সর্বশেষ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে
শনিবার, ১৯ অগাস্ট, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৪ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

সুরমা নদীর উপর একটি সেতুর অভাবে লক্ষাধিক মানুষের ভোগান্তি

surma-nodi-news-daily-sylhet-0-9-copyহাবিবুর রহমান, জামালগঞ্জ:
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে একটি মাত্র সেতুর অভাবে ৫টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামের প্রায় লক্ষাধিক মানুষের খেয়া পারাপারে যুগযুগ ধরে ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছেন।

একটি মাত্র সেতু না থাকায় প্রায় আধা ঘন্টা বসে থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেয়া পারাপার হতে গিয়ে প্রায়শই ঘটে নৌ দুর্ঘটনা। এমনি কি হেমন্ত মাসে পানি নিচের দিকে নেমে গেলে ভাঙ্গাচোড়া খেয়াঘাট দিয়ে উঠানামা করতে গিয়ে হু-ছোট খেয়ে পরে গিয়ে মারাত্বক ভাবে আঘাত প্রাপ্ত হয়ে পূঙ্গত্ব বরণ করেছে অনেকে। এর পরেও থেমে নেই মানুষের চলাচল।জীবন জীবিকার তাগিদে প্রতিনিয়ত এলাকার হাজারো মানুষ ও স্কুল কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ খেয়াতেই বাধ্য হয়ে যাতায়াত করছেন।

স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জামালগঞ্জ –সাচনার মাঝামাঝি বয়ে গেছে সুরমা নদী উত্তরে নদী বন্দর খ্যাত সাচনা বাজার ও দক্ষিনে জামালগঞ্জ উপজেলা সদর উত্তরে ২টি ইউনিয়ন সাচনা ও বেহেলী। দক্ষিনে ৩টি ইউনিয়নের ফেনারবাক, ভীমখালী ও সদর ইউনিয়নের কিছু অংশ থাকায় উভয় পারের মানুষের ব্যাংক, স্কুল কলেজ, অফিসিয়াল ও ব্যবসা বানিজ্যসহ কেনাকাটা করা জন্য দু-পারে যাতায়াত করতে হয়। আর এ সুরমা নদীটি পারাপার করে জামালগঞ্জ মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিমুখে থাকা খেয়াঘাটে ছোট ২টি নৌকা রয়েছে। আর এ নৌকায় হচ্ছে অত্র উপজেলাবাসীর একমাত্র পারাপারের ভরসা। সুরমা চলতি নদী অনেক গভীর তাই সারা বছরই এই খেয়া দিয়ে জামালগঞ্জ সদর, বেহেলী, সাচনাবাজার, ফেনারবাক, ভীমখালীসহ ৫টি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জামালগঞ্জ ও সাচনা বাজারে যাতায়াত করে আসছে।

যাতায়াতকারীদের মধ্যে চাকুরী জীবিসহ ওউপজেলা পরিষদ,থানা ও হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ প্রায় ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ হাজারের ও বেশি শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে আসছে এ খেয়া নৌকা দিয়ে পার হতে সময় লাগে ২০-২৫ মিনিট।এখানে সেতু হলে মাত্র ১ মিনিটেই রাস্তা পারাপার হওয়া যেত।শুধু এখানেই জনসাধারনের ভোগান্তির শেষ নয়। ছোট খেয়া নৌকায় ১০-১৫ জন যাত্রী ধারনের ক্ষমতা থাকলেও ৩০-৪০ জন যাত্রী নৌকায় উঠে পড়েন। তখন নৌকাটি বিপদজ্জনক অবস্থায় চলাচল করে। অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে নদীর পানির স্রোতে ও উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে প্রায়ই নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটে থাকে।

এ ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত নদীতে খেয়া নৌকা থাকে। অনেকসময় রাত ৯টার পরে উপজেলা বা সাচনা বাজার থেকে ব্যবসায়ীরা বাড়ি ফিরতে গিয়ে খেয়া নৌকা না পেলে মানষের ভোগান্তি আরো বেড়ে যায়।এ অঞ্চলের লোকজনকে রাত ৯ টার ভিতরে নিদিষ্ট সময় মেনে চলাচল করতে হয়।তা না হলে ভোগান্তির শেষ থাকেনা। এ অঞ্চলে যাদের নিজস্ব নৌকা নেই তারা মহাবিপাকে রয়েছেন। সাচনাবাজার এলাকা থেকে রাতে যদি কোন দূর্ঘটনা ঘটে কিংবা মারাত্বক রোগী নিয়ে একমাত্র সদরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্র যেতে হয় কিংবা। উপজেলা সদরে থানা থেকে সাচনা বাজারে রাতে আইন শৃংখলা রক্ষায় পুলিশের টহল দল নদী পার হয়ে রাত নয়টা থেকে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত টহল শেষে করে ফিরতে হয় থানায়।

এ অবস্থায় খেয়া পার হতে বড় ধরনের কোন ঘটনা ঘটলেও সরাসরি দূত ঘটনা স্থলে পুলিশ পৌছিত গিয়ে বিলম্ব হয়। খেয়া পার হতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়তে হয়। কারণ তারা চাইলেও রাতে সাচনা বাজারবাসী উপজেলা সদরের সঙ্গে যাতায়াত করতে পারবে না। সুরমা নদীর ওপর একটি সেতুই নির্মাণ হলে অত্র অঞ্চলের জীবন যাত্রা ও আর্থসামাজিক ব্যবস্থার চিত্রই পাল্টে যাবে। খুব সহজেই জামালগঞ্জ উপজেলা সহ সারাদেশে যাতায়াত করা করা যাবে। এমন স্বপ্ন নিয়ে এ অঞ্চলের রোকজন যুগযুগ ধরে অপেক্ষা প্রহর গুনছেন।

উপজেলার উত্তর কামলাবাজ গ্রামের বাসন্দা দর্জি টেইলার জসিম উদ্দিন, চাকুরীজীবি লম্বাবাক গ্রামের বাসিন্দা আক্তার হোসেন, কালীপুর গ্রামের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম, রাশিদ আলী,জাহাঙ্গীরসহ এলাকার লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের এলাকার লোকজনের যাতায়াত ব্যবস্থা এমন নাজুক ও করুন অবস্থার কেউ খোজখবর রাখেন না।

জামালগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী মো.শাহিন আলম ও সুর্য মণি বলেন, অনেকটা ঝুকি আর ভয়ের মধ্যে দিয়ে খেয়া নৌকা পারাপার হতে গিয়ে অনেক সময় বেশি যাত্রী থাকলে প্রায়ই ঘটে নৌকা ডুবে গিয়ে আমাদেও বই-খাতা পানিতে ভিজে যায়।

এ ব্যপারে সাচনা বাজার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম শামীম জানান, সুরমা সেতুটি ব্যাপারে আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।আশা করছি সামনের একনেকের বৈঠকে ঢুকবে। আর চলতি অর্থ বছওে কাজ শুরু হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুস সাত্তার বলেন, সাচনা-জামালগঞ্জ ব্রীজ এই সরকারের আমলে শুরু হবে।ইতি মধ্যে বুয়েটের সমীক্ষা টিমদ্বারা সমীক্ষা রিপোট কাজ শেষ হয়েছে।

সুনামগঞ্জ -১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের কাছে ব্রীজ নির্মানের ব্যাপাওে জানতে চাইলে জানান, সুরমা সেতুর এলাকাবাসীর দাবিটি সাথে আমিও চাই এ সেতুটি হোক। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এ সেতু হবে। এটি বিবেচনা করে আমি জামালগঞ্জ-সাচনাবাজার সেতু নির্মানের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: