সর্বশেষ আপডেট : ৯ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জঙ্গিবাদ কাউকে বেহেশতে নেবে না :প্রধানমন্ত্রী

1478021603নিউজ ডেস্ক:: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শান্তির ধর্ম ইসলামে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের কোনো স্থান নেই। ইসলামে মানুষ খুন করার কোনো অধিকার দেওয়া নেই। সুতরাং মাদকাসক্ত, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, উগ্রপন্থা থেকে যুব সমাজকে বিরত থাকতে হবে। এসব কাউকে বেহেশতে কিংবা স্বর্গে নিয়ে যাবে না, হুর-পরীও দেবে না। মানুষ হত্যা ও ধর্মীয় জঙ্গিবাদ সৃষ্টিকারীর জায়গা হবে নরকে। জঙ্গিবাদ ও মাদকাসক্তি থেকে দূরে থেকে নিজস্ব মেধা ও মননকে কাজে লাগিয়ে ব্যক্তি এবং পরিবারিক জীবনকে সুন্দর করার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য তিনি যুব সমাজের প্রতি আহ্বান জানান। গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

যুব সমাজকে দেশের প্রাণ এবং উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার চালিকা শক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ যুবক। যা পৃথিবীর অনেক দেশেরই নেই। এই ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড পূর্ণ সদ্ব্যবহারকল্পে সৃজনশীল ও উত্পাদনশীল কর্মকাণ্ডে ব্যাপকভাবে সম্পৃক্তকরণের বিকল্প নেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু যুবকদের সংগঠিত করে বাঙালির মুক্তির সংগ্রামে উজ্জীবিত করেছিলেন, উদ্যমী করেছিলেন। এই যুবকরাই মুক্তিযুদ্ধে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। আমরা বিজয়ী জাতি। এখন সবাইকে দেশের অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রামে উজ্জীবিত হতে হবে। তিনি বলেন, আমরা কারো কাছে হাত পাতব না, আত্মমর্যাদাশীল, কর্মউদ্যমী হয়ে উঠব। আমরা চাই না আমাদের যুবশক্তি কোনোভাবেই বিপথে যাক এবং তাদের অভিভাবকদের যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়াক। তাদেরকে অবশ্যই মাদক, সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদ থেকে দূরে থাকতে হবে। এগুলো কোনো সুস্থ ধারা নয়, এগুলো সবসময়ই যুব সমাজের সুন্দরভাবে বিকাশের অন্তরায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, হায়াত এবং মউতের মালিক একমাত্র আল্লাহ। এসব তারই হাতে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সকল জেলায় যুবকদের জন্য একই ধরনের প্রশিক্ষণ অবকাঠামোগত সুবিধা সৃষ্টির লক্ষ্যে নতুন করে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে এবং বিদ্যমান প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ পেয়ে যুবকরা আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে। সরকার যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে বেকার যুবকদেরকে প্রশিক্ষণ প্রদান, ঋণ সহায়তা ও পরামর্শ দিয়ে তাদেরকে মানবসম্পদে পরিণত করছে। প্রধানমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধুর একটি উদ্ধৃতির উল্লেখ করে বলেন, জাতির পিতা ১৯ আগস্ট ১৯৭২ সালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনে কারিগরি শিক্ষার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে যুবকদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ‘কাজ কর, কঠোর পরিশ্রম কর, না হলে বাঁচতে পারবে না। শুধু বি.এ, এম.এ পাস করে লাভ নেই। আমি চাই কৃষি কলেজ, কৃষি স্কুল, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও স্কুল, যাতে সত্যিকার মানুষ পয়দা হয়। বুনিয়াদি শিক্ষা নিলে কাজ করে খেয়ে বাঁচতে পারবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী যুবকদের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে তার সরকার একের পর এক প্রকল্প গ্রহণ করছে। দেশে কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার ঘটায় ২০০৯ সালে সারাদেশে পলিটেকনিকে ভর্তির আসন যেখানে ছিল মাত্র ২৫ হাজার। বর্তমানে তা ১ লাখ ২৫ হাজারে দাঁড়িয়েছে।

যুবকদের আত্মকর্মসংস্থানে কর্মসংস্থান ব্যাংক, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক সৃষ্টিসহ দেশব্যাপী যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, বিদেশে গমনেচ্ছু তরুণ-যুবাদের জন্য টেকনিক্যাল ট্রেনিং, দেশের বিদ্যালয়গুলোতে ভকেশনাল ট্রেনিং কর্মসূচি চালু এবং শেখ হাসিনা যুব কেন্দ্রকে সেন্টার অব অ্যাক্সিলেন্স হিসেবে গড়ে তোলার সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে জাতির পিতার অপর একটি বক্তৃতার উদ্ধৃতি দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু যুদ্ধ বিধ্বস্ত স্বাধীন বাংলাদেশ পুনর্গঠনের সময় জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে স্বাধীনতা সংগ্রামের চেয়েও দেশগড়াকে বেশি কঠিন উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা যদি একটু চেষ্টা করি, একটু বেশি পরিশ্রম করি, সকলেই সত্পথে থেকে সাধ্যমত নিজের দায়িত্ব পালন করি এবং সবচাইতে বড় কথা, সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকি-তাহলে আমি বিনা দ্বিধায় বলতে পারি ইনশাল্লাহ কয়েক বছরের মধ্যে আমাদের স্বপ্নের বাংলা আবার সোনার বাংলায় পরিণত হবে।’ শেখ হাসিনা বলেন, ২০৪১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে ভিশন ৪১ ঘোষণা করা হয়েছে।

এ বছরের জাতীয় যুবদিবসের প্রতিপাদ্য ‘আত্মকর্মী যুবশক্তি, টেকসই উন্নয়নের মূলভিত্তি’ অত্যন্ত যথোপযুক্ত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের ফলে দেশে যুব জাগরণ ঘটেছে। বিশেষ করে আত্মকর্মসংস্থানের ক্ষেত্রের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে ।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯ জনকে জাতীয় যুব পুরস্কারে ভূষিত করেন। এবারই প্রথমবারের মত অটিজম কোটায় পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন সিকদার, উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জাহিদ আহসান রাসেল অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী আখতার উদ্দিন, যুব সংগঠক অমীয় প্লাবন চক্রবর্তী, সেলফ এমপ্লয়ার সুলতানা পপি, যুব ও ক্রীড়া অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আনোয়ারুল করিম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: