সর্বশেষ আপডেট : ১ মিনিট ৬ সেকেন্ড আগে
রবিবার, ২০ অগাস্ট, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৫ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মিসরের পিরামিডে এলিয়েনের মমি

alien-mummy-main-550x307আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: সেটা ১৯৮৮ সালের কথা.. মিসরের গিজা পিরামিডের ভেতরে অনুসন্ধানের সময় ফরাসী এক প্রতœতাত্বিক পেলেন গোপন কক্ষের সন্ধান। খুব গভীরে থাকা ওই কক্ষটি সম্পর্কে তিনি যে ধারণা পেলেন তা হল, পিরামিডটি নির্মাণের পরপরই সেটিকে চিরতরে বন্ধ করে দেয়া হয়। যেন পরবর্তীতে আর কেউ সেখানে প্রবেশ করতে না পারে।

ওই প্রত্নতাত্বিক কক্ষটির বাইরে দেয়ালে দেখেন মিসরীয়দের আঁকা কিছু সংকেত। যা হায়ারোগ্লিফিক্স নামে পরিচিত। এই সম্পর্কে চ্যাপেরাট নামের ওই প্রতœতাত্বিকের ভালোই ধারণা ছিল। তবে অর্থ উদ্ধার করে তিনি যা বুঝলেন, তাতে মাথায় তার আকাশ ভেঙ্গে পড়ার জোগাড়!
সংকেতের অর্থ দাড়ায় এমন, “প্রবেশ নিষেধ। এখানে যিনি শুয়ে আছেন তিনি আকাশের তারা থেকে নেমেছিলেন ফারাও’দের কাছে। বিশেষ দূত হিসেবে।” লেখাটি প্রত্নতাত্বিককে আরও উৎসাহী করে তোলে। কক্ষটিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ জেনেও এর পথ খুঁজতে শুরু করেন।
কক্ষটি আবিস্কারের পর সেখানে এমন কিছু জিনিস পাওয়া যায় যার ব্যাখ্যা মেলানো সত্যিই কঠিন। কক্ষের ভেতরে ছিল স্বচ্ছ স্ফটিকে ঢাকা একটি শবাধার। তবে ভেতরটি লক্ষ্য করে হতবাক হয়ে যান ওই প্রত্নতাত্বিক। ভেতরে রয়েছে কোনো মানুষ নয়, এলিয়েন। দেখে মনে হয়, তার মৃত্যু হয়েছিল স্বাভাবিকভাবেই। এছাড়া ঘরটিতে পাওয়া যায় প্যাপিরাসের পাতায় কিছু লেখা।

লেখাগুলো পড়ে আরও চমকে যান তিনি। সেখানে এক জায়গায় লেখা রয়েছে, ‘এখানেই শুয়ে আছেন আকাশ থেকে আসা সেই বিশেষ দূত।’ শুধু তাই নয়, লেখা ছিল তার ভাইয়ের আসন্ন আগমনের বার্তা নিয়েই এসেছিলেন তিনি।
এমন অদ্ভূত ও রহস্যময় লেখা আর মানুষের মতো আকৃতির শবাধার দেখে ভয় পেয়ে যান ওই প্রত্নতাত্বিক। পিরামিড থেকে বের হয়ে এসে সাথে সাথে যোগাযোগ করেন তার এক বন্ধুর সঙ্গে। তিনি ছিলেন স্পেনের জীববিজ্ঞানী.. নাম এফ ডি ব্রাগা।
বিষয়গুলো জেনে ব্রাগাও মিসরের পথ ধরেন। চড়ে বসেন কায়রোর বিমানে। উদ্দেশ্য পিরামিডে পৌঁছে ওই মমিটি থেকে রক্ত এবং ডিএনএ’র নমুনা সংগ্রহ করা। কেননা বন্ধু তার আগেই বলেছিল, মমিটি সাধারণ কারও নয়ৃ এলিয়েনের!

অবশ্য ব্রাগার সেই ইচ্ছে কখনোই পূরণ হয়নি। মিসরে নামতেই বুঝতে পারলেন কিছু একটা সেখানে ঘটেছে। বিমান থেকে নামতেই মিসরীয় কর্তৃপক্ষ সঙ্গে সঙ্গে তাকে আটক করে। শুধু তাই নয়, ফিরতি ফ্লাইটেই তাকে আবার পাঠিয়ে দেয়া হয় মাদ্রিদের পথে।
একদিক কৌতূহল, অন্যদিকে আতঙ্কৃ ব্রাগা বুঝলেন সত্যিই কিছু একটা ঘটেছে মিসরের গিজা পিরামিডকে ঘিরে। কেননা, যে বন্ধু তাকে সংবাদ পাঠিয়েছিল তার সঙ্গেও আর যোগাযোগ করতে পারছিলেন না তিনি।

ফরাসী প্রত্নতাত্বিকের ওই আবিস্কারের পর হঠাৎ করেই অন্যমুর্তি ধারণ করে মিসরের কর্তৃপক্ষ। দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা এসএসআই পিরামিডটিতে তখন সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে। সেই রহস্যময় শবাধারটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়। সড়িয়ে ফেলা হয় গোপন স্থানে।
১৯৮৮ সালের ঐ ঘটনার পর মিসরের কর্তৃপক্ষ একবারের জন্যও বিষয়টি সম্পর্কে আর মুখ খোলেনি। জানা যায়নি ওই ফরাসি প্রত্নতাত্বিকের ভাগ্যে কি ঘটেছিল!
অবশ্য মিসরের ইতিহাসে এমন ঘটনা এটাই প্রথম ছিল না। ৮১৩ সালের দিকে খলিফা আব্দুল্লাহ আল মামুন’এর আমলে মানব আকৃতির এমন ভিনগ্রহী প্রাণীর কথার উল্লেখ রয়েছে। ষাটের দশকের খ্যাতিমান সাংবাদিক পিটার টম্পকিনস’ও দাবি করেছিলেন, খলিফা আল মামুনের ওই কাহিনী মিথ্যে নয়। খলিফা মামুন শুধু এলিয়েনের মমি’ই খুঁজে পাননি, সাথে পেয়েছিলেন স্বর্ণ নির্মিত শবাধার, অমূল্য তরবারিসহ একটি আশ্চর্য রুবি। যার আকার ছিল ডিমের সমান। কথিত আছে সেই রত্নটি খলিফা মামুন মুকুটে পরিধান করতেন।

আশির দশকে ভিনগ্রহের ওই প্রাণীর মরদেহের সন্ধান পেলেও তা একেবারেই গোপন করে ফেলে মিসরীয় কর্তৃপক্ষ। সরিয়ে ফেলা হয়, এ সম্পর্কীত সব ধরনের ছবি এবং তথ্য। সম্প্রতি এমন একটি ছবি ফাঁস হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে এটিই সেই পিরামিডের কথিত এলিয়েন মমি।
ছবিটির সত্যতা থাকুক আর নাই থাকুক। মিসরে ফারাও শাসনামলে ভীনগ্রহের প্রাণীরা আসা যাওয়া করতো এমন দাবি নতুন নয়। সেই সভ্যতার উৎকর্ষতার পেছনেও বুদ্ধিমান এলিয়েনের অবদান রয়েছে বলে কেউ কেউ দাবি করেন।

পৃথিবীর বাইরে বুদ্ধিমান প্রাণীর অস্তিত্ব নিয়ে এখন অনেক বিজ্ঞানীই আগ্রহী। শক্তিমান দেশগুলোর সরকারও নিয়েছে মহাকাশ গবেষণায় নানা পদক্ষেপ। এলিয়েন কিংবা ইউএফও মানুষের শুধুই মিথ্যে ধারণা কিনা সময়ই তা প্রমাণ করবে। পরিবর্তন

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: