সর্বশেষ আপডেট : ১৭ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সিম বায়োমেট্রিক নিবন্ধনেও মোবাইল অপরাধ থামেনি

1477719424নিউজ ডেস্ক:: একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের মোবাইল ফোনে সম্প্রতি গ্রামীণফোনের একটা নম্বর থেকে কল আসে। ফোনের ওপার প্রান্ত থেকে বলা হয়- ‘আপনি আমাদের অনেক পুরনো পোস্ট পেইড গ্রাহক। এতদিন আমরা আপনাকে বিশেষ কোনো সুবিধা দিতে পারিনি। এখন আপনাদের জন্য বিশেষ প্যাকেজ চালু করা হয়েছে। ২০ পয়সা মিনিটে আপনি যে কোনো অপারেটরে কথা বলতে পারবেন। এর জন্য আপনার মোবাইলে একটি পিন নম্বার পাঠানো হয়েছে সেটা আমাকে দিলেই চলবে।’

ফোনটি কেটে দেয়ার পর তিনি দেখেন তার মোবাইলে ‘জিপি’ থেকে একটি এসএমএস এসেছে। সেখানে চার অঙ্কের একটি সংখ্যা। তিনি আবার ওই নম্বরে ফোন করে পিন নম্বরটি জানিয়ে দেন। রাতে বাসায় ফিরে এই অতিরিক্ত সচিব দেখেন তার পোষ্ট পেইড ফোনে ১ হাজার ৪০০ টাকা বিল উঠে গেছে। ওই প্রতারক কিভাবে ওই পিন নম্বর নিয়ে বিল ওঠাল বুঝতে না পেরে তিনি বিটিআরসিকে বিষয়টি অবহিত করেন।

শুধু এই অতিরিক্ত সচিব নয়, একজন প্রখ্যাত পত্রিকার সম্পাদক, বিদেশি একটি বার্তা সংস্থার বাংলাদেশের ব্যুরো প্রধান, দুইজন যুগ্ম সচিবসহ এমন অন্তত ২৫ জন বিটিআরসির কাছে এভাবে প্রতারিত হবার অভিযোগ করেছেন।

এই অভিযোগগুলো পাওয়ার পর বিটিআরসি এভাবে এসএমএসে আপনার মোবাইল ফোনে আসা পিন নাম্বার কাউকে না দেয়ার পরামর্শ দিয়েছে। বিটিআরসির একজন কর্মকর্তা জানান, অভিযোগ আসা নম্বরগুলোর সংযোগ তারা বন্ধ করে দিয়েছেন। অতিরিক্ত সচিবকে যে নম্বর থেকে ফোন করা হয়েছিল সেই নম্বরে বিটিআরসির একজন কর্মকর্তা ফোন করেছিলেন। সেটি রিসিভ করে লোকটি নিজেকেই উল্টো বিটিআরসির কর্মকর্তা বলে পরিচয় দেন। পরে বিটিআরসির এই কর্মকর্তা নিজের পরিচয় দিলে প্রতারক ফোনটি রেখে দেন। পরে ফোন দিলে আর রিসিভ করেননি। একটি চালু থাকা মোবাইল ফোন দিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করলেও তাকে ধরা সম্ভব হয়নি। অথচ কিছুদিন আগেই মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীকে সঠিকভাবে সনাক্ত করতে ঢাকঢোল পিটিয়ে সিমের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন করা হলো। বায়োমেট্রিক নিবন্ধনকৃত সিম দিয়ে তার এ ধরনের প্রতারণা করার সাহস পাবার কথা নয়।

এ ব্যাপারে বিটিআরসি দাবি করছে, তারা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেছে। কিন্তু ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের উপ-কমিশনার আলিমুজ্জামান ইত্তেফাককে বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ তারা পাননি। পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবেন। এই অপরাধীদের গ্রেফতার করা সম্ভব বলে তিনি জানান।

মোবাইল ফোনের সিম কার্ড আঙ্গুলের ছাপ (বায়োমেট্রিক) পদ্ধতিতে নিবন্ধন করার পর সবার আশা ছিল এবার বুঝি মোবাইল ফোনকেন্দ্রিক অপরাধ অনেকাংশেই কমে যাবে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। পুলিশ কর্মকর্তা আলিমুজ্জামান বলেছেন, ‘মূলত বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন আমাদের খুব একটা কাজে আসছে না। তবে জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারে থাকা ছবি কিছুটা কাজ দিচ্ছে। তবে সেখানেও নিম্নমানের ছবি দেখে অধিকাংশ লোককেই চেনা যায় না। তবে গ্রেফতারের পর তার বায়োমেট্রিক পরীক্ষা করার সুযোগ মিলছে।’

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, ‘রাজধানীতে যারা ভোটার তাদের বর্তমান ঠিকানা প্রতিনিয়তই পরিবর্তন হয়। ফলে দেখা যাচ্ছে একজন ভোটার হয়েছেন মিরপুরের কিন্তু অপরাধ করছেন যাত্রাবাড়িতে। তাই জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারে থাকা ঠিকানা ধরে তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের তদন্ত আগের প্রক্রিয়ায়ই করতে হচ্ছে।’

একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘আগে আমরা কোনো অপরাধীর নম্বর পেলে সেটা সংশ্লিষ্ট অপারেটরের কাছে পাঠিয়ে তার কললিষ্ট ও নিবন্ধন করা ফরমটি চেয়ে পাঠাতাম। তারা এগুলো আমাদের পাঠিয়ে দিত। এখনও আমরা নম্বর তাদের কাছে পাঠালে তারা একটি এনআইডি নম্বর আমাদের পাঠিয়ে দেয়। ফরমটি চাইলে বলে, সেটা এখনও পূরণ করে আপলোড করা হয়নি। এরপর আমরা জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগের কাছে ওই এনআইডির যাবতীয় তথ্য চেয়ে পাঠাই। তারা ছবি ও ঠিকানা দেয়। কিন্তু এই ঠিকানায় গিয়ে তাকে পাওয়া যায় না। ঢাকা শহরের ৪৩ লাখ ভোটারের ৩০ লাখের বেশির ঢাকায় নিজস্ব বাড়ি বা ফ্ল্যাট নেই। ফলে এদের কেউ অপরাধ করে দ্রুতই ঠিকানা বদলে ফেলছে।’

এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, মোবাইল নম্বরটি বায়োমেট্রিক করার সময় সবাই যদি ফরমটি ঠিকভাবে পূরণ করতো তাহলে এই সংকট হতো না। দ্রুত বায়োমেট্রিক করতে গিয়ে অপারেটররা দায়সারা ভাবে ফরমে শুধু গ্রাহকের সই নিয়েছে। এখন এনআইডি দেখে ওই ফরমগুলো পূরণ করা হচ্ছে। অথচ এনআইডিতে দেওয়া ওই ঠিকানাতেই হয়তো তিনি থাকেন না। ফলে পুলিশ তাকে খুঁজে পাচ্ছে না।’

তবে বায়োমেট্রিকের সুফলও আছে। গ্রেফতার ও নিহত হওয়া অপরাধীদের আঙুলের ছাপ নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারের সঙ্গে মিলিয়ে তাদের পরিচয় নিশ্চিতভাবে সনাক্ত করা যাচ্ছে। পাশাপাশি কোনো অপরাধী গ্রেফতার হলে তার আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করা যাচ্ছে। ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘তদন্তে আমরা দেখছি, একজন ব্যক্তির হয়ত তিনটি নম্বর আছে। তিনি তিনটিরই রেজিস্ট্রেশন করে নিশ্চিন্তে আছেন। অথচ এমনও হতে পারে বায়োমেট্রিক কাজের সাথে যুক্ত প্রতারকচক্রের কারসাজিতে তার অজান্তে আরো এক বা একাধিক নম্বর তার নামে রেজিস্ট্রেশন হয়ে আছে। তিনি অপরাধী না হলেও বিপদে পড়ছেন। কারণ অপরাধের কাজে ব্যবহূত সিমটি তার নামেই রেজিস্ট্রেশন করা।’

এ প্রসঙ্গে টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম সম্প্রতি এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘প্রত্যেক মোবাইল গ্রাহকের সামনেই তার সিমের বায়োমেট্রিক করা হয়েছে। তার আঙুলের ছাপ দিয়ে অন্য নম্বর রেজিস্ট্রেশন করছে কি-না সেটা দেখা তার দায়িত্ব। অনেকের অসচেতনতার কারণে তার এনআইডি দিয়ে একাধিক নম্বর রেজিস্ট্রেশন করে ফেলেছে প্রতারকরা। এগুলো খুঁজে বের করা হবে।’

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এসএমএস দিয়ে কয়েকদিন আগেও কেউ জানতে পারতেন তার এনআইডি দিয়ে কয়টি নম্বর রেজিস্ট্রেশন হয়েছে। হঠাত্ করেই রহস্যজনকভাবে অপারেটররা এটা বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে এখন কেউ জানতে পারছেন না তার এনআইডির বিপরীতে কয়টি নম্বর আছে। তাই আরেকজনের মোবাইলকেন্দ্রিক অপরাধের দায় আপনার ঘাড়ে এসে পড়ার সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: