সর্বশেষ আপডেট : ২৪ মিনিট ৩ সেকেন্ড আগে
বুধবার, ২৩ অগাস্ট, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৮ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ভারতের মেটিয়াবুরুজে জেএমবি প্রশিক্ষণ চলছেই!

55008754আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: বন্দর এলাকার সিন্ডিকেটের ম্যানেজাররা চাইছিল তাদের এলাকায় ঢোকানো হোক লস্কর জঙ্গিদের। সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘জুলফিকার’-এর চিত্রনাট্য অবশ্য সে পথে এগোয়নি। কিন্তু খাস কলকাতার বন্দর এলাকা মেটিয়াবুরুজে সেটাই হাতেকলমে করে দেখিয়েছে বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন জেএমবি। লস্কর জঙ্গি হয়তো আসেনি। তবে বহু লোকলস্কর জুটিয়ে ওই এলাকায় জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবির বসিয়ে দিয়েছিল তারা।

এ রাজ্যে তাদের জাল বিস্তার করতে করতে জেএমবির শিকড় কত দূর ছড়িয়েছিল এসটিএফের হাতে ধৃত ৬ জঙ্গিকে জেরা করে তার আরও প্রমাণ পেয়েছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। ধৃতদের জেরা করে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, খাস কলকাতার মেটিয়াবুরুজে তৈরি করা হয়েছিল আস্ত একটা মডিউল। জেএমবি নিয়ে তদন্তে নেমে নয়া এই তথ্য রীতিমতো চিন্তা বাড়িয়েছে তদন্তকারীদের। আর সেই সূত্র ধরেই এ বার এনআইয়ের তদন্তকারীদের আতসকাচে উঠে এসেছে জেএমবির মেটিয়াবুরুজ মডিউলের অন্যতম মাথা স্থানীয় এক ডিশ ব্যবসায়ী তথা এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষক। ইতিমধ্যে কামাল নামে ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিস পাঠিয়ে তলব করছে এনআইএ। তলব করা হয়েছে ওই এলাকার আরও কয়েকজন বাসিন্দাকে।

শনিবারই এনআইএ হেফাজতে থাকা ৬ জঙ্গিকে জেরার জন্য শহরে পৌঁছেছে বাংলাদেশ পুলিশের একটি দল। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রের খবর, মাত্র কয়েক বছর আগে বন্দরের মেটিয়াবুরুজ এলাকায় একটি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্তে উঠে এসেছিল ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের নাম। তখনই জানা গিয়েছিল ওই এলাকার বেশ কিছু যুবক ওই জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। আবার গত বছর বন্দর এলাকার মেটিয়াবুরুজ থেকেই ধরা পড়ে আইএসআইয়ের মোট ৯ জন সদস্য। ফলে বন্দর এলাকার কিছু কিছু জায়গা যে জঙ্গিদের আস্তানা হিসেবে গড়ে উঠেছে এই তথ্য জানার পর তা আরও একবার স্পষ্ট হয়েছে গোয়েন্দাদের কাছে।

এনআইএ সূত্রের খবর, গত মার্চ মাসে মেটিয়াবুরুজ লাগোয়া রবীন্দ্রনগর এলাকা থেকে জঙ্গি সন্দেহে ধরা পড়ে এনামুল মোল্লা। তার সঙ্গেই উত্তর ২৪ পরগনার থেকে গ্রেপ্তার করা হয় হাবিবুল নামে আরও একজনকে। মেটিয়াবুরুজ সংলগ্ন ওই এলাকায় ইউসুফ, কৌসর, কালামদের মতো জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার করার অভিযোগ ছিল ওই দু’জনের বিরুদ্ধে। কিন্তু মেটিয়াবুরুজে যে গোটা একটা মডিউল তৈরি করা হয়েছিল এবং এলামুলরা গ্রেপ্তারের পরও যে সেখানে গোপন কার্যকলাপ চলত সেই তথ্য সামনে এসেছে ইউসুফ, ফারুকদের জেরা করার পরই। তদন্তকারীদের জেরায় উঠে এসেছে, এনামুল গ্রেপ্তার হওয়ার আগে পর্যন্ত মেটিয়াবুরুজ মডিউল যৌথ ভাবে চালাত কামাল। কিন্তু এনামুল ধরা পড়ে যাওয়ার পর মূল দায়িত্ব বর্তায় কামালের উপর। গোয়েন্দাদের দাবি, এনামুল ধরা পড়ার পরও কামালের কাছে এসেছিল ইউসুফ।

কে এই কামাল? মেটিয়াবুরুজের বাসিন্দা বছর তিরিশের ওই যুবক। আগে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াত। কিন্তু বর্তমানে ডিশ টিভির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ডিশ টিভির মাধ্যমে পাকিস্তানি চ্যানেল দেখানোর ব্যবস্থা করতো কামাল। ইউসুফের হাত ধরে জেএমবির সঙ্গে ওই সন্দেভাজন যুবকের ঘনিষ্ঠতা বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। ব্যবসার নামে নিয়মিত ভিন্ রাজ্যে যাতায়াত রয়েছে তার।

তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, খাগড়াগড়-কা-ের পর কিছুদিন চুপচাপ থাকলেও উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়ায় গোপনে ফের কাজ শুরু করে জেএমবি। সেই সময় থেকে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে মেটিয়াবুরুজ মডিউল। এনামুলের বাড়ির পাশের একটি মাঠে শারীরিক কসরত-সহ জেহাদি বই পড়ানো, ভিডিও দেখানোর কাজ চলত। মূলত রাতের বেলায় বসত সেই প্রশিক্ষণ শিবির। যে প্রশিক্ষণ শিবিরে প্রশিক্ষণ দিতে আসত ইউসুফ, ফারুক, জাহিদুল এবং হাবিবুলরা। ওই জঙ্গিদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা, সংগঠনের জন্য টাকার জোগাড়ের ক্ষেত্রেও ওই যুবকের ভূমিকা ছিল বলে গোয়েন্দা সূত্রের খবর। ওই যুবকের হাত ধরে জঙ্গিদের কাছে জেহাদি বই সরবরাহ হত বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীরা আরও জানতে পেরেছে, হুগলির কোনও গোপন ডেরায় ছাপা হয় ওই সব পুস্তিকা। সেখান থেকে বইগুলি সংগ্রহ করত বন্দরের ওই যুবক। অসম থেকে বেশ কয়েকবার মেটিয়াবুরুজে এসে কামালের কাছ থেকে বই নিয়ে গিয়েছিল অসমে জেএমবির মাথা হিসাবে পরিচিত জাহিদুল ওরফে সূর্য। যাকে কিছুদিন আগেই বাকি পাঁচ জঙ্গির সঙ্গে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশের এসটিএফ।
কিন্তু এত কিছু জানার পরও কেন সরসরি ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না? এক্ষেত্রে তদন্তকারীদের যুক্তি, খাগড়াগড়-কা-ে অভিযুক্তদের তালিকায় নাম নেই সন্দেহভাজন ওই যুবকের। ঘটনায় ধৃতদের জেরা করেও তার ভূমিকার কথা জানা যায়নি। সে কারণেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে। ঠিক যে কারণে এসটিএফের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার হওয়া সত্ত্বেও প্রথমেই আনোয়ার হোসেন ফারুককে হেফাজতে নিতে পারেনি এনআইএ। ঠাট্টার সুরে এক গোয়েন্দা কর্তার মন্তব্য, ‘গোটা রাজ্য জুড়ে এমন অনেকেই নিজেদের ছাতার তলায় এনেছে জেএমবি। সবাইকে গ্রেপ্তার করতে গেলে তো রাজ্যে জেএমবির জন্য আলাদা একটা জেল তৈরি করতে হবে।-আমাদের সময়.কম

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: