সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ৬ সেকেন্ড আগে
সোমবার, ২১ অগাস্ট, ২০১৭, খ্রীষ্টাব্দ | ৬ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে যে কারণে অংশ নেয়নি বিএনপি

nnnনিউজ ডেস্ক:
আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে অংশগ্রহণের ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব ছিল বিএনপি’র। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল তেমন ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন। দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে স্থায়ী কমিটির একজন সদস্যের নেতৃত্বে প্রতিনিধি পাঠানোর প্রস্তুতিও নিয়েছিল বিএনপি। অংশগ্রহণের ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব ছিল শুক্রবার রাত ১০টা পর্যন্ত। খোদ বিএনপি মহাসচিব একজন সিনিয়র সাংবাদিককে টেলিফোন আলাপে বলেছিলেন, তারা ইতিবাচক; রাতে চেয়ারপারসনের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। বিএনপি নেতাদের ইতিবাচক মনোভাব দেখে কে কে যাচ্ছেন সে প্রতিনিধি দলে সে কৌতূহলও তৈরি হয়েছিল রাজনৈতিক মহলে।

কিন্তু রাত ১০টার পর পাল্টে যায় সিদ্ধান্ত। শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে অংশগ্রহণ করেনি বিএনপি। দলটির তরফে দাওয়াত রক্ষা না করার কারণ নিয়ে মুখ খোলেননি কোনো নেতা। তবে দলের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানান, দেশে বিরাজমান রাজনৈতিক অস্থিরতা উত্তরণ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে সিনিয়র নেতাদের অনেকেই আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে অংশগ্রহণের পক্ষে মত দিয়েছিলেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে দলের মহাসচিব মির্জা আলমগীর ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের তরফে সে ইঙ্গিতের ইতিবাচক সাড়া প্রত্যাশা করেছিলেন বিএনপি’র শীর্ষ নেতৃত্ব। কিন্তু আওয়ামী লীগের তরফে তেমন কোনো সাড়া মেলেনি।

এছাড়া তৃণমূল নেতাকর্মীদের আবেগ-অনুভূতি ও জোটের শরিক দলগুলোর মনোভাব বিবেচনায় নিয়ে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে বিএনপি। বিএনপি কয়েকজন সিনিয়র নেতা জানান, আওয়ামী লীগ যেমন একটি জোটের শীর্ষ দল একইভাবে বিএনপিও দেশের সব রাজনৈতিক জোটের শীর্ষ দল। বিগত বছরগুলোতে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও শরিক দলগুলো বিএনপিকে ছেড়ে যায়নি। বিগত নির্বাচনে এমপি-মন্ত্রীর টোপ পেয়েও তারা বিএনপি’র সঙ্গে বেঈমানি করেনি। আওয়ামী লীগ লোক দেখানোর রাজনীতির অংশ হিসেবে বিএনপি’র শীর্ষ দুই নেতাকে দাওয়াত দিয়েছেন। কিন্তু জোটের কোনো শরিক দলকে দাওয়াত দেয়নি। বিএনপি’র শরিক দলগুলোর কয়েকটির শীর্ষ নেতা খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। আওয়ামী লীগ নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি দাবি করে কিন্তু খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার নেতৃত্বাধীন দলগুলোকেও তারা দাওয়াত করেনি। এমন অবস্থায় বিএনপি দাওয়াত রক্ষা করে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে গেলে শরিকদলগুলোর নেতাকর্মীরা মনে কষ্ট পেতে পারেন। এছাড়া বড় দুই জোটের বাইরে থাকা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দলের শীর্ষ নেতারাও আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে অংশ নেননি। বিএনপি’র তরফে তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হলে তারাও নেতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন। বিএনপি নেতারা জানান, ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন দেশ-বিদেশের কোথাও গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। বিদেশিরা জানে বাংলাদেশের রাজনীতিতে অস্থিরতা বিরাজমান। আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে অংশ নিয়েছেন বিদেশের বেশকিছু রাজনীতিক। বিএনপি কাউন্সিলে অংশ নিলে আওয়ামী লীগ বিদেশিদের বুঝাতেন বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহাবস্থান ও স্থিরতা রয়েছে।

এছাড়া কাউন্সিলে অংশগ্রহণ করলে বর্তমান সরকারকেও পরোক্ষভাবে বৈধতা দেয়া হতো। বিএনপি তাদের সে সুযোগ দিতে চায়নি। বিএনপি’র একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানান, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতার আসার পর বিএনপি’র কয়েকশ’ নেতাকর্মী গুমের শিকার হয়েছে। হাজারো নেতাকর্মী নিহত হয়েছে। আহত ও পঙ্গু হয়েছে অসংখ্য। দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী হয় কারাবন্দী, নয় গ্রেপ্তার আতঙ্কে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপি কাউন্সিলে অংশ নিলে তারা মনে কষ্ট পেতে পারেন। নেতারা বলেন, অতীতে বিএনপি’র কাউন্সিলে আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়া হলেও বিএনপিকে সে সুযোগ দেয়া হয়নি। এখন বিএনপি প্রতিনিধি দল যদি কাউন্সিলে যায় তাদের কথা বলার সুযোগ দেয়ার সম্ভাবনা ছিল শূণ্যের কোটায়। তাহলে সেখানে গিয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে, বিএনপি’র নেতাদের বিরুদ্ধে অপমান ও তাচ্ছিল্য এবং মিথ্যাচারমূলক বক্তব্য শোনার কোনো মানে হয় না। আবার বিএনপি নেতাদের বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়া হলেও সেখানে রাজনৈতিক শিষ্টতা রক্ষায় আওয়ামী লীগের সমালোচনা করার সুযোগ কম। বিএনপি নেতারা নিশ্চয়ই বলার সুযোগ পাবেন না দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ইলিয়াস আলীসহ গুম নেতাকর্মীরা কই। কিন্তু সেটা না হলে দলের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল লাখ লাখ নেতাকর্মী প্রশ্ন তুলতে পারে। তারা বলতে পারেন, আমাদের স্বজনের রক্তের ওপর দিয়ে, হামলা-মামলা ও নির্যাতনের ওপর দিয়ে আপনারা কাউন্সিলের দাওয়াতে গেছেন। বিএনপি নেতারা বলেন, আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে গেলেই দেশে গণতন্ত্র ফিরবে না। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের তরফে তেমন কোনো ইঙ্গিতও নেই। তাহলে দলের নেতাকর্মীদের মনোবেদনার কারণ তৈরির কোনো মানে নেই।

এ ব্যাপারে বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, বিবদমান রাজনীতির মধ্যেও দুই শীর্ষদল পরস্পরকে তাদের কাউন্সিলে দাওয়াত দেয়। অতীতে পরস্পরের কাউন্সিলে অংশগ্রহণের নজিরও আছে। কিন্তু বিগত কয়েকবছরে আওয়ামী লীগ সরকার দেশের রাজনীতিকে চরম অসহিষ্ণু করে ফেলেছে। আমাদের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে দাওয়াত দেয়ার পরও তারা আসেনি। এমনকি সে কাউন্সিল বাধাগ্রস্ত করতে নানা প্রতিকূলতা তৈরি করেছে। নেতিবাচক রাজনীতিক সংস্কৃতির চর্চা করেছে আওয়ামী লীগ। তিনি বলেন, তারা আমাদের কাউন্সিলের দাওয়াত রিজেক্ট করলেও আমরা তা করিনি। কিন্তু সামপ্রতিক সময়ে আমরা গণতান্ত্রিক রাজনীতি চর্চার ন্যূনতম সুযোগ পাচ্ছি না। আমাদের দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের, গ্রেপ্তার, হামলা করছে। তারা প্রতিনিয়ত আমাদের সঙ্গে এমন আচরণ করছে যা আমাদের পক্ষে কাউন্সিলে যাওয়ার অনুকূল নয়। আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যের ভাষা এতটাই অসহিষ্ণু যে, সেখানে গণতন্ত্র বা গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রতি কোনো শ্রদ্ধাবোধ অবশিষ্ট থাকে না। মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, আওয়ামী লীগ দাওয়াত দেয়ার পর আমাদের দুইজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা স্বাগত জানিয়ে ইতিবাচক বক্তব্য দিয়েছেন। কাউন্সিলের সাফল্য কামনা করেছেন। জবাবে আওয়ামী লীগের কোনো নেতা একবারও বলেননি, তারা আশা করছেন বিএনপি তাদের কাউন্সিলে অংশ নেবেন। এখন দাওয়াত দিয়ে বাড়ির সামনে কাঁটা দিয়ে রাখলে আমন্ত্রিতরা কিভাবে দাওয়াত রক্ষা করতে যাবেন? তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ স্টান্ডবাজির রাজনীতি করে। বিএনপি স্টান্ডবাজির রাজনীতিতে অভ্যস্ত নয়। মানবজমিন

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭, ০১৭১৭ ৬৮ ১২ ১৪ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: