সর্বশেষ আপডেট : ৬ মিনিট ৩১ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৩ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মৌলভীবাজারে আলোচিত ভ্রুন হত্যা মামলায় লন্ডনী বধূসহ ৫ জনের গ্রেফতারি পরোয়ানা, গ্রেফতার-১

unnamed-9কুলাউড়া অফিস:: মাতৃগর্ভে আলোচিত ভ্রুন হত্যা মামলায় লন্ডনী বধূসহ ৫ জন আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে সিলেট চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। ওই মামলায় আসামি লন্ডনী বধূর খালু এনামুল হককে গত ১৯ অক্টোবর রাত ৮ টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মৌলভীবাজার শহরের বাস ষ্ট্যান্ড এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে মৌলভীবাজার মডেল থানা পুলিশ। ঘটনার মূলহুতা শিশুর মা ১ নং আসামী আমিনা ইয়াসমিন খাঁন, শিশুর নানা ২ নং আসামী মুজাহিদ খাঁন, নানী ৩ নং আসামী রোকেয়া বেগম ও নজরুল ইসলামকে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি। জানা গেছে তারা লন্ডনে পলাতক রয়েছেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, মৌলভীবাজার শহরের রঘুনন্দনপুর এলাকার বাসিন্দা মোঃ হাসানুজ্জামান হোসাইন এর সাথে ২০১০ সালে ৮ নভেম্বর সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জফরাবাদ ইউনিয়নের মোঃ মোজাহিদ খানের মেয়ে আমিনা ইয়াছমিন খাঁন এর বিবাহ লন্ডনে আনুষ্টানিক ভাবে সম্পন্ন হয়। দেড় বছরের দাম্পত্য জীবনে আমিনা ইয়াছমিন গর্ভ ধারন করেন। গর্ভাবস্থায় আমিনা ইয়াছমিন তার পিতা-মাতাকে নিয়ে স্বামীর অজান্তে ১৪ সেপ্টেম্বর ১১ইং তারিখে দেশে ভ্রমনে এলে পারিবারিক যোগসাজেসে গর্ভে থাকা ২৭ সপ্তাহের অপূর্ণ শিশুকে ০৩ অক্টোবর ১১ইং তারিখে সিলেট ডেল্টা স্পেশালাইজড হসপিটালে অস্বাভাবিক ভাবে ভূমিষ্ট করান। পরে ভুমিষ্ট ছেলেকে অজ্ঞাত স্থানে দাফন করেন। যার হদীস এখনও পাওয়া যায়নি। পরে গত ১১ অক্টোবর ২০১১ইং তারিখে আমিনা ও তার মা রোকেয়া এবং ২০ অক্টোবর ২০১১ইং তারিখে তার বাবা মোঃ মুজাহিদ খান গোপনে লন্ডন চলে যান। সেখানে গিয়ে মোঃ হাসানুজ্জামান হোসাইনকে জানানো হয় গর্ভে থাকা সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে। এ সংবাদটি তার সন্দেহ হলে তিনি লন্ডনে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে লিখিত ভাবে বিষয়টি অবগত করেন ও সে দেশের হাইকোর্টে তার স্ত্রী ও তার শশুর-শাশুরির উপর একটি ভ্রুণ হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং টই১২চ০০২০১)। মামলার সুষ্ট তদন্তের স্বার্থে সিলেট পুলিশ সুপারের নিকট তিনি গত ১৭ জুলাই ২০১২ইং তারিখে আবেদন করেন। এ আবেদন থেকে আরো জানা যায়, বিগত ০২ আগস্ট ২০১১ইং তারিখে লন্ডনস্থ ঞযব যরষষরহমফড়হ যড়ংঢ়রঃধষ পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখা যায় আমিনা ২০ সপ্তাহের অন্তসত্ত্বা। ঐ সংবাদ শুনে আমিনার বাবা-মা তাকে নানা কু-পরামর্শ দেন এবং মানুষিক ভাবে বিপর্যস্ত করে গর্ভ নষ্ট করতে চাপ সৃষ্টি করেন। গত ১২ সেপ্টেম্বর ২০১১ ইং তারিখে আমিনা মা খুব অসুস্থ্য সংবাদ আসলে তিনি থাকে দেখতে যান। তার বাবার বাসায় যাওয়ার পর থেকে আমিনা নিখোঁজ হন। পুলিশ অনেক খোঁজাখুজি করেও থাকে পায়নি। পরে তিনি একটি মামলা দায়ের করি (মামলা নং ১১গওঝ০৩১২৩১)।

এ ঘটনায় মোঃ হাসানুজ্জামান হোসাইন এর পিতা মোঃ আরব আলী বাদী হয়ে সিলেট চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আমিনা ইয়াছমিন খাঁন (পাসপোর্ট নং ৩০৮৬৪২৩৭৪), মোজাহিদ খান (পাসপোর্ট নং ৩০৭৬৫৬৯৯৬), রোকেয়া বেগম, এনামুল হক, নজরুল ইসলাম, নিকুঞ্জ বিহারি দাস, ডাঃ রেজাউল ইসলাম হেভেন, ডাঃ মুন্সি মিজানুর রহমান ও স্বপ্না পাল সহ মোট ৮ জনের আসামী করে গত ৩০/০৬/২০১৩ইং তারিখে একটি ভ্রুন হত্যা ও জালজালিয়াতির মামলা ধায়ের করেন (মামলা নং ২৮/২০২)। পুলিশি তদন্তে স্বপ্না পালকে ঐ মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং আমিনা ইয়াছমিন খান, মোজাহিদ খান, রোকেয়া বেগম, এনামুল হক, নজরুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে গত ২৯/০৯/১৬ তারিখে সিলেট চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। আসামি ডাঃ নিকুঞ্জ বিহারী দাস, ডাঃ রেজাউল ইসলাম, ডাঃ মিজানুর রহমান বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। এ বিষয়ে মামলার বাদী মোঃ আরব আলী বলেন, দেশে থাকা আসামীরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন ভাবে প্রাণ নাশের হুমকি দিচ্ছে এবং আমরা ভয়ের মধ্যে আছি।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: