সর্বশেষ আপডেট : ১০ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

দুঃখ বিরহ ও যন্ত্রণা মানুষের অন্যতম সাথি : কণ্ঠশিল্পী মনির খান

dsc_0790বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মনির খান। সংগীতে তিনবার পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কার। তাঁর কণ্ঠের মায়াজালে শ্রোতারা মুগ্ধ হন। দেশ-বিদেশে তাঁর লাখো ভক্ত-অনুরাগী। মানুষের অন্তরের দুঃখ-ব্যথা প্রতিধ্বনিত হয় তাঁর সুরময় কণ্ঠে।
গুণী এই শিল্পী গত সপ্তাহে এসেছিলেন সিলেটে । গান পরিবেশন করেছেন একটি অনুষ্ঠানে। নগরীর একটি হোটেল কক্ষে মনির খানের সঙ্গে নানা বিষয়ে কথা বলেন সিলেটের সিনিয়র সাংবাদিক আ.ফ.ম. সাঈদ

কেমন করে সংগীত জগতে এলেন, এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মনির খান বলেন, ছোটকাল থেকে আপন খেয়ালে গান গাইতাম। যখন যে-গান শুনতাম, সেটা মনে গেঁথে নিতাম। ১৯৮৭ সালে ওস্তাদ রেজা খসরুর কাছে গানের তালিম নিই।

1_52184এক প্রশ্নের উত্তরে বরেণ্য এই কণ্ঠশিল্পী বলেন, সংগীতের কোনো সীমারেখা নেই। তাই ভিন্ন ভাষার গানও মানুষের ভালো লাগে। তবে আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি লালন ও বিকাশের প্রতি একনিষ্ঠ হতে হবে। আমি সব ধরনের বাংলা গান জানি; গাইতে পারি। কিন্তু কখনো বাংলা গান ছাড়া অন্য কোনো ভাষার গান গাই না। ভিন্ন কোনো ভাষার গান শিখিনি।
সংগীতে অসাধারণ সাফল্য ও খ্যাতির কারণ সম্পর্কে মনির খান বলেন, আমি কখনো কোনো কাজে ফাঁকি দিই না। সদুদ্দেশ্যে একনিষ্ঠভাবে সাধনা-চেষ্টা করলে যে-কোনো কাজে সাফল্য আসবেই। বললেন, গানের মাধ্যমে আমি মানুষের অন্তরের কথা বলি। মানুষের দুঃখ-বেদনা সুরের মাধ্যমে প্রকাশ করি। তাই মানুষ আমাকে ভালোবাসে। আমাকে তাদের বন্ধু মনে করে। চব্বিশ বছর ধরে মানুষের অন্তরে আছি। আমার গান, সুর ও কথা মানুষ পছন্দ করে তাঁদের অন্তরে ঠাঁই দিয়েছে। অনেকেই মানুষের হৃদয়ে থাকতে চান। কিন্তু মানুষ তাদেরকে অন্তরে স্থান দেয় না। আর আমি না চাইলেও মানুষ তাদের হৃদয়ে আমাকে ঠাঁই দিয়েছে।

মনির খানের গানের মধ্যে বিরহ-দুঃখের কথা বেশি থাকে। এর কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, বিরহ বা দুঃখ মানুষের জীবনের অন্যতম অনুষঙ্গ। প্রেম-ভালোবাসায় ব্যর্থতা ও ব্যবসায় লোকসানসহ জীবনে বিভিন্ন বিষয়ে না পাওয়ার দুঃখ সইতে হয়। জীবন শুধু সুখের হয় না। সবাই কোনো না কোনো দুঃখের শিকার হয়। দুঃখ, বিরহ, ব্যথা, শোক ও যন্ত্রণা সকলের জীবনে কম-বেশি আসে। এগুলো মানুষের জীবনের অন্যতম সাথি। তাই আমার গানে বিরহ-দুঃখের কথা বেশি থাকে।

এক প্রশ্নের জবাবে জনপ্রিয় এই শিল্পী বলেন, মানুষ যা চায় তা সবসময় পায় না। সবকিছু নিজের পছন্দ চাহিদামতো হয় না। এজন্যে দুঃখ করে লাভ নেই। যা-পাওয়া যায়, তা-ই নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা উচিত। অপ্রাপ্তি সম্পর্কে হা-পিত্যেশ করে কোনো লাভ হয় না। যে-কোনো বিষয়ে নিজের ব্যক্তিত্ব ও স্বকীয়তাকে ঊর্ধ্বে রাখতে হয়।

মনির খানের জীবনে সুখ ও দুঃখের স্মৃতি আছে অনেক। ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র থাকাকালে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে গান গেয়েছিলেন। কোনো অনুষ্ঠানে ওইদিন গান পরিবেশন ছিল তাঁর জীবনে প্রথম। ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ বেতার খুলনা কেন্দ্রে তাঁর গান প্রচারিত হয়। ২০০১ সালে ‘তাজমহল’ ছবিতে ২০০২ সালে ‘নীল দরিয়া’ ছবিতে এবং ২০০৫ সালে ‘নয়নের আলো’ ছবিতে গানের জন্য তিনি জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন। এসব স্মৃতি তাঁর খুব সুখের। বললেন, প্রথমবার জাতীয় পুরস্কার গ্রহণের সময় বাবা ও মাকে ঢাকায় নিয়ে এসেছিলাম। বাবার হাতে জাতীয় পুরস্কারের ক্রেস্ট তুলে দিই। এসময় তাঁর চোখে ছিল অশ্রু, কিন্তু মুখে ছিল সুন্দর হাসি। সেদিন বুঝতে পারি, আনন্দাশ্রু কী।

দুঃখের কথা প্রসঙ্গে মনির খান বলেন, যাঁর কাছে সংগীতে তাঁর হাতেখড়ি হয়, সেই ওস্তাদ রেজা খসরু বছর সাতেক পূর্বে ইন্তেকাল করেছেন। ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুরে তাঁর বাড়ি। মনির খান এখন ওই এলাকায় গেলে পরম প্রিয় ওস্তাদকে পান না-এ বিষয়টি তাঁকে খুব দুঃখ দেয়।

অত্যন্ত অমায়িক ও বন্ধুবৎসল মনির খানের গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার মহেষপুর উপজেলায়। বাবা মো. মাহবুব আলী খান অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষক এবং মা মোসাম্মাত মনোয়ারা খাতুন। চার ভাইয়ের মধ্যে মনির খান জ্যেষ্ঠ। সহোদরেরা হচ্ছেন, মজিদ খান, মাসুদ খান ও মামুন খান। একমাত্র বোন রাবেয়া খাতুন সবার বড়।

জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)-এর সাধারণ সম্পাদক মনির খান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কেন্দ্রীয় সহসাংস্কৃতিক সম্পাদকের দায়িত্বেও আছেন। এক মেয়ে ও এক ছেলের জনক। মেয়ে ‘ইতি’ ঢাকার ভিখারুন্নেসা উচ্চবিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং ছেলে ‘মুহূর্ত’ কেজি ওয়ান ক্লাসে পড়ছে। সহধর্মিণী ‘ইতি’ বি.কম পাস। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচরের মেয়ে। ছেলে ও মেয়ে সংগীতশিল্পী হবে কি না জানতে চাইলে মনির খান বলেন, গানের প্রতি তাদের কোনো আগ্রহ নেই।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: