সর্বশেষ আপডেট : ৭ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আ.লীগের সম্মেলনে যা বললেন বিদেশি বক্তারা

123-2-550x337নিউজ ডেস্ক:: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন আওয়ামী লীগের ২০তম সম্মেলনে আগত বিদেশিরা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করার পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন বিদেশিরা। এছাড়া সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ দমনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের কথা জোরালোভাবে উপস্থাপন করেন কেউ কেউ।

ভারতের কংগ্রেসের প্রতিনিধি, রাজ্যসভার বিরোধীদলীয় নেতা গোলাম নবী আজাদ বলেন, বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ দমনের লড়াইয়ে শেখ হাসিনা গুরুত্বপূর্ণ নেতা। তিনি জঙ্গি-সন্ত্রাস দমনে যে দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছেন, তা প্রশংসার দাবি রাখে। আমরা দেখতে চাই, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আপনি (শেখ হাসিনা) হবেন অন্যতম শীর্ষ নেতা; সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি থেকে এই উপমহাদেশকে রক্ষা করবেন।

তিনি মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তার দলের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগকে কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। বলেন, এই সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ধন্যবাদ। সম্মেলনের সাফল্য কামনা করছি।

২০১১ সালে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর ঢাকা সফরের কথা স্মরণ করে আজাদ বলেন, ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। এই সম্পর্ক দিন দিন বাড়বে। ভারত-বাংলাদেশ নতুন নতুন কিছু চুক্তি হয়েছে। আমাদের দুই দেশের সম্পর্ককে যা আরও শক্তিশালী করে তুলবে।
এই রাজনীতিক বঙ্গবন্ধুর কথা স্মরণ করে বলেন, মহাত্মা গান্ধী যেমন ভারতবাসীকে উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে অনুপ্রাণিত করে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন, তেমনি বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন সব রকম অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য; যা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় রূপ নেয়।
আওয়ামী লীগের সঙ্গে কংগ্রেসের সম্পর্ক দিনে দিনে নতুন মাত্রা পাবে।
বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে অনেক উচ্চতায় নিয়ে গেছে বলে বাংলাদেশের মানুষ ও সরকারকে কুর্নিশ করলেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (মার্কসবাদী) পলিটব্যুরোর সদস্য ও পশ্চিমবঙ্গের প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক বিমান বসু। তিনি বলেন, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার আন্দোলন ও ত্যাগকে সারাবিশ্বের মাতৃভাষার দিবস হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হয়েছে এখানকার সরকার।

‘ইউনিসেফ ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের মাতৃভাষার আন্দোলনকে বিশ্ব সম্মান জানিয়েছে। ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায়ই ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। বিমান বসু বলেন, শেখ হাসিনা ভারত সরকারের সাথে আলোচনা করে অনেক সমস্যা সমাধান করেছেন, আমার বিশ্বাস তিনি নদীর সমস্যাও মেটাতে পারবেন’।

আওয়ামী লীগের ২০তম সম্মেলনকে মহাসন্ধিক্ষণ বলে আখ্যা দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি।
তিনি বলেন, ‘কখনও ভাবিনি, এখানে, এভাবে বক্তৃতা দেয়ার সুযোগ পাব। এটা একটা মহাসন্ধিক্ষণ। কলিজিয়েট স্কুলে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনে আন্দোলিত হতাম, কেমন যেন রক্তটা আন্দোলিত হয়ে উঠত। ভাবতেও পারিনি, আজ তারই দল আওয়ামী লীগের সম্মেলনে কথা বলতে পারব। এটা আমাকে রোমাঞ্চিত করেছে। তিনি বলেন, বেড়াজাল দিয়ে আমাদের আলাদা করা হয়েছে। কিন্তু হৃদয় দিয়ে আমরা আলাদা হইনি। আমাদের সংস্কৃতি, চিন্তাচেতনা- সবই এক। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, লালন, জীবনান্দ দাশ, শামসুর রাহমান, সবই আমাদের এক। তারাই আমাদের অনুপ্রেরণা’।

আওয়ামী লীগ নামের অর্থ সম্পর্কে পার্থ চ্যাটার্জি বলেন, ‘আওয়াম উর্দু শব্দ। এর অর্থ জনগণ। আর লীগ অর্থ দল। আওয়ামী লীগ মানে জনগণের দল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দল। যে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে উচুঁ জায়গায় নিতে স্বপ্ন দেখেছেন’।
চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের ভাইস-মিনিস্টার ঝেং শিয়াওসং বলেন, ‘ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে এই সম্মেলনে যোগ দিতে পেরে আমি আনন্দিত। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে এবং স্থিতিশীলতা অব্যাহত আছে’। চীনা কমিউনিস্ট পার্টি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে ঘনিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘তার দল বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক গভীরে নিতে প্রস্তুত’।
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন শেখ হাসিনা। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের মানুষের আয় ও ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে। বাংলাদেশ অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে’।

রাশিয়ান ফেডারেশনের ইউনাইটেড রাশিয়ার উপ-সাধারণ সম্পাদক সের্গেই জেলেনিয়াক বলেন, ‘বাংলাদেশ এবং রাশিয়ার মধ্যে বন্ধুত্বের ভিত্তি স্থাপিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়। মুক্তিযুদ্ধের পর যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠনে রাশিয়া বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল’।
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে ইউনাইটেড রাশিয়া গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে। তাই আওয়ামী লীগ ও ইউনাইটেড রাশিয়ার সম্পর্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন চুক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, সন্ত্রাসমুক্ত স্থিতিশীল বিশ্ব গড়ে তুলতে দু’দেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে’।

আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে ১১টি রাষ্ট্রের ৫৯ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। বিদেশি অতিথির মধ্যে নির্বাচিত কয়েকজনই কেবল বক্তব্য প্রদানের সুযোগ পান। তাদের জন্য বরাদ্দ ছিল প্রায় দুই ঘণ্টা।
শনিবার সকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অভ্যর্থনা উপ-কমিটির সদস্য সচিব আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি তাদের নাম ঘোষণা করেন।

তিনি জানান, বিদেশি অতিথিদের মধ্যে রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইতালি, অস্ট্রিয়া, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা ছাড়াও ভারত থেকে ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) এবং বিরোধী দল কংগ্রেসসহ আঞ্চলিক ছয়টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা সম্মেলনে উপস্থিত রয়েছেন।
সম্মেলনে আরো বক্তব্য প্রদান করেন- শ্রীলঙ্কার ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাশিম, ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির সহ-সভাপতি বিনয় প্রভাকর, নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির ড. রাম শর্মা, অস্ট্রেলিয়ার লেবার পার্টির হিউ ম্যাকডার্মট, কানানিয়ান কনজারভেটিভ পার্টির নেতা দিপক ওবরেয়, যুক্তরাজ্যের জেনি রাথবোন, ভুটানের তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রী দিনা নাথ দাঙ্গিয়েল, ইতালির ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা ইওগো প্যাপি, ভারতের মিজোরাম রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জোরামথাংগা, রাজ্যসভার সদস্য মাজেদ মেমন প্রমুখ।

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: