সর্বশেষ আপডেট : ৩ মিনিট ৯ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ২৪ অগাস্ট, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৯ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

মাধবপুরে মা মেয়েসহ ট্রিপল মার্ডার : মামলার তদন্তভার সিআইডিতে স্থানান্তরের দাবি

pic-madhabpurhabigonj-3-copyমাধবপুর প্রতিনিধি ::
হবিগঞ্জের মাধবপুরে মা মেয়েসহ ট্রিপল মর্ডারের মামলার তদন্ত ভার সিআইডিতে স্থানান্তর অথবা বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বাদি পক্ষের লোকজন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে প্রথমে নিহত জাহানারার স্বামী ও শারমিনের পিতা প্রবাসী গিয়াস উদ্দিন তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ২৩ আগস্ট সন্ধ্যায় মর্মান্তিক এ হত্যাকান্ডের খবর পেয়ে ২৫ আগস্ট তিনি দেশে এসে থানায় এজাহার নিয়ে গেলে পুলিশ তার অভিযোগ গ্রহন করেনি। পরে তিনি কোর্টে মামলা করলেও থানায় রেকর্ডকৃত মামলার পুলিশ রিপোর্ট প্রকাশের পূর্বপর্যন্ত কোর্টে দায়েরি অভিযোগের কার্যক্রম স্থগিত করেন আদালত। কিন্তু থানায় রেকর্ডকৃত মামলারও আইনি কোনো তৎপরতা না থাকায় তিনি এর তদন্তভার সিআইডিতে স্থানান্তর অথবা বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি আরো জানান, এ হত্যাকান্ডের প্রত্যক্ষদর্শী তার ছেলে আহত সুজাত তাকে জানিয়েছে, হত্যাকান্ডের সময় তাহের উদ্দিন, রিপন, জুয়েলসহ একজন মুখোশপরা লোক সরাসরি হত্যাকান্ডে অংশ নেয় এবং বাইরে ৪/৫ জন লোক অস্ত্রহাতে দাঁড়িয়ে ছিল। নিহত জাহানারার পিতা আবু শ্যামা জানান, তিনি মোবাইলফোনে খবর পেয়ে জাহানারার বাড়িতে গিয়ে দেখেন, খুনি তাহের উদ্দিন ও তার ভাই আলাউদ্দিন ঘরের ভেতর লাশের পাশে পায়চারী করছে এ সময় স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ কয়েকজন লাশ ও আহতদের বাইরে নিয়ে আসেন। এর পরে এসআই মমিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে বৈদ্যুতিক লাইট বন্ধকরে ঘর থেকে ৪/৫জন লোককে ঘর থেকে বের করে পালিয়ে যেতে সাহায্য করে এবং তাকে পর দিন সকালে মামলা করতে থানায় যেতে বলে। পরদিন সকালে থানায় গেলে পুলিশ তাঁকে মামলা করার কোনো সুযোগ দেয়নি। এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতা তাঁর সাথে দুর্ব্যাবহার করে তাকে থানা থেকে বের করে দেয়।
নিহত শিমুলের পিতা আব্দুল আলীম জানান, থানা কর্তৃপক্ষ তার কোনো অভিযোগ গ্রহন করেনি। বিনা দোষে আমার ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। কিন্তু আমি বিচার চাওয়ার কোনো জায়গা পাইনি। মামলার সাজানো বাদি মোহন মিয়া জানান, আমার নিকট থেকে লাশের শনাক্তকারী হিসেবে কাগজে স্বাক্ষর নেয়। কিন্তু পরে জানতে পারি এ কাগজে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। পরে আমি আদালতে অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে এই মামলায় বাদি হইনি বলে জানাই। তাঁরা এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত অথবা সিআইডি কর্তৃক তদন্ত দাবি করছেন।
উল্লে¬খ্য, গত ২৩ আগস্ট সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের সময় উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের বীরসিংহপাড়া গ্রামের প্রবাসী গিয়াস উদ্দিনের ঘরে প্রবেশ করে তার ছোট ভাই শাহ আলম ওরপে তাহের উদ্দিন ও তার লোকজন গিয়াস উদ্দিনের স্ত্রী জাহানারা বেগম, কন্যা শারমিন আক্তার ও শিশু ছেলে সুজাত মিয়াকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর আহত করে। এর ঘন্টা খানেক পর পার্শ্ববর্তী আব্দুল আলীমের ছেলে শিমুল মিয়াকে বাড়ির পাশে রাস্তায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আহত করে। ঘটনাস্থলেই জাহানারার মৃত্যু হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর কন্যা শারমিন আক্তার ও প্রতিবেশী শিমুলকে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। শিশু ছেলে সুজাত গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো তৎপরতা নেই বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: