সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ৪২ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৬ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়

full_792054338_1477831304খেলাধুলা ডেস্ক:
বিডিলাইভ রিপোর্ট: একের পর এক উইকেট নিয়ে তিন দিনেই ইংল্যান্ডকে টেস্ট হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। এই ম্যাচ জয়ের মধ্য দিয়ে ১-১ এ সমতায় সিরিজ শেষ করল টাইগাররা।

১০৮ রানের দুর্দান্ত জয়ের মধ্য দিয়ে জিম্বাবুয়ে ও ‘দুর্বল’ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাইরে এই প্রথম কোনো শক্তিশালী দেশকে টেস্ট হারাল বাংলাদেশ। টেস্ট ইতিহাসে এটা তাদের অষ্টম জয়। শুধু তাই নয় মাত্র তিন দিনেই শক্তিশালী কোনো দলকে হারিয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়ও পেল মুশফিক বাহিনী।

ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংস ধসিয়ে দিতে মূল ভূমিকা রাখেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ৭৭ রানে ৬ উইকেট নেন বাংলাদেশের তরুণ এই অফস্পিনার। প্রথম ইনিংসেও ৬ উইকেট নেন তিনি, খরচ করেন ৮২ রান। স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচ সেরার পুরস্কার উঠেছে তার হাতে। দুই টেস্ট মিলিয়ে ১৯ উইকেট পাওয়া মিরাজ জেতেন সিরিজ সেরার পুরস্কারও।

তৃতীয় সেশনের প্রথম বলেই আঘাত হানেন মেহেদী হাসান মিরাজ। জায়গায় দাঁড়িয়ে ভেতরে ঢোকা বল খেলতে গিয়ে বোল্ড হন ডাকেট (৬৪ বলে ৫৬)। এই উইকেটের মধ্য দিয়ে ইংল্যান্ডের শতরানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন মিরাজ।

এরপর বোলিংয়ে ফিরেই আঘাত হানেন সাকিব আল হাসান। এই বাঁহাতি স্পিনারের ওভারের প্রথম বলে এলবিডব্লিউ হয়ে বিদায় নেন জো রুট (২ বলে ১)। অন্য প্রান্তে থাকা অধিনায়ক কুকের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলে রিভিউ না নিয়ে ফিরেন এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান।

কিছুক্ষণ পরই গ্যারি ব্যালান্সকে ফিরিয়ে নিজের দ্বিতীয় উইকেট নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এই অফ স্পিনারের বলে ব্যাটের কানায় লেগে উঠে যাওয়া ক্যাচ মিড অফ থেকে দৌড়ে এসে তালুবন্দি করেন তামিম ইকবাল। ১৪ বলে ৫ রান করে বিদায় নেন বাহাতি এই ব্যাটসম্যান।

গ্যারি ব্যালান্সকে বিদায় করার পর সেই ওভারেই মইন আলিকে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজ। তার বলে এলবিডব্লিউ হওয়ার পর রিভিউ নেন ইংলিশ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। তাতে সিদ্ধান্ত পাল্টায়নি। মইন মিরাজের তৃতীয় শিকার।

এদিকে রিভিউ নিয়ে একবার বাঁচলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারলেন না অ্যালেস্টার কুক। (১১৭ বলে ৫৯) মেহেদী হাসান মিরাজের বলে কুকের ব্যাট ছুঁয়ে আসা ক্যাচ কোনোমতে তালুবন্দি করেন মুমিনুল হক। এটি মিরাজের চতুর্থ শিকার।

এরপর মিরাজের বলে জনি বেয়ারস্টোর ব্যাটের কানায় লেগে এত সহজ ক্যাচ উঠে যে শুভাগত ক্যাচটি তালুবন্দি করার আগেই ফিল্ডাররা উৎসব শুরু করেন। এই উইকেটের মধ্য ইংলিশদের ৬ উইকেটের পতন হয়। আর মিরাজের ৫ উইকেট পূর্ণ হয়।

একবার হাতে পেয়েও বেন স্টোকসের ক্যাচ জমাতে পারেননি সাকিব আল হাসান। তার পরের ওভারে চার হাঁকান ইংলিশ অলরাউন্ডার। ঠিক পরের বলেই স্টোকসের স্টাম্পসে আঘাত হানেন সাকিব। স্টোকসকে বিদায় করে স্যালুটও জানান সাকিব। স্টোকসের বিদায়ের মধ্য দিয়ে ইংল্যান্ডের সাত উইকেটের পতন হয়।

এরপর প্রথম ইনিংসে প্রতিরোধ গড়া আদিল রশিদকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন সাকিব আল হাসান। রিভিউ নিয়েও রক্ষা হয়নি ইংলিশ অলরাউন্ডারের। পরপর স্টোকস ও রশিদের উইকেট নিলে সাকিবের সামনে হ্যাটট্রিকের সুযোগ তৈরি হয়। ইংল্যান্ড দলেরও তখন ৮ উইকেট পড়ে গেছে।

পরের বলে কোনো মতে ঠেকিয়ে দেন আনসারি। কিন্তু থেমে যাননি সাকিব। নিজের শেষ বলে আনসারির আউটের ক্যাচটি ছিল দুর্দান্ত। কয়েকবার চেষ্টায় হাতে নিতে পারেননি মুমিনুল হক, পাশেই থাকা আরেক ফিল্ডার ইমরুল কায়েস বল তালুবন্দি করেন। এটি ছিল ইংলিশদের নবম উইকেট।

শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতে নামা স্টিভেন ফিন মেহেদী হাসান মিরাজের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরেন (৮ বলে শূন্য)। তার বিদায়ে নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়টা পায় বাংলাদেশ।
ঢাকা টেস্টের সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস:
৬৩.৫ ওভারে ২২০ (তামিম ১০৪, মুমিনুল ৬৬) ওকস ৩/৩০, মইন ৫/৫৭।

ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস:
৮১.৩ ওভারে ২৪৪ (রুট ৫৬, ওকস ৪৬, রশিদ ৪৪*) মিরাজ ৬/৮২, তাইজুল ৩/৬৫।

বাংলাদেশ ২য় ইনিংস:
৬৬.৫ ওভারে ২৯৬ (তামিম ৪০, ইমরুল ৭৮, মাহমুদউল্লাহ ৪৭, সাকিব ৪১) আনসারি ২/৭৬, স্টোকস ৩/৫২, রশিদ ৪/৫২।

ইংল্যান্ড ২য় ইনিংস: টার্গেট ২৭৩
৪৫.৩ ওভারে ১৬৪ (কুক ৫৯, ডাকেট ৫৬, স্টোকস ২৫, ওকস ৯) মিরাজ ৬/৭৭, সাকিব ৪/৪৯।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: