সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
বৃহস্পতিবার, ২৪ অগাস্ট, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৯ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জৈন্তায় সরকারি ভূমি থেকে ৪০ পরিবারকে উচ্ছেদ: গাছ ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ

ucched-news-daily-sylhetজৈন্তাপুর প্রতিনিধি::
জৈন্তাপুর উপজেলার সরকারি ভূমি থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত সরকারি ভূমির লিজ দাবিদার এম.আহমদ টি অ্যান্ড ল্যান্ড কোম্পানির লালাখাল চা-বাগানের কাছে হস্তান্তর করেছেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। উচ্ছেদের ফলে ভিটামাটিছাড়া হয়েছে ৪০টি হতদরিদ্র পরিবার। উচ্ছেদকালে গাছগাছালি ও ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ায় প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

গতকাল সোমবার সকাল ১১টায় জৈন্তাপুর উপজেলার চারিকাটা ইউনিয়নের বাউরী টিলা লিজগ্রহীতা এম.আহমদ টি এন্ড ল্যান্ড কোম্পানিকে জমি বুঝিয়ে দিতে ভূমি উদ্ধারে নামে প্রশাসন। এ সময় গ্রামবাসী উচ্ছেদে বাধা দেন। একপর্যায় ইউপি চেয়ারম্যান শাহ-আলম চৌধুরী তোফায়েল, ইউপি সদস্য হাজির আলী, সমাজসেবী সুলতান আহমদ, আলতাফ হোসেন বেলাল ও গণ্যমান্যদের সহযোগিতায় পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলমের উপস্থিতিতে ৪০টি পরিবারের দখলে থাকা প্রায় ২৩ একর ভূমি উদ্ধার করা হয়।

ভূমি উদ্ধারের উদ্ধারের সময় প্রশাসনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার উত্তর ধীরেন্দ্র মহাপাত্র, জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সুহেল মাহমুদ, জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সফিউল কবির, জৈন্তাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসার আব্দুর রহিম, লালাখাল চা-বাগানের ব্যবস্থাপক সৈয়দ মহি উদ্দিন, সহকারী ব্যবস্থাপক কামরুজ্জামান, বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও বাগানের কর্মচারীরা। ভূমি উদ্ধার করে এম.আহমদ টি অ্যান্ড ল্যান্ড কোম্পানির লালাখাল চা-বাগানের সাইনবোর্ড সাঁটানোর মধ্য দিয়ে দখল সমঝিয়ে দেওয়া হয়। উদ্ধারকালে সৃজিত বাগান কেটে ফেলা হয় এবং বসতঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে ৪০টি পরিবারের প্রায় ২কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে এলাকাবাসী দাবি করেছেন।
এবিষয়ে চারিকাটা ইউপি চেয়ারম্যান শাহ-আলম চৌধুরী তোফায়েল প্রতিবেদকে জানান, এখানে ইতঃপূর্বে লালাখাল চা-বাগান ভূমি বন্দেবস্ত গ্রহণ করে। এক পর্যায়ে তারা খাজনা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় স্থানীয় জনসাধারণ সরকারি ভূমিতে বাগান সৃজন করেন এবং ভূমি বন্দোবস্তের জন্য আবেদন করা হয়। বর্তমানে সৃজিত বাগান ধ্বংস হওয়ায় ৪০টি পরিবারে প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, ভূমি হতে ফলদ ও বনজ সম্পদ এবং বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ না করে তাদেরকে অন্যত্র সরিয়ে দিলে হতো। তাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম হতো। তিনি উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের জন্য এম.আহমদ টি এন্ড ল্যান্ড কোম্পানির কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আর্কষণ করেন।

এ বিষয়ে এম.আহমদ টি.এন্ড.ল্যান্ড কোম্পানির সহকারী ব্যবস্থাপক কামরুজ্জামান প্রতিবেদককে জানান, বিরোধীয় ভূমি লালাখাল চা-বাগানের একটি অংশ। দীর্ঘ দিন হতে এলাকার লোকজন নানানভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন। মৌখিক ও স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে একাধিক বার তাদেরকে সরে যাওয়ার জন্য বলা হলেও তারা দখল ত্যাগ করেননি। তাই আদালতের মাধ্যমে গতকাল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণভাবে এই ভূমি এম.আহমদ টি এন্ড ল্যান্ড কোম্পানির লালাখাল চা-বাগানের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সুহেল মাহমুদ প্রতিবেদককে জানান-জমিটি উদ্ধার করতে জেলা প্রশাসক হতে সরাসরি একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয় এবং তাঁর উপস্থতিতেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় ভূমির প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আমি শুধু নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে পর্যবেক্ষণ করেছি।

এ বিষয়ে জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্র্রেট শাহিদুল আলম জানান, এম.আহমদ টি এন্ড ল্যান্ড কোম্পানির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলার সমন্বয় সভা হতে উচ্ছেদের প্রস্তাবটি জেলা পরিষদে প্রেরণ করা হয়। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা পরিষদের আইনশৃঙ্খলা বৈঠকে উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। শান্তিপূর্ণভাবে উচ্ছেদ পরিচালানা করা হয়েছে এবং ভূমির প্রকৃত মালিককে জায়গা সমঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: