নিয়ে ঘুম ভাংগবে তো চোখ মেলে দেখবেন মাথার উপরে চলছেনা ফ্যান, কারন বিদ্যুৎ নেই! সকালে অফিস যাবেন গোসল করার জন্য দেখবেন কল দিয়ে আসছেনা পানি, কারন বিদ্যুত নেই! অথচ এই শহরেই কারনে অকারনে হাজার ওয়াটের ফ্লাড লাইট জ্বালিয়ে হচ্ছে অযাচিত সব ক্রিড়া উৎসব! যা নিয়ে ক্ষোভ জমে আছে শহর বাসীর মনে!

কয়েকদিন আগে বিপিএল ফুটবলে মেতে ছিলো পুরো সিলেট ! ফূটবল প্রেমীরা দারুন উপভোগ করলেও স্টেডিয়াম পাড়ার ব্যবসায়ীদের পরেছিল মাথায় বাড়ি । খেলার কারনে টানা দশদিন পুরো ২৪ ঘন্টা বন্ধ রাখতে হয়েছিল তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সে সময় তারা ক্ষোভের সাথে প্রতিবাদ করে বলেছিলেন, যেখানে বিপিএল এর খেলায় ঢাকায় হাতেগোনা কয়েক জন দর্শক হয় সেখানে সিলেটে খেলার জন্য ব্যবসা বন্ধ রাখার নির্দেশনা একটি অজ্ঞান প্রসুত সিদ্ধান্ত !

ঠিক একই ভাবে নিজেদের ক্ষোভের কথা জানান একটি প্রাইভেট ব্যাংকে চাকুরি করা তারেক আহমদ । তিনি বলেন, সাম্প্রতিক কালে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের ফ্লাড লাইট জ্বালিয়ে যে সব খেলা চালানো হচ্ছে তা নিতান্তই অপ্রয়োজনীয়।
তার মতে শহরে যেহেতু চরম পর্যায়ের বিদ্যুৎ সমস্যা চলছে সেহেতু দিনের আলোয় অনায়াসেই এসব খেলা চালানো যেতে পারে। দিনে সুর্যের আলোয় খেলা হলে আসলে কার সমস্যা হয় এটা সিলেটের মানুষ জানতে চায়?

তবে ক্রীড়া সংস্থার নাম প্রকাশে অনিচ্চুক এক কর্মকর্তা বলেন, ফ্লাড লাইট না জ্বালালে দর্শক হয়না এমন একটা ধারনা আমাদের মধ্যে আছে যা সম্পুর্ন ভুল। এই সময়ে চলা উপজেলা কাপ কে উদাহরন টেনে তিনি বলেন, দেখুন এই খেলায় কোন টিকিট নেই, সে হিসাবে দর্শক দের দিক থেকে কোন অর্থনিতিক বেনিফিট হচ্ছেনা। সেই দর্শক কে ফ্লাড লাইট জ্বালিয়্বে মাঠে টেনে আনার পরিকল্পনা নিতান্তই ভুল। নিজের উপজেলার যেসব দর্শক সমর্থক আছেন তারা দুপুর তিনটায় খেলা হলেও মাঠে আসবেন। তাদের কে আনার জন্য মাঠে ফ্লাড লাইট জ্বালানোর মত বিলাসিতা কি দরকার সেটা হয়ত শুধু বড় কর্তাই ভাল বলতে পারেন।

বড় কর্তা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক মাহি উদ্দিন সেলিম কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করার জন্য তার মুঠোফোনে চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া্ যায়নি।
স্টেডিয়াম পাড়ার এক বৃদ্ধ বাতাম বিক্রেতা মজলিশ আলি বলেন, নিয়মিত খেলা হও্য়ায় এই আলোতেই এখান কার ভাসমান বিক্রেতারা আরামসেই তাদের বেচা বিক্রি চালাতে পারছেন । শহর অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকলেও রিকাবিবাজার সন্ধ্যার পরে থাকে হাজার ও্য়াটের আলোয় উদ্ভাসিত,অযাচিত খেলায় যদিও খরচ হয় হাজার ওয়াটের সম্পদ ।

রাতে বিদ্যুৎ খরচ করে সন্ধ্যা ছয়টায় এসব খেলার আয়োজন আসলে কার স্বার্থে ? এই নিয়ে মিডিয়ার পক্ষ থেকে অনেক কথা বলা হলেও জেলা ক্রিড়া সংস্থার কোন ভাবান্তর নেই। দর্শকরা কাজ শেষ করে মাঠে আসবে খেলা দেখতে এই ভাবনায় তারা ডুবে আছেন। অথচ গতকাল (মঙ্গলবার) অনুষ্ঠিত ম্যাচে মাঠে ৫০০’র বেশি দর্শক আসেনি। সব দর্শক টিকেট কিনে মাঠে আসলে জেলা ক্রিড়া সংস্থার আয় হত প্রতি টিকেট ২০ টাকা করে ১০ হাজার টাকা। ওদিকে ফ্লাড লাইটে যে ১০০ টি বাল্ব জ্বলে তার পিছনে প্রতি ম্যাচে খরচ হয় ১০ হাজার টাকার বেশি। দেখা যাচ্ছে লাভের চেয়ে লোকসানের পাল্লাই ভারি। সেখানে এই সব ম্যাচ তো গ্যালারি প্রবেশই তো ফ্রি !

তদুপরি প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার একটি নির্দিষ্ট ডেট লাইনও আছে। তাদের সুবিধার কথা বিবেচনা করার দায়িত্ব ক্রিড়া সংস্থার। অথচ সেই বিষয়ে মোটেও মাথাব্যথা নেই তাদের। আর এভাবেই ভোগান্তি বাড়ে প্রতিনিয়ত ।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: