সর্বশেষ আপডেট : ৫ মিনিট ৪১ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

‘মিথ্যা বলা’ বদলে দিচ্ছে আপনার ‘মস্তিষ্ক’

web-brain-getty-c-dontuseagain-jpg-550x413আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: প্রতারকদের ছোট ছোট অসততাগুলো বরফগোলকের মতো ক্রমান্বয়ে বড় হতে হতে একসময় হঠাৎ আবিষ্কার করে তারা অনেক বড় অপরাধী হয়ে উঠেছে।

মস্তিষ্ক স্কেন করে দেখা গেছে, প্রথমবার মিথ্যা বললে এক ধরণের শক্তিশালী আবেগিক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় পূন: পূন: বলায় যার সম্প্রসারণ ঘটে।
নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, ছোট ছোট মিথ্যা আপনাকে একটি পিচ্ছিল ঢালু পথে ধাবিত করবে যার গন্তব্য ক্রমান্বয়ে বড় ধরণের অসততা।
‘অনিশ্চয়তার এক খেলায়’ বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, মানুষ যখন প্রথমবার মিথ্যা বলে তখন তার মস্তিষ্কে বড় ধরণের আবেগিক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। খেলা চলতে থাকলে সময়ের সাথে সাথে এই প্রতিক্রিয়া ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হতে থাকে এবং খেলাটিতে খেলোয়াড়রা যখন প্রাথমিক অবস্থায় একটি মিথ্যা বলতে বাধ্য হয় তার পরবর্তী ধাপগুলোতে নিজের সুবিধা আদায় করতে তারা আরও বেশি অবিশ্বস্থ হয়ে উঠে।

‘ন্যাচার নিউরোসায়েন্স’র একটি সাময়িকীতে গবেষকরা তাদের প্রতিবেদনটি প্রকাশের মাধ্যমে মানুষকে আরও সত্যনিষ্ঠ হওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করে।
ইউনিভার্সিটি কলেজ অব লন্ডনের গবেষকদের একজন ড. তালি শরৎ বলেন, ‘জীবনে আপনি হয়তো খেয়াল করেছেন যে, আপনার ছোট ছোট অসততাগুলো সময়ের সঙ্গে ক্রমান্বয়ে বড় হচ্ছে এবং একসময় এগুলো সত্য বলেই আপনার কাছে প্রতিয়মান হচ্ছে।’
বলেন, ‘কর ফাঁকি, বিশ্বাস ঘাতকতা, খেলায় ডোপিং, বিজ্ঞান এবং আর্থিক জালিয়াতির মাধ্যমে প্রতারকরা ধীরে ধীরে আরও বড় অপরাধের দিকে ধাবিত হয়।’
শরৎ এই ব্যাপারটিকে ‘মানসিক অভিযোজন’র সঙ্গে তুলনা করেন। উদাহরণ স্বরূপ, এই প্রক্রিয়ায় যদি কেউ একটি খন্ড-বিখন্ড মানুষের ছবি দেখে মানসিক আঘাত পায়, তবে দ্বিতীয়বার এমনটি দেখলে তিনি ততটা আঘাতপ্রাপ্ত হবেন না। ড. শরৎ জানান, এমনটি হওয়ার ক্ষেত্রে নানা কারণ থাকতে পারে। গবেষকরা ধারণা করেছিলেন, মস্তিষ্কের গঠনগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এমনটি হতে পারে।

সততা পরীক্ষার একটি খেলায় গবেষকরা ৮০ জনের একটি দল পান। তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হয়- একটি বাক্সে কতগুলো পয়সা আছে অনুমান করার জন্য এবং তারপর তাদের ধারণাটি তাদের পাশের জনের সঙ্গে শেয়ার করার জন্য; যাকে খুব অল্পসংখ্যক পয়সার একটি জার দেওয়া হয়েছে।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাদেরকে বলা হয়েছিলো- তারা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন, যদি তাদের দুজনের উত্তরই কাছাকাছি হয়।
এই পরীক্ষায় গবেষকরা প্রথমেই আবিষ্কার করেন যে, খেলোয়াড়দের কেউ কেউ ছোট ছোট কিছু মিথ্যা বলা শুরু করেছে এবং খেলা গড়ানোর সাথে সাথে তাদের মিথ্যা বলার প্রক্রিয়াটা আরও বেড়ে যাচ্ছে।

একটি এমআরআই স্কেনারে তাদের মস্তিষ্ক পরীক্ষা করে দেখা গেছে, মস্তিষ্কের একটি অংশ আবেগের সঙ্গে যুক্ত। এই অংশটিতে প্রাথমিকভাবে মিথ্যা বললে প্রবল আলোড়নের সৃষ্টি হয়। কিন্তু পরবর্তী মিথ্যাগুলোতে এটির আলোড়ন ধীরে ধীরে কমতে থাকে।
শরৎ বলেন, ‘আমরা যখন ব্যাক্তিগত লাভের জন্য কোন মিথ্যা বলি, আমাদের মস্তিষ্কে এক ধরণের নেতিবাচক অনুভূতির সৃষ্টি হয়, আর এই অনুভূতি ধীরে ধীরে পরের মিথ্যাটি বলার জন্য প্রস্তুত হয়।’

তিনি বলেন, ‘মিথ্যার মধ্য দিয়ে একটি পিচ্ছিল ঢালু পথে মানুষ যাত্রা করে; এ পথে ক্রমান্বয়ে তার মিথ্যা যাত্রার গতি বাড়তে থাকে এবং চূড়ান্ত অপরাধের দিকে ধাবিত করে।’
শরতের সহকর্মী ড. নিল গ্যারেট বলেন, ‘এই প্রক্রিয়ায় আমাদের আচরণেও ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসতে থাকে; এক সময় তা হিং¯্রতার রূপ নেয়।’
গ্যারেট আরও বলেন, ‘কিছু মানুষ প্রচুর মিথ্যা বলে, কেউ কম। তবে, দুজনের গতিবেগই একদিকে ধাবিত হয়- সে দিক আপরাধের।’

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: