সর্বশেষ আপডেট : ১১ মিনিট ৫৬ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জামালগঞ্জে শিক্ষার আলো কাশীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়

unnamed-1জামালগঞ্জ প্রতিনিধি:: সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নে কাশীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সুনামগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসাবে প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ/২০১৬ তে মনোনিত হয়েছে। হাওর অঞ্চলে অবস্থিত শিক্ষার প্রসারে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে বিদ্যালয়টি। কালাগুজা, কাশীপুর, শরীফপুর, সৈয়দনগর , আছমতপুর, বাহাদুরপুরের ছাত্র/ছাত্রী বেষ্টিত বার বার উপজেলায় পিএসসিতে সবোর্চ্চ ফলাফল করে সুনমাগঞ্জের সুনাম ধরে রাখ সক্ষম হয়েছে। শিক্ষায় পিছিয়ে থাকা সুনামগঞ্জ জেলায় আশার আলো দেখাতে সক্ষম হয়েছে এ বিদ্যালয়টি। পড়াশুনার পাশাপাশি খেলাধুরা, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষার মান উন্নয়নে উপজেলার সকল স্কুলকে পেছনে ফেলে মফন্বল হাওর অঞ্চলের বিদ্যালয়টি শির্ষে আছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক, পরিচালনা কমিটি, এলাকার শিক্ষানুরাগীগণের অক্লান্ত চেষ্টয়ায় বিদ্যালয়টি আলোর মুখ দেখতে সক্ষম হয়েছে।

শিক্ষক ও এলাকাবসীর সূত্রে জানা যায় বিদ্যালটি ১৯৪২ সালে কাশীপুর গ্রামে প্রতিষ্টিত হয়। পরবর্তীতে কাশীপুর গ্রামের মরহুম সাফিজ উদ্দিন সরকার, হাজী দুদু মিয়া, আব্দুছ ছামাদ, হারুন মিয়া, আবেদ আলী, হাজী আলতাব আলী, আব্দুছ ছুবান, হাজী তায়েব আলী প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিম, আব্দুল জব্বার মাষ্টার, ফজলুল হক মাষ্টারসহ অনেকে কাশীপুর গ্রাম ছেড়ে কালাগুজা চলে আসলে কাশীপুর গ্রামের হাজী মনুর উদ্দিন, আব্দুছ ছুবান তাদের সাথে পরামর্শক্রমে বিদ্যালয়টি স্থানান্তরিত করার উদ্যোগ নেন। তৎকালীন শিক্ষানুরাগী মরহুম সাফিজ উদ্দিন সরকারের অক্লান্ত পরিশ্রমে উপরোক্ত ব্যক্তিগণের সহযোগীতায় স্কুলের জায়গা দান করে সেলিমগঞ্জ বাজারের সাথে ১৯৬২ সালে বিদ্যালয়টি স্থানান্তরিত করে নিয়ে আসেন কালাগুজা গ্রামে। বিদ্যালয়টি স্থানান্তরিত করা হলেও পূর্বের নামেই থেকে যায়। বিদ্যালয়টি জামালগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ১৫ কি.মি. দূরে অবস্থিত।

বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে আট জন শিক্ষক শিক্ষিকা এবং ছাত্র/ছাত্রীর সংখ্যা ৬৪৩ জন। বিদ্যালয়টির ফলাফল ২০১১ সালে ৫ম শ্রেণীতে সমাপনি পরিক্ষায় ৬২জন অংশগ্রহণ করে ৬২জনই পাশ করে। ২০১২ সালে ৭৫জন অংশগ্রহণ করে শতভাগ পাশ করে এবং এ প্লাস পেয়েছে ৯ জন, টালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে জন। ২০১৩ সালে ৯১ জন ভর্তি হয়ে ৮৫জন সমাপনি অংশ নিয়ে ৮৪জন পাশ করে এবং ১৫টি এ প্লাস ৬টি ট্যালেন্টপুলে, ২০১৪ সালে ৭৩জন ৫ম শ্রেনীতে ভর্তি হয়ে ৬৫ জন পরিক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ পাশ করে এবং এপ্লাস পেয়েছে ১৩ জন ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে ১ জন ২০১৫ সালে ৫ম শ্রেনীতে ৬৫জন ভর্তি হয়ে ৬৪জনই পাশ করে এবং ১৫টি এপ্লাস পেয়েছে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে ১০ জন এবং সাধারন বৃত্তি ৫ জন পেয়ে উপজেলা ও জেলার শ্রেষ্ট বিদ্যালয় হিসাবে মনোনতি হয়েছে। বিদ্যালয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো খুব কম সংখ্যক ছাত্র/ছাত্রী অনুপস্থিত থাকে। অভিভাবকদের চেয়েও কোমলমতি ছাত্র/ছাত্রীরা লেখাপড়ায় বেশী আগ্রহী। শিক্ষকগণের আন্তরিক প্রচেষ্টায় অভিভাবক শিক্ষক সমন্বয় হোস্টেল ব্যবস্থাপনা প্যারা শিক্ষকসহ কোমলমতি ছাত্র/ছাত্রীদের আকৃষ্ট করা হয়। তাছাড়াও জাতীয় প্রতিটি কর্মসূচি যথাযথ ভাবে পালন করা হয়। এলাকাবাসী, শিক্ষক ও অভিভবাকদের সহযোগীতায় সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত্র ১০টা পর্যন্ত সান্ধ্যকালীন ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাত্রে ক্লাস করানোর জন্য ১৬জন প্যারা শিক্ষক রাখা হয়েছে। তারা প্রত্যেকইে সাড়া বছরের জন্য শিক্ষক হিসাবে নিয়োজিত। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা প্রতি মাসেই বিদ্যালয়টি পরিদর্শন ;করেন। শিক্ষকদের মনযোগের সাথে পরামর্শও দিচ্ছেন। গতকাল স্কুলে গিয়ে দেখা যায় ক্লাস চলছে কোথাও কোন শব্দ নেই, সককলেই মনযোগ সহকারে পড়ালেখা শ্রবন করছে।

প্রধান শিক্ষক মো: জহিরুল হক জানান, আমার বাড়ি স্কুলের পাশেই অবস্থিত। এই এলাকার প্রতিটি জনগণ শিক্ষার প্রতি খুবই আগ্রহী। তাই সকলের সহযোগীতায় শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে উর্ধ্বোতন কর্তৃপক্ষের নিদের্শনায় বিদ্যালয়টি ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে। গত বছর আমি উপজেলা ও জেলায় শ্রেষ্ট প্রধান শিক্ষক হিসাবে মনোনিত হয়েছি। এ বছর আমার প্রাণের বিদ্যালয়টি সুনামগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ট বিদ্যালয় হিসাবে মনোনিত হওয়ায় আমি খুবই আনন্দিত ও গর্বিত। আমি সকলের সহযোগীতা ও দোয়াপ্রার্থী। আশা করি আগামিতেও সেরা ফলাফল করতে সক্ষম হবো। বিদ্যালয়ের ক্লাস রুম কম থাকায় ছাত্র/ছাত্রী নিয়ে হিমশিম খেতে হয়। তাই একটা ভবনের খুবই প্রয়োজন। বিদ্যালয়ের সীমানা দেয়াল দেওয়া খুবই প্রয়োজন কারণ রাস্তার পাশে বিদ্যালয়টি থাকায় প্রতি দিন শত শত গাড়ী চলাচল করে তাই যেকোন মুহুর্তে আমার ছেলেমেয়েরা দূর্ঘটনার স্বীকার হতে পারে। আমাদের বিদ্যালয়ের ফলাফল দেখে আনন্দিত হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টিটন খীসা ১২টি বিআরবি সিলিং ফ্যান দিয়েছেন। শিক্ষক অভিভাবক ও পরিচালনা কমিটির সকলেই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতি আন্তরিক ভাবে কৃতজ্ঞ। এলাকার শিক্ষানুরাগী সাবেক শিক্ষক আব্দুল জব্বার মাষ্টার বলেন-এলাকার শিক্ষানুরাগী সাফিজ উদ্দিন সরকার এলাকার গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গের সহায়তায় বিদ্যালয়টি উনার নিজ ভুমিতে স্থাপন করেছিলেন। শুধু বিদ্যালয়ই নয় সেলিমগঞ্জ বাজার, সোনার বাংলা হাসপাতাল, সেলিমগঞ্জ পোস্ট অফিস, কালাগুজা মসজিদ ও আলা উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়সহ সকল প্রতিষ্টানই উনার অবদান রয়েছে। আমাদের ছেলেমেয়েরা এ বিদ্যালয়ে লেখা পড়া করে বিদ্যালয়েরই শিক্ষক হিসাবে অক্লান্ত পরিশ্রম করে বিদ্যলয়টিকে সুনামগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ট বিদ্যালয় হিসাবে মনোনিত করায় আমি একজন সাবেক শিক্ষক হিসাবে খুবই আনন্দিত ও গর্বিত।

বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ফজলুল হক মাষ্টার বলেন, আমি এ বিদ্যালয়ে অনেক দিন শিক্ষকতা করে বর্তমানে অবসর নিয়েছি। বিদ্যালয়টি শিক্ষার প্রসারে জামালগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জের মধ্যে শ্রেষ্ট হওয়ায় আমি খুবই আনন্দিত। এলাকার জনগন শিক্ষক অভিভাবক সচেতন থাকলে অবশ্যই ভাল কিছু আশা করা যায়। আমার পরিশ্রম দেড়ীতে হলেও স্বার্থক হয়েছে। বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বর্তমানে জামালগঞ্জ উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমা-ার এডভোকেট আসাদ উল্লাহ সরকার বলেন-কাশীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আমার পড়াশুনার হাতেখড়ি। আমিসহ এ বিদ্যালয় থেকে অনেক ছাত্র/ছাত্রী বাংলাদেশের বিভিন্নস্থানে সরকারী চাকুরী ও জনসেবায় নিয়োজিত আছেন। ইঞ্জিনিয়ার আমজাদ হোসেন সরকার, অবসর প্রাপ্ত যুগ্ম সচিব জহিরুল হক, অবসর প্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হক, অবসর প্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা কিতাব আলী, অবসর প্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ পরিদর্শক ও ব্রাক্ষনবাড়ীয়া জেলায় বাঞ্চারামপুর থানার সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল খালেক এ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেছেন। বিদ্যালয়টির ফলাফলে আমি খুবই আনন্দিত ও গর্বিত কারণ আমরা যা পারিনাই বর্তমান প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল যুগে আমাদের ছেলেরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে এলাকার শিক্ষানুরাগীদের সহযোগীতায় সুনামগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ট বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পাওয়ায় আমরা খুবই ভাল লাগছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুল আলম ভুইয়া জানান, হাওর বেষ্টিত অজপাড়া গায়ের কাশীপুর সরকারী বিদ্যালয়টি পরপর দুইবার উপজেলার শ্রেষ্ট হয়েছে। এবার সুনামগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ট বিদ্যালয় মনোনিত হওয়ায় আমি খুবই আনন্দিত হয়েছি। আমি আশা করছি যেভাবে বিদ্যালয়টি দিনে ও রাত্রে আন্তরিকতার সহিত পাঠদান করায় আগামীতে বিভাগের শ্রেষ্ট হওয়া অসম্ভব কিছু নয়। আমি বিদ্যালয়টির সফলতা কামনা করি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টিটন খীসা বলেন জামালগঞ্জের হাওর বেষ্টিত এলাকার শিক্ষার প্রসারে কাশীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি শুধু সুনামগঞ্জ জেলায়ই নয় সাড়া বিভাগে সাড়া জাগাবে আমার বিশ্বাস। এলাকার শিক্ষানুরাগী ও শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এ বিদ্যালয়টি সুনামগঞ্জ জেলার সুনামগঞ্জ বয়ে আনতে পারবে আমি মনে করি। আমি বিদ্যালয়টির সফলতা ও উত্তরোত্তর উন্নতি কামনা করি।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: