সর্বশেষ আপডেট : ১২ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড আগে
বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

অফিস টু পার্টি

1477370801লাইফ স্টাইল ডেস্ক:: বরাবরই অফিসের সাজ একরকম, আর যেকোনো নিমন্ত্রণের সাজ অন্যরকম। এমন যদি হয়, সারাদিন অফিস শেষে মনে পড়ল বন্ধুর বিবাহবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে না গেলেই নয়। ঠিক ওই মুহূর্তে আপনার করণীয় কী হবে, একবার ভাবুন তো। পড়ে গেলেন তো টেনশনে? নো টেনশন, আপনাকে এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে এবার কিছু পরামর্শ নিয়ে লিখেছেন সাবেরা সুলতানা।

সকালে ঘুম থেকে উঠে পরিবারের অন্য সদস্যদের তৈরি করে নিজেকেও পরিপাটি হয়ে যেতে হয় অফিসের উদ্দেশে। আর যেনতেনভাবে তো অফিসে যাওয়া যায় না। তাই অফিসে যাওয়ার আগে অবশ্যই আপনাকে মাথায় রাখতে হবে অফিসের পরিবেশের সঙ্গে মানানসই সাজগোজের বিষয়টি। তার পর হঠাৎ করেই মনে পড়ল বিকেলে অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণের কথা। কাজের চাপে দিন শেষে চোখেমুখে ক্লান্তি। এসময় কী করবেন, বুঝে উঠতে পারেন না অনেকেই। তাই বলে কি নিমন্ত্রণে যাওয়া বাদ দিয়ে দেওয়া যায়? কিন্তু কর্মক্লান্ত চেহারা নিয়ে নিমন্ত্রণে যাবেনই বা কী করে? কর্মজীবীদের প্রায়ই এ সমস্যায় পড়তে হয়—অফিসের পর কোনো অনুষ্ঠান বা পারিবারিক নিমন্ত্রণে যাওয়ার ব্যাপার থাকে। পরিপাটি সাজ না থাকায় এমন অনুষ্ঠানে যেতে আপত্তিও থাকে কারো কারো। এসব আয়োজনে ক্যাজুয়ালভাবেও তো যাওয়া যায় না। সে ক্ষেত্রে প্রথমে বুঝতে হবে, কী ধরনের অনুষ্ঠান। আর নিজের সম্পর্কে থাকতে হবে স্বচ্ছ ধারণা। কোন ধরনের পোশাক পরলে মানাবে, কোন ধরনের মেকআপ আপনার ত্বকের উপযোগী—সেটি প্রথমে বুঝে নিন। বিকেলে নিমন্ত্রণের জন্য তো সকালে সাজসজ্জা করে অফিসে যাওয়া যায় না। আবার পার্টিতে যাওয়ার আগে সাজবেন বলে সারাদিন পরিপাটি থাকবেন না, সেটিও মেনে নেওয়া যায় না। সেজন্য সকাল থেকেই আপনাকে এক ধরনের প্রস্তুতি নিতে হবে। তবে খুব ভারী বা জমকালো মেকআপ হলে চেহারায় এক ধরনের কৃত্রিমতা চলে আসে। সকাল বা সন্ধ্যা সময়টা যখনই হোক না কেন, ন্যাচারাল মেকআপ সব পরিবেশে মানানসই।

কর্মস্থলের পরিবেশের কথা মাথায় রেখে হালকা টিয়া, নীল, বেগুনি, সবুজ, বাদামি, বাঙ্গি রঙের শাড়ি পরতে পারেন। কর্মস্থলে যেহেতু সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকতে হয়; তাই নিজের কাজের সুবিধার্থে সুতি, লিলেন, জুট, তাঁতের সালোয়ার-কামিজ অনেকে পরে থাকেন। এ সময় মেয়েদের শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ আর ছেলেদের স্ট্রাইপ ফেব্রিকের ফরমাল শার্ট ও নরমাল প্যান্টে ফরমাল লুককেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া উচিত। তা ছাড়া সময়ভেদে ছেলেরা ফরমাল শার্ট-প্যান্টের সঙ্গে ব্লেজারও ব্যবহার করতে পারেন। অফিসে যে ধরনেরই পোশাক পরা হোক না কেন, নিজের মেকআপ ও গেটআপে অবশ্যই থাকতে হবে ফিটফাট ভাব।

শর্টকাটে স্মার্ট
আপনার প্রয়োজনীয় সাজের সামগ্রী যেমন—কাজল, আইলাইনার, মাশকারা, আইশ্যাডো, লিপস্টিক, লিপলাইনার, লিপগ্লস, কনসিলার, ব্লাশঅন, ব্রোঞ্জার ও ফাউন্ডেশন সঙ্গে রাখুন। এসব রাখার জন্য আলাদা ব্যাগ বা পাউচ পাওয়া যায়। বড় ব্যাগের মধ্যে এ রকম একটি ব্যাগ সবসময় রেখে দেবেন। তাহলে আপনাকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হবে না। এ ছাড়া সুগন্ধি, আয়না ও চিরুনি রাখতে ভুলবেন না। এমন ধরনের পোশাক বেছে নিন, যা আরামদায়ক। কেননা সারাদিন অফিসে এই পোশাক পরেই থাকতে হবে। যারা নিয়মিত সালোয়ার-কামিজ পরেন, কোনো অনুষ্ঠান থাকলে সেদিন শাড়ি পরতে পারেন। জামদানি, শিফন অথবা মসলিন বেছে নিতে পারেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে গোসল করে নিন। এতে আপনার শরীর ও মন দুই-ই সতেজ থাকবে। সারা শরীরে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। সানস্ক্রিন বা কনসিলার ভালোভাবে মুখে মেখে নিন। এরপর হালকা করে একটু প্রেসড পাউডার ব্যবহার করুন। চোখের ওপরে ধূসর বা বাদামি অর্থাত্ হালকা রঙের আইশ্যাডো ব্যবহার করতে হবে। আর কাজল চোখের বাইরে না লাগিয়ে ভিতর দিকে লাগালে ছড়িয়ে পড়বে না। হালকা কোনো লিপগ্লস বা লিপস্টিক ব্যবহার করুন ঠোঁটে। যেহেতু এখন গরম পড়েছে, তাই ম্যাট ধরনের লিপস্টিক ব্যবহার করা ভালো। এভাবে সেজে বেরিয়ে পড়ুন অফিসের উদ্দেশে। কর্মব্যস্ত দিনের শেষে নিজেকে আবার একটু গুছিয়ে নিন। ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার না করে ফেসিয়াল ওয়াইপস দিয়ে মুখ মুছে নিন। পানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করলে সকালের পুরো মেকআপ তুলতে হবে, যা সময়সাপেক্ষ। তাই ওয়েট টিস্যু বা ফেসিয়াল ওয়াইপস ব্যবহার করুন। এরপর নিজের ত্বকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে কনসিলার বা ফাউন্ডেশন ব্যবহার করুন। পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে অথবা কালো ও নীল আইশ্যাডো মিশিয়ে স্মোকি করতে পারেন চোখের সাজটা। চোখের নিচের পাতার বাইরে দিয়ে গাঢ় করে কাজল আঁকতে হবে। ওপরের পাতায় আইলাইনার আর মাশকারা দিয়ে নিন। ঠোঁটে গাঢ় বা হালকা রঙের লিপস্টিকের ওপরে শাইনি লিপগ্লস ব্যবহার করুন। এ ক্ষেত্রে লিপলাইনার দিয়ে ঠোঁট আগে এঁকে নিতে হবে। তাহলে লিপস্টিক ছড়িয়ে পড়বে না। রাতের অনুষ্ঠানের জন্য একটু গাঢ় রঙের ব্লাশঅন ব্যবহার করা যেতে পারে। এরপর সারা মুখে ও চিবুকে সামান্য পরিমাণে ব্রোঞ্জার ব্যবহার করুন। এতে আপনার চেহারার ক্লান্তি ঢেকে উজ্জ্বলতা ফুটে উঠবে। এবার আসা যাক চুলের সাজে। চুল ছেড়ে দিতে পারেন। এলোমেলো হয়ে থাকলে হালকা পানি দিয়ে চুলটাকে সেট করে নিন। খোঁপাও করতে পারেন। সবশেষে প্রিয় সুগন্ধির ছোঁয়া নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন।

কাজ এবং পোশাক আশাক
মূলত অফিসে কাজটাই মুখ্য, সেখানে পোশাকের দিকে অতটা নজর না দিলেও চলে—এমন ধারণা বর্তমান যুগে অচল। স্মার্ট, পরিচ্ছন্ন গেটআপ আপনাকে করে আত্মবিশ্বাসী, যা অফিসের কাজেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই আপনার সাজ-পোশাকও যখন ব্যক্তিত্বের মাপকাঠি হয়ে ওঠে, তখন প্রয়োজন এ সম্পর্কে সঠিক ধারণা। প্রতিদিন কী পোশাক পরে কাজে যোগ দেবেন, সেটার উপর চিন্তা করে বা আপনার অফিসের ধরন বুঝে তারপর সিদ্ধান্ত নিন। শাড়িতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ না করলে ফরমাল ফুলস্লিভ সালোয়ার-কামিজ পড়তে পারেন অথবা বিজনেস স্যুটেও মেয়েদের বেশ মানিয়ে যায়। কী ধরনের গহনা, জুতা বা ব্যাগ ব্যবহার করবেন তা নিয়েও ভাবনা-চিন্তার প্রয়োজন আছে। কর্মক্ষেত্রে সুনাম অর্জন করার জন্য কর্মদক্ষতার সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজন এক সুন্দর পরিশীলিত ব্যক্তিত্বের উপস্থাপনা। অফিসে কম সময়ে নিখুঁত কাজ করার ক্ষমতা ছাড়াও আরও যে জিনিসটা সবাই লক্ষ করেন তা হলো আপনার ড্রেস সেন্স। তাই সে দিকে লক্ষ রাখাটা একান্ত কর্তব্য।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: