সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ৫৪ সেকেন্ড আগে
মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

কার ভাগ্যে ম্যান বুকার?

8c5a8565d627ec4fbedfa6818339fe81-580903eb3daa6-550x122আন্তর্জাতিক ডেস্ক: অক্টোবর ২০১৫ থেকে সেপ্টেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে প্রকাশিত মোট ১৫৫টি উপন্যাসের মধ্য থেকে প্রথমে ১৩টি বই স্থান পায় দীর্ঘ তালিকায়। পরে সেখান থেকে শর্টলিস্টে আসে ছয়টি। এই তালিকা প্রকাশের পর পরই লেখক-পাঠকদের মনে পূর্বানুমানের নিক্তি দুলে ওঠে। বই উল্টে-পাল্টে দেখার আগ্রহ জাগে- এবার কে পেতে পারেন ম্যান বুকার পুরস্কার?

শর্টলিস্টে আসা বইগুলো হলো- পল বেটির “দ্যা সেলআউট”, দেবরাহ লেভির “হট মিল্ক”, গ্রেইম ম্যাক্রের “হিজ ব্লাডি প্রজেক্ট”, ওত্তেশা মশফেগের “এইলিন”, ডেভিড সালেইর “অল দ্যাট ম্যান ইজ” এবং ম্যাডেলিন থিন এর “ডু নট সে উই হ্যাভ নাথিং”।

মজার ব্যাপার হলো, এই লিস্টের মধ্যদিয়ে এবার জেন্ডার সমতাও রক্ষা পেলো। এটা কাকতালীয় হলেও পাঠকদের বেশ কৌতুহলী করেছে। এদের মধ্যে রয়েছেন দুজন ব্রিটিশ, দুজন আমেরিকান, দুজন ক্যানাডিয়ান ঔপন্যাসিক। এই লেখকদের মধ্যে আছে জাতিগত বৈচিত্র্যও। কেউ ক্রোয়েশিয়ো, কেউ ইরানী, কেউ সাউথ আফ্রিকান আবার কেউ চায়নার বংশোদ্ভূত। লেখালেখির অভিজ্ঞতারও দারুণ সংমিশ্রণ দেখা যায় এই লেখকদের মধ্যে- পয়ত্রিশ বছরের তরুণও আছেন, আছেন সাতান্নর বয়োজ্যেষ্ঠও। তিনটি উপন্যাস ঐতিহাসিক পটভূমির আর তিনটির গল্প সাম্প্রতিক কালের। দুটি উপন্যাসের মূল চরিত্র নারী, তিনটির পুরুষ, আরেকটির কেন্দ্র একটা গোটা পরিবার। গল্পের স্থানেও আছে ভিন্নতা- স্পেন, নিউ ইংল্যান্ড, স্কটিশ দ্বীপ, চায়না, বর্তমান ইউরোপ ও লস আঞ্জেলেস।

পল বেটি: ইতোমধ্যেই আমেরিকান কৃষ্ণাঙ্গ সাহিত্যিক পল বেটির চতুর্থ উপন্যাস “দ্যা সেলআউট” জিতে নিয়েছে ২০১৫ সালের ন্যাশনাল বুক ক্রিটিক্স সার্কেল অ্যাওয়ার্ড এবং স্থান পেয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস আর ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের জরিপে ২০১৫-এর সেরা বইয়ের তালিকায়। চরম ব্যাঙ্গাত্মক এই উপন্যাসটির মূলচরিত্র এক নিঃসঙ্গ কৃষ্ণাঙ্গ তরুণের মানসিক আর সামাজিক জটিলতা তুলে ধরেছে তথাকথিত পোস্ট-রেসিয়াল আমেরিকান সমাজ যা অতীতের বর্ণবাদ বিরোধ, পৃথকীকরণ আর দাসত্ব প্রথা সমূলে উৎপাটন করার দাবি করে।

দেবরাহ লেভি: ব্রিটিশ লেখক দেবরাহ লেভির “হট মিল্ক” উপন্যাসটি দুটি নারীর গল্প- প্যারালাইজড মা আর তার মেয়ে। একদিকে সমুদ্র আরেক দিকে মরুভূমির মাঝের ছোট্ট একটি স্প্যানিশ গ্রামে “হট মিল্ক”- যেন তীব্র বাসনা, আদিম প্রবৃত্তি, নারীর মাতৃত্ব, মনোজগৎ ও যৌনতার পরাবাস্তব গোলকধাঁধা। এই উপন্যাসটি একই সাথে স্থান পেয়েছে ‘দ্যা গোল্ডস্মিথ প্রাইজ ২০১৬’-এর সংক্ষিপ্ত তালিকায়। এর আগেও ২০১২ সালে দেবরাহ লেভির আরেকটি উপন্যাস মনোনীত হয়েছিল ম্যান বুকারের তালিকায়।

গ্রেইম ম্যাক্রে: ১৮৬৯ সালের এক নৃশংস ট্রিপল-মার্ডার কেস খুব আলোড়ন তোলে ব্রিটিশ গণমাধ্যমে। প্রশ্ন একটাই! কিভাবে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের পক্ষে এমন ঘটনা ঘটানো সম্ভব? তরুণ খুনির নিজের স্মৃতিকথাই ব্রিটিশ লেখক গ্রেইম ম্যাক্রের “হিজ ব্লাডি প্রজেক্ট”। সাইকোলজিক্যাল ক্রাইম থ্রিলার রচনায় বেশ জনপ্রিয় ম্যাক্রে।

ওত্তেশা মশফেগ: ছোট শহরে একদিকে নেশাখোর বাবার দেখাশোনা অন্যদিকে ছেলেদের কারাগারে চাকরি এই দুয়ের মধ্যে যেন নিষ্পেষিত এইলিনের জীবন, সব ছেড়ে পালাতে চায় সে। আমেরিকান ওত্তেশা মশফেগ-এর “এইলিন” ম্যান বুকারের পাশাপাশি আরও দুটি পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছে।
ডেভিড সালেই: নয়জন পুরুষ, জীবনের নয়টি ধাপে, জীবনের অর্থ খুঁজে হয়রান। নয়টি গল্প নিয়ে রচিত “অল দ্যাট ম্যান ইজ”-এর লেখক গ্রান্টা ঘোষিত ২০১৩-এর “বেস্ট ইয়াং ব্রিটিশ নভেলিস্ট” ডেভিড সালেই। উপন্যাসটি ইতোমধ্যেই “২০১৬ প্যারিস রিভিউ প্লিমটন পুরস্কার” জিতে নিয়েছে।
ম্যাডেলিন থিন: কানাডা প্রবাসী চাইনিজ লেখিকা ম্যাডেলিন থিন-এর “ডু নট সে উই হ্যাভ নাথিং” চায়নার এক যৌথ পরিবারের দুই প্রজন্মকে তুলে ধরেছে- প্রথম প্রজন্ম দেখেছে মাও-এর সাংস্কৃতিক আন্দোলন আর পরের প্রজন্ম সরাসরি অংশ নেয় ১৯৮৯-এর তিয়েনআনমেন স্কয়ার বিক্ষোভে। আছে তিনজন শিল্পীর গল্প যাদের কাছে জীবন মানে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, সেই বিক্ষোভের দিনগুলোতে সব হারিয়েও শুধু সঙ্গীতকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছে তারা। তাদের বৈপ্লবিক চেতনা হলো সঙ্গীত। ম্যান বুকারের পাশাপাশি কানাডার জাতীয় “গভার্নর জেনারেল’স সাহিত্য পুরস্কার”-এর শর্ট লিস্টেও আছে বইটি।
এবার কথা হলো কোন উপন্যাসটি হতে চলেছে চূড়ান্ত বিজয়ী। ম্যান বুকারের আগের নির্বাচনগুলো লক্ষ্য করলে দেখা যায়, ২০১৫-তে নির্বাচিত মার্লন জেমস-এর “অ্যা ব্রিফ হিস্ট্রি অভ সেভেন কিলিংস” মূলত তুলে ধরে সত্তর-আশির দশকের জ্যামাইকার রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, ২০১৪-এর রিচার্ড ফ্ল্যানাগান-এর “দ্যা ন্যারো রোড টু দ্যা ডিপ নর্থ”-এর বিষয়বস্তু ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানিজ যুদ্ধবন্দি ক্যাম্পগুলোর নৃশংসতা। ব্যক্তিচরিত্রের চেয়ে যুদ্ধ, রাজনৈতিক সংঘর্ষ, ধ্বংস, বিবাদ- এসব কিভাবে প্রভাবিত করে একটা সমাজ আর মানবতাকে। এসব প্রতিফলিত হয় যে সাহিত্যে সেগুলোই বেশি গুরুত্ব পেয়ে এসেছে ম্যানবুকার নির্বাচকদের কাছে। সেদিক থেকে দেখলে বেটির “দ্যা সেলআউট” আর ম্যাডেলীন-এর “ডু নট সে উই হ্যাভ নাথিং” এর সম্ভাবনা প্রচুর। আর এই দুটির মধ্যে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকার সম্ভাবনা “ডু নট সে উই হ্যাভ নাথিং” এর যেখানে ম্যাডেলিন তুলনামুলকভাবে উপস্থাপন করেছেন সামাজিক অশান্তির সবচেয়ে বড় কারণ যুদ্ধ আর শান্তির বাহক সঙ্গীতকে।

সামাজিক মাধ্যমগুলোতে বইপ্রেমিদের আলোচনা দেখেও এমনটাই মনে হয়। ম্যানবুকারের ফেসবুক পেজে শর্টলিস্ট প্রকাশের সাথে সাথেই শ’খানেক মন্তব্য জমা পড়ে যায় “ডু নট সে উই হ্যাভ নাথিং” -এর পক্ষে। আর দুদিন আগেতো এক প্রথম সারির ব্রিটিশ ম্যাগাজিন সরাসরি বলেই দিল যে, “ডু নট সে উই হ্যাভ নাথিং” শুড উইন দ্যা ম্যান বুকার!
এজন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে ২৫ তারিখ পর্যন্ত। দেখা যাক কার ভাগ্যে ছেঁড়ে এই সম্মানজনক শিকা!

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: