সর্বশেষ আপডেট : ১৩ মিনিট ১৬ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

স্বজনরা হত্যা করল কলেজ ছাত্রী মনিরাকে!

1477915803নিউজ ডেস্ক:: হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ পর মনিরা সরকার চুষনী (১৮) নামে এক কলেজ ছাত্রীর লাশ মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গত রবিবার রাতে শিবপুর থানা পুলিশ শিবপুর উপজেলার শেরপুর গ্রাম থেকে এ লাশ উদ্ধার করে। রুবেল নামে এক ছেলের সঙ্গে মনিরার প্রেমঘটিত সম্পর্কের কারণে তার আত্মীয়-স্বজন তাকে হত্যা করে মাটির নিচে পুঁতে রাখে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানিয়েছে, একই গ্রামের মো. খোরশেদ আলমের কন্যা নরসিংদীর ইম্পেরিয়াল কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী মনিরা সরকার ওরফে চুষনীর সঙ্গে একই গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদ মিয়ার পুত্র পাওয়ারলুম শ্রমিক নোবেল মিয়ার প্রেম ছিল। এই ঘটনা জানাজানি হয়ে গেলে মনিরা সরকারের পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজন নোবেলের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য চাপ দিতে থাকে।

এলাকাবাসী আরো জানায়, নোবেল সাধারণ ঘরের ছেলে এবং পাওয়ারলুম শ্রমিক। তাই এ সম্পর্কের ব্যাপারে মনিরার পিতা-মাতা ও আত্মীয় স্বজনের অসম্মতি। পক্ষান্তরে মনিরা সরকার বংশের কন্যা এবং সে কলেজ ছাত্রী। এই অসম প্রেম কোনক্রমেই তারা মেনে নেয় নি। কিন্তু মনিরা তাদের চাপের কাছে নতি স্বীকার করেনি। সে পিতা-মাতা আত্মীয় স্বজনকে উপেক্ষা করে নোবেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক অটুট রাখে। মনিরা তার পিতামাকে জানিয়ে দেয় নোবেলকে ছাড়া সে বাঁচতে পারবে না। নোবেলকেই সে বিয়ে করবে। মনিরার মুখ থেকে এ কথা শোনার পর তার পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন মনিরার প্রতি দারুনভাবে ক্ষিপ্ত হয়।

জানা গেছে, গত ২৪ অক্টোবর রাতে এই অসম প্রেমের ঘটনা নিয়ে মনিরা সরকারের অভিভাবকরা তাকে মারধোর করে। এক পর্যায়ে তাদের শারীরিক নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গেলে মনিরা সেদিন রাতেই মারা যায়। এই অবস্থায় মনিরার অভিভাবকরা তার লাশ নিয়ে বেকায়দায় পড়ে। ঘটনা ধামা-চাপা দেয়ার জন্য মনিরার লাশ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা চালায়। কিন্তু পরের দিন মঙ্গলবার আবার তার লাশ বাড়ি থেকে ১০০ গজ দূরে শেরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে একটি জমিতে গর্ত করে পুঁতে রাখে।

এদিকে আশ-পাশের লোকজন বেশ কিছুদিন যাবৎ মনিরাকে দেখতে না পেয়ে তার আত্মীয়-স্বজনদের কাছে মনিরা কোথায় আছে জানতে চাইলে তারা জানায়, মানিরা ঘোড়াদিয়া তার বড়বোনের বাড়িতে বেড়াতে গেছে। বিষয়টি নিয়ে জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেত্রী খাদিজা আক্তার মনিরার বড়বোন পুটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা খাদিজা আক্তার ময়নাকে মনিরা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এক পর্যায়ে মনিরার বড় বোন খাদিজা আক্তার স্বীকার করেন, মনিরার লাশ মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছে। পরে বিষয়টি শিবপুর থানা পুলিশকে অবহিত করলে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত মনিরার লাশ মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করে।

পুলিশ জানিয়েছে, মনিরার লাশ ময়না তদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকা সন্দেহে পুলিশ মনিরার পিতা খোরশেদ আলম ও তার বড় ভাই সোহেলকে গ্রেফতার করে।

এ ব্যাপারে পুলিশ বাদী হয়ে শিবপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করে।

নরসিংদী পুলিশ সুপার আমেনা বেগম (বিপিএম) সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর, দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দুজ্জামান জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে নিহতের পিতা ও ভাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট এবং জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: