সর্বশেষ আপডেট : ১৪ মিনিট ৭ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ২ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

টিকে থাকবে কি থাইল্যান্ডে রাজতন্ত্র

thaiআন্তর্জাতিক ডেস্ক:: থাইল্যান্ড এখন কার্যত রাষ্ট্রপ্রধান শুণ্য। রাজা ভূমিবলের মৃত্যুর পর এ শুন্যতার তৈরি হয়। তার মৃত্যুতে এক বছরের শোক ঘোষণা করে থাই সরকার। আর যুবরাজ মাহা ভাজিরালঙ্করণ জানান, শোককালে তিনি অভিষিক্ত হতে চান না। এমন পরিস্থিতিতে রাজপ্রতিভূ এখন ভরসা। শেষ পর্যন্ত রাজপ্রতিভূ নির্বাচিত হয়েছেন রাজা ভূমিবলের ঘনিষ্ঠ সাবেক সেনা প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী প্রেম তিনসুলানন্দ।
এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে একটা প্রশ্ন জেগেছে- থাইল্যান্ডে রাজতন্ত্র কি অপসৃয়মান? এ প্রশ্নের রেশ ধরে আসে আরো একটি প্রশ্ন-রাজা ভূমিবলই কি দেশটির শেষ রাজা?

এ প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে দেখতে হবে থাইল্যান্ডের চলমান রাজনীতি এবং রাজতন্ত্রের ইতিহাস। থাইল্যান্ডে এখন সেনা শাসন। দেশটিতে কিছু দিন আগে নতুন সংবিধান সম্পর্কিত একটি গণভোট হয়েছে। ভোটে জিতেছে সেনা শাসকদের প্রস্তাবিত খসড়া সংবিধান। যে সংবিধানে রয়েছে আইন সভায় নির্বাচিত প্রতিনিধির চেয়ে মনোনীত প্রতিনিধির সংখ্যাধিক্য। এ খসড়া সংবিধান এখন চূড়ান্ত অনুমোদন এবং কার্যকর হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আর এই সংবিধান কার্যকর করতে হলে দরকার রাজার অনুমোদন।

প্রকৃত অর্থে থাইল্যান্ডের রাজনীতি আবর্তিত হয় দুটি রঙকে ঘিরে। লাল ও নীল। লাল রঙের সমর্থক রাজনীতিকরা রাজতন্ত্রের বিরোধী বা ততটা জোরালো সমর্থক নন। আর নীল রঙের সমর্থক রাজনীতিকরা সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের সমর্থক। তাদের অর্থনৈতিক নীতি, রাজনীতি-দর্শন প্রায় অভিন্ন। তার পরও বিরোধ চরমে। বিরোধ কেবল রাজতন্ত্র নিয়ে নয়। আশরাফ-আত্রাফ বিষয়ক ইস্যুও আছে। লালের সমর্থক গ্রামের মানুষ, শহুরে শ্রমজীবি- যারা প্রধানত জীবিকার সন্ধানে গ্রাম থেকে এসেছে। আর মধ্যবিত্তের সেই অংশ লালের সমর্থক যারা এখনো ছুটিতে গ্রামে যায়, এখনো গ্রামে রয়ে গেছে তাদের যোগসূত্র। নীলের সমর্থকরা অভিজাত। তারা ক্ষমতা কাঠামোর গভীরে বিচরণ করে। তাদের চারপাশে আছে শহুরে মধ্যবিত্ত এবং মেট্রো-ব্যাংককে জন্ম নেয়া ও বেড়ে ওঠা শ্রমজীবী মানুষ।
এই দুই রাজনৈতিক ধারার বিরোধের সুবিধা সব সময়ই নিয়েছে সামরিক বাহিনী বিশ্বযুদ্ধ উত্তর থাইল্যা-বাসী বহুবার রাজনৈতিক বিরোধে জড়িয়েছে আর প্রবেশ করেছে দীর্ঘ সামরিক শাসনে। বেশ ক’বার জনতার মুখোমুখি হয়েছে সামরিক বাহিনী তখন রাজাই ছিলেন ভরসার জায়গা- যিনি দু’পক্ষকে রক্তারক্তি কা- থেকে নিবৃত করেছেন। থাইল্যান্ডে রাজা ভূমিবল ছিলেন ঈশ্বরের ছায়া। মানুষ তাকে শ্রদ্ধা করতো ঈশ্বরের প্রতিনিধি হিসেবেই।
থাই রাজার এই ভাবমূর্তি গড়ে তোলা হয়েছে ধীরে ধীরে। আগে রাজারা এতোটা শ্রদ্ধা-আত্তি পেতেন না।

থাইল্যান্ডের রাজারা ঐতিহাসিকভাবে শ্যাম রাজা হিসেবে পরিচিত। রাজা এখানে দেশ, সশস্ত্র বাহিনী, বিচার ও যাজক সংঘের অভিভাবক। বর্তমান রাজন্ত্রের উদ্ভব হয়েছে আট’শ বছরের বিবর্তন-পরিবর্তনের পথ ধরে। এর মধ্যে রাজতন্ত্র বিরোধী আন্দোলনও হয় দেশটিতে। এর পর ১৯৩২ সালে নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় দেশটিতে। সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের প্রবর্তক ছিলেন বিদেশে লেখাপড়া করা লোকজন যাদের নিজেদেরও অভিজাততান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বা মনোভাব ছিলো। সাংবিধানিক রাজতস্ত্র নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্রের অবসান ঘটায়। রাজা ভূমিবল সিংহাসনে আরোহন করেন ১৯৪৬ সালে তার ভাইয়ের অস্বাভাবিক ও বিতর্কিত মৃত্যুর পর। তখন তিনি স্যুইজারল্যান্ডে লেখাপড়া করছিলেন। শোকের মধ্যেই তিনি অভিষিক্ত হন। আর তার ছেলে শোকের বছরে অভিষিক্ত হতে চাইছেন না।
রাজা ভূমিবল কমপক্ষে দু’বার দেশকে রক্ষা করেছেন রক্তক্ষয়ী রাজনৈতিক সংঘাত থেকে। তিনি, তার পরিবার ও তার অভিজাত বন্ধুরা অক্লান্ত চেষ্টায় রাজাসনকে ঈশ্বরের প্রতীক হিসেবে গড়ে তুলেছেন।

রাজা ভূমিবলের মৃত্যুর পর সেনা সরকারের প্রধানমন্ত্রী কয়েকজন প্রতিনিধিসহ দেখা করতে যান যুবরাজের সঙ্গে। ফিরে আসেন শোকের ঘোষণা এবং শোকের মধ্যে রাজাভিষেক না হওয়ার ঘোষণা নিয়ে। তবে রাজপ্রতিভূ হিসেবে নির্বাচিত হন রাজা ভুমিবলের ঘনিষ্ট জেনারেল প্রেম তিনসুলানন্দন। এই তিনিটি বিষয় থাইল্যান্ডের রাজনীতির অন্দর মহলের টানাপোড়েনের নির্দেশক।

যুবরাজের ভাবমূর্তি তার পিতার মতো নয়। প্রচলিত আছে ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে তিনি লাল শার্টদের নীতিকে সমর্থন করেন। এমনকি তিনি ক্ষমতাচ্যুত ইংলাক নিনাওয়ার্তার ঘনিষ্ঠ বলে ধরা হয় যুবরাজকে। আর রাজা প্রতিভু ঈশ্বরের ছায়ারূপে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন তার বাবাকে। তিনি লাল শার্টদের বিরোধী হলেও রাজতন্ত্রের বিরোধী নন। এখন যে ধারা থাই ক্ষমতা কাঠামোকে নেতৃত্ব দিচ্ছে তারা রাজতন্ত্রের সমর্থক। তবে জনসমর্থনের দিক থেকে পিছিয়ে। সামরিক শক্তির ছায়ায় তারা এমন এক সংবিধান কার্যকর করতে যাচ্ছে তাকে কোন মতেই গণতন্ত্রের ধারক বলা যাচ্ছে না। এমন সংবিধানকে পশ্চিমের মিত্র দেশগুলো ভালো চোখে দেখছেনা। যুক্তরাষ্ট্র হয়তো এখনি তেমন উচ্চবাচ্য করবেনা। কেননা চীন বিরোধী মিত্র হিসেবে পূর্ব এশিয়ায় থাইল্যান্ডকে তাদের দরকার। আর দেশটি তাদের পরীক্ষিত বন্ধু। রাজনীতির কূটচাল বিবেচনায়, থাইল্যান্ডে রাজতন্ত্র আর কোন প্রভাবক ভূমিকা রাখার অবস্থানে নেই। আবার ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের সময়ও পার হয়নি। এই দোলাচলের শেষ দেখতে বিশ্ববাসীর অপেক্ষা করতে হবে এক বছর।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: