সর্বশেষ আপডেট : ৭ মিনিট ৭ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৩ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

হবিগঞ্জ পৌরসভা : নামে তাল পুকুর, ঘটি ডুবে না

252নিজস্ব প্রতিবেদক:: পরিষদ আছে। টাকা আছে। আছে লোকবলও। নেই শুধু উন্নয়ন। দুর্গতি পৌরবাসীকে ধরে রেখেছে অক্টোপাসের মত। এ থেকে নাগরিকদের মুক্তি দেওয়ার চিন্তা কর্তৃপক্ষের আছে বলে মনে করেন না ভুক্তভোগী নাগরিক সমাজ। বরং লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি করা হচ্ছে হোল্ডিং ও পানি কর ইত্যাদি। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, ইউজিপের বরাদ্দকৃত সাড়ে ১১ কোটিরও বেশী টাকা এক বছরেও ব্যয় করতে পারেনি হবিগঞ্জ পৌরসভা। প্রথম শ্রেনী এই পৌরসভা অনেকটা ‘নামে তাল পুকুর, ঘটি ডুবে না’ প্রবাদ বাক্যের বাস্তবে রূপ নিয়েছে।

পৌরসভা প্রকৌশল শাখা থেকে জানা যায়, ২০১৫ – ১৬ অর্থ বছরে আরবান গর্ভন্যান্স ইনফারষ্ট্রাকচার ইনপ্রভমেন্ট প্রজেক্ট (ইউজিপ) হবিগঞ্জ পৌরসভার রাস্তাঘাট ড্রেন উন্নয়নে ইউজিপ-৩ প্রথম ফেইজে ১১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। গত বছরের ১৩ নভেম্বর পৌরসভা দরপত্র আহবান করে। প্রথম লটে ১১টি রাস্তা ও ৫টি ড্রেন নির্মানে ৫কোটি ৫৪ লাখ এবং দ্বিতীয় লটে ৪টি রাস্তা ও ৮টি ড্রেন নির্মান ও সংস্কারের জন্য ৬ কোটি ১ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়। যথারীতি সময়ে ঠিকাদার নিয়োগ করা হলেও গত পৌর নির্বাচনের পর ওই টেন্ডার বাতিল করা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে পুনরায় টেন্ডার আহবান করা হয়। দরদাতাদের কার্যাদেশ দেওয়া হয় গত জুন মাসে। মহা ধুমদামে সংসদ সদস্য এডভোকেট আবু জাহিরকে দিয়ে কাজের উদ্বোধন করা হয়। তারপর তথৈবচ। মাসের পর মাস অতিবাহিত হলেও ঠিকাদার কাজে হাত দেননি । রাস্তা সংস্কার ও ড্রেনের অভাবে কি পরিমান দুর্ভোগ তা পৌরবাসী হারে হারে টের পেলেও এর কিঞ্চিত পরিমান দুর্ভোগ ভারপ্রাপ্ত মেয়র বা কাউন্সিলর টের পান কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে কোন কোন কাউন্সিলরগন তার এলাকায় রাস্তাঘাটের দুরাবস্থা সম্পর্কে বর্ননা দিতে গিয়ে ‘পদত্যাগ’ করারও হুমকী দিয়েছেন বলে জানান। দুর্ভোগের শিকার কেউ কেউ পৌরসভায় দ্বারস্থ হলে ‘এ মাসে কিংবা আগামী মাসে’ কাজ সম্পন্ন হবে আশ্বস্থ করে বিদায় করছেন সংশ্লিষ্ট জন প্রতিনিগন। এদিকে পৌরসভার গত সেপ্টেম্বর মাসের নির্মান কাজ মনিটরিং রিপোর্টে দেখা গেছে, প্রথম লটের ১১টি রাস্তা সংস্কার ও নির্মান কাজের একভাগ কাজও শেষ হয়নি। তেমনিভাবে ড্রেনের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে।

এ ব্যাপারে ইউজিপের কর্মকর্তাদের সাথে আলাপ করলে তারা জানান, হবিগঞ্জ পৌরসভা কর আদায়সহ অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রম সুষ্টুভাবে পরিচালিত হলেও প্রকৌশল শাখার অবস্থা’ খুবই নাজুক। যথা সময়ে কাজ সম্পাদন না করায় ইউজিপের বরাদ্দকৃত অর্থ ছাড় করা যাচ্ছেনা। ইতোমধ্যে অর্থ বছর শেষ হয়ে গেছে। যথাসময়ে গৃহীত প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত করতে পারলে পরবর্তী ধাপে অরো অর্থ বরাদ্দ করা যেত। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন পৌরসভা ইউজিপ-৩ কাজ শেষ করে পরবর্তী ধাপের কাজ শুরু হয়েছে।এদিকে খোজ নিয়ে জানা গেছে, পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মধুসুদন দাশ গত মে মাসে অবসরে যাওয়ার পর তার স্থলে কোন প্রকৌশলী নিয়োগ করা হয়নি। ১০ বছর ধরে শূন্য রয়েছে সহকারি প্রকৌশলীর পদ। মাত্র একজন উপ সহকারি প্রকৌশলী দিয়ে চলছে পৌরসভা প্রকৌশল শাখা। যা তার পক্ষে এত গুলো প্রকল্প কাজের বাস্তবায়ন প্রায় অসম্ভব।

ঠিকাদার দুলাল মিয়ার সাথে আলাপ করে জানা যায়, তিনি এই প্রকল্পের একাধিক নির্শান ও সংস্কার কাজ পেয়েছেন। কাজ শেষ দেরী হওয়ার পেছনে তিনি বলেন, টেন্ডারের কাজ পাওয়ার পর তা নিরূপন , সাইড বুঝিয়ে দিতে বিলম্ব ও বর্ষার কারন দেখিয়েছেন।

পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র দীলিপ দাস বলেন, ঠিকাদারদেরকে বার বার তাগিদ দেওয়া সত্বেও তারা কাজ শেষ করতে পারেননি। ফলে জনগন যে অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তা বুঝতেছি।তিনি ইতোমধ্যে তাদেরকে ডেকে এনে কাজ সম্পাদনের জন্য কড়াভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।তিনি আশা করছেন বর্তমান শুকনো মওসুমের মধ্যেই রাস্তা ও ড্রেন নির্মান কাজ শেষ হবে। তিনি জানান নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী নিয়োগ দেওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলীকে দিয়ে কাজ করানোর জন্য মন্ত্রনালয়ে পএ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো কোন নির্দেশ আসেনি।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: