সর্বশেষ আপডেট : ৪ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড আগে
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

জারিগানে মুখরিত বিশ্বনাথের গ্রামাঞ্চল

jarigaan-daily-sylhet-0-7-copyবিশ্বনাথ প্রতিনিধি:
প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার গ্রামাঞ্চল এখন জারিগানে মুখরিত। বাংলাদেশের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ বিলুপ্তপ্রায় এই জারিগানকে নতুন করে জাগিয়ে তুলছেন উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের সাধারণ মানুষজন। মহরম মাসের শুরু থেকে মাসের শেষ দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকে এ গান। উৎসব ঘিরে যুবসমাজ আনন্দ নিয়ে পালন করে জারিগান। পূর্ব পুরুষের ঐতিহ্য ধরে রাখতে যুগ যুগ ধরে পালিত হয়ে আসছে জারিগান। মরহম মাসের শেষের দিকে জমে উঠেছে ওই গান। রাতে তারা বিভিন্ন গ্রামে, বিভিন্ন বাড়িতে জারি গানের আসর বসাচ্ছেন। কারবালার বিয়োগাত্মক ঘটনাকে স্মরণ করে সেই ঘটনার ধারাবাহিক বিবরণ সম্বলিত গান গেয়ে আসর মাতিয়ে রাখছেন গায়করা। গানের ফাকে ফাকে চলে চা পান, মাঝে মধ্যে পূতি পাঠ এবং সকালে যথারীতি শিরনী বিতরণ।

বাড়ির উঠানের চারদিকে মাদুর পেতে গোল হয়ে বসেছেন দর্শক-শ্রোতা। গান ধরলেন একনজন যুবক। প্রথমে একক কণ্ঠে বললেন “প্রথমে সালাম করি আল্লাহ.. নবীজী/ সালাম মা ফাতিমার নামো ধরি/ সালাম জানাই আমরা আল্লাহ..জির চরণ।”
“ইমাম হুছন কোলে লইয়া কান্দইন ফাতিমায়/ কে তারে মারিল বাচা ধস্তে করবলায়/ মাত্তম হায় আল্লাহ.. হায়…। হায় হায় আছকরের লাশ লইয়া হুছন/ মুসলিমও আক্কলের বেটা বড় ফয়লওয়ান…. রনেরও ময়দানে গেলা আজরাউল সমান।

এরকম হাজারো কথা নিয়ে কোনো ধরণের বাদ্য বাজানো ছাড়াই সুরের মুর্চনায় আসর মাতোয়ারা করে রাখছেন জারির গায়ক দল। বেশির ভাগ গানের কথা সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় রচিত। গায়করাও সেই ভাষাতেই গান গেয়ে থাকেন। উপজেলার ভোগশাইল গ্রামের আজাদ মিয়ার বাড়িতে বুধবার রাত ১১ টায় শুরু হওয়া জারির আসর চলে ভোর পর্যন্ত। যুগ যুগ ধরে চলে আসা প্রাচীন এ প্রথাটি ধরে রেখেছেন এলাকার মানুষ।

উপজেলার বিশ্বনাথের গাঁও গ্রামের আবদুল সালাম মুন্না বলেন, মহরম মাসের প্রথম থেকে জারি শুরু হয় এবং চলে মাস শেষ হওয়া পর্যন্ত। প্রতি রাতেই কোনো না কোনো গ্রামে বা বাড়িতে জারির আসর বসছে। দূর দূরান্ত থেকেও অনেকে জারি শুনতে আসেন। কারণ বিশ্বনাথ ছাড়া অন্যে কোন স্থানে জারির প্রচলন তেমন নেই।

ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম বলেন, কালের পরিবর্তনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় জারি গান হারিয়ে গেছে। কিন্তু বিশ্বনাথের বিভিন্ন গ্রামে এখনও শুনা যায় জারি গানের আওয়াজ। জারির আসরের জন্য আগে থেকে কোন প্রচার চালানো হয়না। কোন ধরণের মাইকিং, পোস্টারিংয়ের ব্যবস্থা নেই। একজন থেকে আরেকজন শুনে আসরে এসে উপস্থিত হন দর্শকরা। শীতকে উপেক্ষা করেও বৃদ্ধ যুবক বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষকে জারি গানের আসরে দেখা যায়।
যুক্তরাজ্য প্রবাসী আমির আলী বলেন, ছোট বেলায় জারি গান শুনেছি। প্রবাসে থাকাকালে জারির কথা মনে পড়ত। এবার অনেক দিন পর এসে জারি শুনলাম মনে হল সেই পরনো দিনে ফিরে গেছি।

জারি গানের বয়াতি আনোয়ার আলী বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে জারী গান করে আসছি। পুরনো প্রথা চালু রাখতে প্রতি রাত জারি গানের আসর বসে আমাদের এলাকায়। আমাদের আশপাশ গ্রাম ছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে জারি গান করে থাকি।

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৬

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি : মকিস মনসুর আহমদ, প্রধান সম্পাদক : লিয়াকত শাহ ফরিদী
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে এ রহিম, নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
কার্যালয়: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট-৩১০০
ফোন : ০৮২১-৭২৬ ৫২৭ (নিউজ), ০১৭১২ ৮৮ ৬৫ ০৩ (সম্পাদক)
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: