সর্বশেষ আপডেট : ৫ ঘন্টা আগে
শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সুনামগঞ্জের টাংগুয়ার হাওর রক্ষায় দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী সর্ব মহলের

unnamedতাহিরপুর প্রতিনিধি:: সুনামগঞ্জের বহুল আলোচিত আর্ন্তজাতিক রামরাস সাইট খ্যাত টাংগুয়ার হাওর নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা সর্ব মহলে। এই আলোচনা সমালোচনা না করে এই বৃহত্তর টাংগুয়ার হাওর কে কি ভাবে রক্ষার উদ্দ্যোগ নেওয়া যায় সে বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবী উঠেছে জেলার সচেতন মহলের মধ্যে। ৩১আগষ্ট আইইউসিএন এর প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার নতুন করে সুইস দাতা সংস্থা এসডিসি টাংগুয়ার হাওরে সংরক্ষনে আর অর্থায়ন করবে না বলে জানিয়ে দেওয়ার পর টাংগুয়ার হাওর এখন অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। টাংগুয়ার হাওর কো ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ব্যর্থ হয়েছে তাই আর এনজিও সংস্থার অধিনে নয় বিকল্প কোন পথে টাংগুয়ার হাওর রক্ষার ব্যবস্থা করার প্রয়োজন।

জানা যায়,গত ৩০,১০,১৬ইং রবিবার সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্য্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার আয়োজনে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান,বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক,সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিছবাহ,সুনামগঞ্জ-মৌলভী বাজার সংরক্ষিত আসনের এমপি শামছুন্নাহার রব্বানী শাহানা,পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক জাফর সিদ্দিক,সাবেক সংসদ সদস্য নজির হোসেন,তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল,স্থানীয় পরিবেশ কর্মী ফেরদৌস আলম,পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক প্রমূখ। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন ইলেক্টনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক সহ জেলার গন্যমান্য ব্যক্তিগন উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় উঠে আসে হাওর নিয়ে বিভিন্ন গুরুত্ব পূর্ন বিষয়। উঠে আসে হাওর পাড়ের জনসাধরনের জীবন প্রবাহের নানান চিত্র। কি ভাবে হাওরের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করা যায়। টাংগুয়ার হাওরের ব্যবস্থাপনার মডেল কি হওয়া উচিত আর কি ভাবে হাওরের সম্পদ পুনুরুদ্ধার করা যায় আলোচনার মাধ্যমে মূল্যবান মতামতের মধ্যে উঠে আসে সেই সব দিক নির্দেশনা এবং হাওরের বিভিন্ন অনিয়ম দূর্নীতির চিত্র। আলোচকগন বলেন,অনেক প্রকৃতি প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে এই পরির্বতনের মধ্যে দিয়েই আমাদের হাওরের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। হাওর পাড়ে বসবাসকারী স্থানীয় মানুষ কে চোর হিসাবে আখ্যায়িত করলেও তারা চোর নয়। তারা বংশ পরম পরায় মাছ ধরার সাথে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জরিয়ে গেছে। রামসার সাইট স্বীকৃতি পাবার পূর্বেই তারা এই হাওর থেকে মাছ আহরন করা চিরায়িত উত্তারাধিকার। তাদের কে নিয়েই আমাদের সঠিক যুগপোযুগী পদক্ষেপের মাধ্যমে এর সঠিক সমাধানের পথ খুজেঁ বের করতে হবে। আশির দশকে টাংগুয়ার হাওরে প্রচুর পরিমানে গাছের বাগ ছিল। সেই বাগে বাঘ ও ছিল কিন্তু এখন কিছুই নেই। টাংগুয়ার হাওরের একবার জাল ফেলে ৮০লক্ষ টাকার মাছ ধরা যেত এখন ৮টনও আসে না। বেসরকারী বিনিয়োগ কারীদের হাতে তুলে দিলে টাংগুয়ার অতিথ সৌন্দর্য ও সম্পদ ফিরে পাওয়া সম্ভব হবে। কোন এনজিও দিয়ে হাওর বাসীর সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব নয়। টাংগুয়ার হাওর কো ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ব্যর্থ হয়েছে। হাওরের বর্তমান ব্যবস্থাপনা প্রশ্ন বিদ্ধ হয়েছে। এই কো ম্যানেজমেন্ট থেকে বের হয়ে হাওরের জনবল বাড়াতে হবে। প্রতিদিনের অবস্থা রেকর্ড করে রাখতে হবে। হাওর পাড়ের বিশাল জনসাধারনের মাঝে শিক্ষার বিস্তারের প্রসার বাড়াতে হবে। বিকল্প কাজের ব্যবস্থা ও টাংগুয়ার হাওর কে সুক্ষ পরিকল্পনার মাধ্যমে পর্যটন শিল্পের বিকাশ গঠাতে হবে।

এছাড়াও মতবিনিময় সভায় আরো গুরুত্বপূর্ন বিষয় উঠে আসে এবং ব্যবস্থাপনার শুরুতেই প্রশাসন ও আর্ন্তজাতিক পরিবেশ সংগঠন আইইউসিএন রামসার নীতি বাস্তবায়নের কাজ করলেও বাস্তবে ১৩বছরে নানা অনিয়মে হাওরের জীববৈচিত্র রক্ষার নামে নিরাপ্তায় নিয়োজিত আনসার,পুলিশ এলাকা ভিত্তিক গঠিত সমিতির নেতা,এনজিও প্রতিনিধি,ব্যবস্থাপনার কাজের নিয়োজিত সরকারী বেসরকারী লোকদের দূর্নীতি ও সিন্ডিকেট তৈরী মাধ্যমে অভাধে মাছ লোট,শীতে অতিথি পাখি শিকার করে বিক্রির কারনে পাখি শূন্য এবং জীব বৈচিত্র ধংস করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে। আলোচনায় মাননীয় অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান ও সুনামগঞ্জ ১আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নজির হোসেনের যুক্তি সংগত তথ্য বিত্তিক দিক নির্দেশনা ও গুরুত্বপূর্ন কথা গুলো ব্যাপক ভাবে প্রশংশিত ও আলোচিত হয়েছে। আলোচনায় বক্ততাগন মনে করেন বর্তমানের সাথে তাল মিলিয়ে সঠিক ভাবে টাংগুয়ার হাওর রক্ষার কার্যক্রম পরিচালিত করলে টাংগুয়ার হাওর তার অতিথ ঐতিহ্য ফিরে পাবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, টাংগুয়ার হাওর ১৯৯৯সালে পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষনা করার পর ২০০০সালের ২০জানুয়ারী আর্ন্তজাতিক রামসার সাইট হিসাবে স্বীকৃতি পায়। পরে জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য সরকার ৬০বছরের ইজারা প্রথা বিলোপ করে। হাওর এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়ন,সম্পদ সংরক্ষন,টেকসই ব্যবস্থাপনা,জীববৈচিত্র পূর্বের ন্যায় ফিরিয়ে আনার জন্য ভূমি মন্ত্রনালয় থেকে হাওরটিকে পরিবেশ ও বন মন্ত্রনালয়ে হস্তান্তর করা হয়। পরে ২০০৩সাল থেকে টাংগুয়ার হাওরে কো-ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম প্রকল্পের কাজ শুরু করে। এর পর থেকে পরিবেশ ও বন মন্ত্রনালয়ের অধীনে দাতা সংস্থা এসডিসি (সুইজ ডেভলাবমেন্ট কো অপারেশন) ৩দফা হাওর ব্যবস্থাপনায় অর্থায়ন করে গত ৩১শে আগষ্ট ২০১৬সাল পর্যন্ত টাংগুয়ার হাওর ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালিত করে আসে।
হাওর পাড়ের স্থায়ী বাসীন্দা ও সুনামগঞ্জ জেলার সচেতন মহলের বলেন,ব্যবস্থাপনায় টাংগুয়ার ১৩বছরে এনজিও প্রতিনিধি,ব্যবস্থাপনার কাজের নিয়োজিত সরকারী-বেসরকারী লোকদের দূর্নীতি ও সিন্ডিকেট তৈরী মাধ্যমে অভাধে মাছ লোট,শীতে অতিথি পাখি শিকার করে বিক্রির কারনে পাখি শূন্য এবং জীব বৈচিত্র ধংস করা হয়েছে। উপকারের পরিবর্তে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই হাওর কে রক্ষা করতে হলে সঠিক,যুগোপযোগী আইন বাস্তবায়ন ও এখানে পর্যটন শিল্প স্থাপন করে সচেতনতা মাধ্যমে মাছ ধরা,পাখি শিকার বন্ধ আর জীববৈচিত্র ধংশ করার পরির্বতিতে হাওড় পাড়ের বাসীন্দাদের বিকল্প কাজের ব্যবস্থা করা এবং শিক্ষার প্রসার বিস্তার করা হলে হাওরের অতিথ ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: