সর্বশেষ আপডেট : ৩২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড আগে
শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৫ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

বাংলাদেশের বন্ধু মারিয়া পর্তুগালের বর্ষসেরা নারী

157928_1প্রবাস ডেস্ক: বাংলাদেশের বস্তিতে থাকা সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কল্যাণে অনেক দিন ধরেই কাজ করছেন মারিয়া কনসিকাও। তাদের জন্য প্রতিষ্ঠিত করেছেন মারিয়া ক্রিস্টিনা ফাউন্ডেশন (এমসিএফ)। মানবহিতৈষী এই নারী পেলেন তার যোগ্য সম্মান। এবারের বর্ষসেরা নারী নির্বাচিত হয়েছেন।

এ সম্মাননার জন্য তাকে নির্বাচন করেছেন পর্তুগালের একটি প্রভাবশালী সাময়িকী জেন্টলম্যান কোয়াটার্লি পর্তুগাল (জিকিউ পর্তুগাল)।

ফাউন্ডেশনটির তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকার গাওয়াইর বস্তির ১৭২টি সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে সাহায্য করে এমসিএফ। তাদের শিক্ষার ব্যবস্থাও করে দিয়েছে তারা।
মারিয়া তার সম্মাননাটি উৎসর্গ করেছেন তার পালক মা মারিয়া ক্রিস্টিনাকে। তিনিই মূলত এমসিএফ প্রতিষ্ঠার পেছনের অনুপ্রেরণা।

পুরুষদের ফ্যাশন, সংস্কৃতি ও জীবনধারা নিয়ে প্রকাশিত অন্যতম একটি ম্যাগাজিন জিকিউ পর্তুগাল। সাধারণত এটি বর্ষসেরা পুরুষ নির্বাচন করে থাকে। তবে এবার প্রথমবারের মতো বর্ষসেরা নারী নির্বাচন করেছে।

তবে ফাউন্ডেশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মারিয়া কনসিকাওয়ের সাফল্যে জিকিউ পর্তুগাল এতই মুগ্ধ যে এই প্রথমবারের মতো পুরুষের পরিবর্তে নারীকে বর্ষসেরা হিসেবে পুরস্কৃত করল। এর মাধ্যমে মারিয়া তার মানবপ্রেম ও ক্রীড়াঙ্গনে অর্জনের স্বীকৃতি পেলেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের এয়ারলাইন্সে কাজ করার সময় বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য দেখে ২০০৫ সালে এমসিএফ গড়ে তোলেন মারিয়া।

চাকরির সূত্রে ২০০৩ সালে তিনি প্রথম বাংলাদেশে আসেন। সে সময়ের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে সাময়িকীটিকে বলেছেন, বাংলাদেশে আমি যা দেখেছি তা ভোলা সম্ভব নয়। একমাস পরে যখন ফিরে যাই, তখনই ঠিক করে ফেলি বাংলাদেশের গরীব মানুষের জন্য কিছু একটা করতেই হবে।

পরিবার, সহকর্মী ও বন্ধুদের সহায়তায় ২০০৫ সালের জুলাই মাসে মারিয়া বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর সাহায্যার্থে একটি দাতব্য প্রকল্প শুরু করেন। শিশুদের জন্য এক কক্ষের একটি বিদ্যালয় চালু করেন।

২০০৫ সাল থেকেই তিনি বাংলাদেশে চলমান মানবিক প্রকল্পটির অধীনে শিশুদের বিনামূল্যে পড়ালেখার সুযোগ করে দিচ্ছেন। এভাবে এখানে দরিদ্র্যতার দুষ্টচক্র ভাঙ্গার চেষ্টা করছেন তিনি।

এমসিএফের তহবিল সংগ্রহের জন্য সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি কিছু ব্যতিক্রমী কৌশল অবলম্বন করেছেন। প্রথম পর্তুগিজ নারী হিসেবে মাউন্টএভারেস্ট জয় করেছেন। ম্যারাথন দৌড়ে তার তিনটি রেকর্ড রয়েছে ও ছয়টি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড রয়েছে।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে তিনি ইংলিশ চ্যানেল সাঁতরে পার হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পর তীব্র স্রোতের কারণে নিবৃত্ত হন।

পালক মায়ের একটি কথা উল্লেখ করে মারিয়া বলেন, মা বলেন, যে ছয়জনকে খাওয়াতে পারে সে সাতজনকেও পারে। আমি ছয়শরও বেশি শিশুর শিক্ষার ব্যবস্থা করতে পেরেছি। আশা করছি, বাকি ১৩১ শিশুর শিক্ষার জন্যও প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহ করতে পারব। এ পুরস্কার তাদের জন্য যাদের সাহায্য ছাড়া আমি এ পর্যায়ে আসতে পারতাম না।

সূত্র: দ্য পর্তুগাল নিউজ

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: